লোক ঐতিহ্য - পৃষ্ঠা নং-৩

নোশিনের স্মৃতি বহনকারী ও প্রতিষ্ঠান অসহায় মানুষের চিকিৎসা সেবায় নিবেদিত ভূমিকা রাখবে। মানুষ মানুষের প্রতি শ্রেষ্ঠতম বন্ধন অটুট রাখবে। কাল কালান্তরে স্মৃতির আবরণে থাকবে নোশিন। সংস্থাটির সভাপতি প্রফেসর মোঃ কেরামত আলী, সাধারণ সম্পাদক রফিকুজ্জামান সেলিম।

কেএস আলম ফাউন্ডেশন

কাজী শামসুল আলম ডা. কেএস আলম নামে সমধিক খ্যাত। খ্যাতিমান এক শৈল চিকিৎসক তৎকালীন সময়ে দেশের চিকিৎসা জগতে এক কিংবদন্তি নাম। আজকের দিনে দেশে চিকিৎসা সেবার প্রভূত উন্নতি হলেও সে সময় বিশেষ করে বিগত পঞ্চাশ ও ষাটের দশকে শৈল চিকিৎসক ছিলেন খুবই কম। এ সময় উচ্চ ডিগ্রিধারী কেএস আলম রাজবাড়ি ও ঢাকা মেডিকেল কলেজের অত্যন্ত নামি দামি চিকিৎসক। সাধারণ মানুষের চিকিৎসা সেবায় ছিলেন নিবেদিত। অত্যন্ত দক্ষতার সাথে তিনি সেবা প্রদান করেন। রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ইলা মিত্র আহত হলে তাঁর চিকিৎসার ভার পড়ে ডা. কেএস আলমের উপর। তিনি ছিলেন কর্তব্যনিষ্ঠ, ব্যক্তিত্ববান ও রসিক। তাঁর অনেক গুণগ্রাহী ছাত্র কেএস আলমের প্রশংসা করে থাকে। তিনি রাজবাড়ি কাজিকান্দায় বিখ্যাত কাজী পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। কলিকাতা; পিজি হাসপাতাল, বরিশাল এ্যাসিটেন্ট সার্জন, ঢাকা মিটফোর্ড, ঢাকা মেডিকেল ও সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে কর্মরত থাকেন। এফআরসিএস এডেনবরা ১৯৪৪। তার আর এক ভাই ব্যারিস্টার শেলী খ্যাতনামা ব্যক্তিত্ব। তিনি ১৯৭৮ সালে পরলোকগমন করেন।

কেএস আলমের কন্যা ড. সুলতানা আলম আমেরিকার ল্যাকসাস বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি ডিগ্রি লাভ করে শিক্ষকতা শুরু করেন। অতঃপর জাতিসংঘের কনসালট্যান্ট (as a gender consultant)  হিসেবে কর্মরত হন। তিনি অবসর গ্রহণ করে পিতৃভূমি রাজবাড়ির পরিবেশ উন্নয়ন, সমাজ এবং সাংস্কৃতিক উন্নয়নের লক্ষ্যে কেএস আলম ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠা করেছেন। তিনি ‘একটি বাড়ি একটি খামার’  আদর্শে সজ্জনকান্দায় একটি মনোমুগ্ধকর বাগানবাড়ি ও গো খামার গড়ে তুলেছেন। তাঁর উদ্যোগে রাজবাড়িতে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নানা জাতের বৃক্ষ রোপন করেছেন। মাঝে মাঝে তারকা শিল্পীদের দ্বারা নানা ধরণের বিনোদনমূলক অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন। ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে তিনি রাজবাড়ির নানাবিধ উন্নয়ন কর্মকান্ড সম্পাদন করে চলেছেন।

রাজবাড়ি জেলার লোকঐতিহ্য

১। লোককাহিনী, লোকচার, কিংবদন্তি।

২। ছড়া, প্রবাদ, ধাঁধা, হেয়ালী, পাঁচালী, পুঁথি, গাথা।

৩। যাদু, মন্ত্র, তাবিজ, কবজ, ঝাড়ফুঁক।

৪। উৎসব অনুষ্ঠান : গ্রাম্য মেলা, সার্কাস, সাপের খেলা, নাগরদোলা, লাঠিখেলা, নৌকাবাইচ, রথের খেলা, লৌকিক খেলাধুলা, ঈদ, পূজা পার্বণ, বিবাহ, খাৎনা, মহরম।

৫। লোকনৃত্য, লোকনাট্য, লোকজচারু ও কারু শিল্প।

সংস্কৃতি ব্যক্তি ও সমাজের পরিচিতি দান করে। দৈশিক মানুষ একই সংস্কৃতির মধ্যে বসবাস করে না তবে বিভিন্ন জাতির সংস্কৃতি ভিন্ন হলেও মানবসংস্কৃতির আদিম প্রবাহের সাথে অনেক মিলও রয়েছে। শোক, দুঃখ, হাসি, উচ্চাস প্রকাশের ধারা প্রতিটি মানুষের মধ্যে প্রায় একই রকম।

Additional information