লোক ঐতিহ্য - পৃষ্ঠা নং-২৩

তখন গোয়ালন্দ ঘাট বর্তমান দৌলতাদিয়া থেকে ১০ মাইল আরিচা মুখে ছিল। পরবর্তীতে বন্দর ভাঙ্গনে পড়লে তাদের একাংশ বিংশ শতাব্দীর প্রথম দিকে রাজবাড়িতে স্থান নেয় এবং বর্তমান মাছবাজাড় সংলগ্ন উত্তর পাশে পতিতালয় গড়ে ওঠে। এদের আর এক অংশ ভাঙ্গনের মুখে বর্তমান গোয়ালন্দ বাজার সন্নিকটে স্থান নেয়। এদের কিছু অংশ সোনাপুর, পাংশাতেও স্থান নেয়। সত্তর দশকের শেষে রাজবাড়িতে পতিতালয় উচ্ছেদ অভিযান চলে। এরফলে তারা রাজবাড়ি থেকে গোয়ালন্দে স্থান নেয়। ফেরিঘাট দৌলতদিয়ায় স্থানান্তরিত হয়। ১৯৮৬/৮৬ সালের দিকে তারা প্রবল চাপের মুখে গোয়ালন্দ ঘাট থেকে দৌলতদিয়ায় স্থান গ্রহণ করে। বর্তমানে রাজবাড়ি জেলায় একমাত্র দৌলতদিয়ায় নিষিদ্ধপল্লীর অবস্থান রয়েছে।

 সমাজ অগ্রায়ণের এ যুগে মানুষ নিষিদ্ধ শব্দটির সাথে পল্লী শব্দ ব্যবহার করে পতিতালয় বৃত্তিকে নিষিদ্ধপল্লী নামকরণ করে বিষয়টিকে একটি শব্দমান দিয়েছে। এ কোনো গুণগত মান নয়। এর আড়ালে কাজটি সামজ গর্হীত, অমানবিক, অপবিত্র। সমাজজীবনে অপবিত্র সলীলার এ প্রবাহ, অনুমোদনে সমর্থিত। এ অনুমোদনের আড়ালেও রয়েছে সমাজশাসনের কুরুচী ও কুটিল স্বার্থ। সামাজিক মান থেকে বঞ্চিত এ পল্লীর মানুষের মানবতার আকাঙ্খী। দেশে দেশে এ বিষয়ে মানবিক মূল্যবোধের বিকাশ ঘটেছে। হংকং, থাইল্যান্ড, ভারত এ বিষয়ে আইন প্রণয়ন করে পতিতাবৃত্তিকে নিরুৎসাহিত করার প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। ইউএনডিপি আর্থ-সামাজিক উন্নতির জন্য কাজ করে চলেছে। বর্তমানে দেশে ইউএনডিপি এ বিষয়ে ৪টি প্রকল্প হাতে নিয়েছে তারমধ্যে দৌলতদিয়অ নিষিদ্ধপল্লী একটি।

Additional information