লোক ঐতিহ্য - পৃষ্ঠা নং-১৮

জারীনাচ : রাজবাড়ি অঞ্চলে জারিগান বিশেষভাবে প্রচলিত। এছাড়া গ্রামে বিশেষ আকর্ষণ এই জারিগান। জারিগানের সাথে দলনেতাসহ সকলেই নেচে নেচে গান করে। গানের সাথে নাচের বৈশিষ্টতা লক্ষ্য করা যায়।

সারিনাচ : সারিনাচ নৌকা বাইচের নাচ। নৌকা বাইচের সময় বাইচেরা নাচ করে।

ছোকরানাচ : রাজবাড়ি অষ্টক গানের প্রচলন আছে। এই অষ্টক গান সাধারণত ছেলে ছোকরাদের দ্বারা গাওয়া হয়। এই ছেলেরা গানের সাথে নাচ করে।

কীর্তননাচ : রাজবাড়ি একসময় হিন্দু প্রধান ছিল। পূজা পার্বন ছাড়াও অন্যসময় কীর্তনের সাথে এ নাচ করে। রাজবাড়ি এবং অঞ্চল বিশেষে। সোনাপুর সমাধিনগর এলাকায় এ নাচের প্রচলন রয়েছে।

বৃষ্টি নামানোর নাচ : বৃষ্টি নামানোর জন্য এলাকায় মেয়েরা দল বেঁধে ‘দেওয়ারে তুই অঝোরে অঝোরে নামো, বেহানে বেহানে নাম’  এ গানের সাথে নাচ করে।

লাঠিনাচ : রাজবাড়িতে লাঠি খেলা একটি প্রাচীন ঐতিহ্যবাহী খেলা। এখনো এলাকায় মেলা, পার্বনকে ঘিরে লাঠিখেলা অনুষ্ঠিত হয়। এটি একটি ছন্দের খেলা। খেলার সাথে নাচের দৃশ্য ফুটে ওঠে।

ঘেটুনাচ : ঘেটু নাচ গ্রামীণ লোকজকথা ও সুরে অতি সাধারণ নাচ। এ রকম গানের তালে নাচ করে-----

ও মোর সুন্দরী

ক্যান করেছ মন ভারি

আমি এনে দেব আলতা সাবান

আর করো না মান ভারি

সুন্দরী ক্যান করেছ মন ভারি

মহরমের নাচ : মহরমের সময় রাজবাড়ি শহরের এবং চর অঞ্চলের কিছু মানুষ মহরমের খেলা ও নাচে মেতে ওঠে। তারা তাজিয়া তৈরি করে, দরগা বানায়, মাতম করে, লাঠি খেলে এবং নাচ করে।

বিশেষ বিশেষ অঞ্চলে মার্সিয়া গান হয়। যেমান-------

আজ পানি পানি কইরা রে হোসেন

বেড়ায় কহর দইরার পাড়ে

হায় হায় তোমারে যে দিতেরে পানি

আমার আল্লাজি কইরাছে মানা।

নামটি আমার কহররে দইরা

তাতে অগাধ মেলে পানি

হায় হায় তোমারে যে দিতেরে পানি

আমার আল্লাজি কইরাছে মানা......

Additional information