লোক ঐতিহ্য - পৃষ্ঠা নং-২২

ও পাংসীরে সদাগর----

আমি মা’জানের কান্না শুনি।

আমার মা’জান কাঁদে

ও কাঁদেরে সদাগর-----

যেমন গাঙের তুফোন ওঠে

আমার বাবাজান কাঁদে

যেমন বিরিক্ষিত পাতা ঝরে

(৩)

পাঁচ কাপড়া পড়িয়া নীলে ঘোড়ায় চড়িয়া

যায়রে ছাওয়াল রহিমগঞ্জের হাটে

সেইখঅনেতে আছে এক ভাবের মালিনীরে

থাপা দিয়ে ধরে ঘোড়ার বাগর

ছাইড়ে দেও মোর কালিনী : ছাইড়া দেও মোদ মালিনী

আমার চলন ঘোড়ার বাগররে।

আবার ফিরে আসিব আবার ফিরে বসিব

খায়া যাব তোমার বাটার পানরে।।

দৌলতদিয়া নিষিদ্ধপল্লী

সভ্যতার উষালগ্ন থেকে পরস্পরের সৌন্দর্যে বিমোহিত মানব জাতি। নর ও নারীর ক্ষুধায় সুধায় জগত প্রবাহ। মানবজাতির প্রগতির ইতিহাসে প্রকৃতির নিয়মে নারী রমণীয়, কমনীয়। নারীর উপর ভার পড়েছে সন্তান জন্মদান, প্রতিপালন। অন্যদিকে শারীরিক গঠনে শক্তিশালী নর শিকারের সন্ধানে হাতে নিয়েছে বর্শা। সমাজ বিবর্তনের ধারায় নারীর জীবনের ক্ষেত্র হয়েছে সীমিত আর পুরুষ কর্মের বিশাল পরিধিতে সমাজের একমাত্র অধিকর্তা। সৌন্দর্য প্রিয় নর অধিকর্তা হয়েওনারীর সৌন্দর্যে বিভোর। সৌন্দর্য পিপাসু নর নারীর সৌন্দর্যের মূর্তি এঁকে দিল পাথরের গায়ে, পাহাড়ের গুহায়, বৃক্ষের ছালে। নারী জীবিত হলো সৌন্দর্যে। মানবিক মূল্যবোধের এ যুগে এসেও নারী বিভিন্নভাবে নিগৃহীত, ক্ষেত্র বিশেষে পণ্য, নরের লালসার শিকার। এ দেশে বাদশা, মোগলের হেরেমের কথা কারো অজানা নয়। শোনা যায় রাজা শুদ্ধোধন পুত্র সিদ্ধার্থের জন্য এমন এক কন্যার সন্ধান করছিলেন যার শারীরিক গুণাবলী হবে নর্তকীর মত। সোমনাথ মন্দিরের নর্তকীদের বিষয় ইতিহাসের উপাদান। এভাবে সমাজ গভীরের অন্তসলীলার এক প্রবাহমান ধারায় সৃষ্টি হলো বাঈজী, পতিতা আরো কত অস্পৃশ্য অনুচ্চারিত নাম। বিখ্যাত হয়ে উঠলো দিল্লী, লক্ষ্ণৌ বাঈজীপাড়া।

এরপর আরম্ভ হলো বৃটিশ ঔপনিবেশিক শাসন। বৃটিশ বেনিয়ারা নিদারুণ শাসনের হাজারমণি পাথর আর শোষণের জাতাকলে এদেশের মানুষকে নিস্পেষিত করেই ক্ষান্ত হলো না, নারী লোভে, শতশত নারীকে সমাজ বন্ধন থেকে ছিনিয়ে সৃষ্টি করল এক অপরিচ্ছন্ন বাজার ব্যবস্থা। যে বাজারে নারী হল পণ্য। এর ইন্ধন যোগালো যান্ত্রিক জীবন। পাক-ভারত রেলপথ চালু হয়। রেল গোয়ালন্দ পর্যন্ত বিস্তৃত হলে ১৮৭১ সালে পতিতাপল্লী গড়ে ওঠে।

Additional information