লোক ঐতিহ্য - পৃষ্ঠা নং-৭

এসডিও ১৪৪ ধারা জারি করে তা বন্ধু করে দেন। ইতিমধ্যে মালো বেশ কিছু অর্থের মালিক হয়ে পড়েছেন। এরপর থেকে মৎস্যজীবীর নাম ‘মালো ভাগ্যবান’ বলে রটে যায়। বর্তমান কালেও আমাদের দেশে এমন নানা ঘটনা ঘটছে। সম্প্রতি মাগুরায় পানি পড়া নিয়ে মাগুরা ও এর পার্শবর্তী জেলা ঝিনাইদহ, ফরিদপুর, লড়াইল, রাজবাড়ি হুলস্থুল কাণ্ড ঘটে গেল। অশিক্ষিত, শিক্ষিত, ধনি, গরীব সর্বশ্রেণীর হাজার হাজার মানুষ ট্যাক্সি, বাস মাইক্রো, পায়ে হেঁটে মাগুরায় যেতে থাকে। প্রতিদিন লক্ষাধিক মানুষের সমাগম ঘটতে থাকে। রাজবাড়িতে এমন অবস্থার সৃষ্টি হয়েছিল যে, একমাত্র মাগুরা যাওয়া ছাড়া অন্যত্র যাওয়ার কোনো মাইক্রো ভারা পাওয়া যাচ্চিল না।

টাকার মাইট

রাজবাড়ি জেলায় বালিকান্দি উপজেলায় টাকার মাইটের গল্পকাহিনী শোনা যায়। সেকালে গ্রামের ধনী মানুষের ছিল বড় বড় পুকুর। তারা কাঁচা টাকা কোলায় ভরে শিকল দিয়ে গোপনে পুকুরে ডুবিয়ে রাখত। এসব টাকার কোলাকে স্থানীয় ভাষায় মাইট বলা হয়।

কিছুদিন পানিতে থাকার পর টাকার মাইটটি দেওদা (জীবন্ত) হয়ে ৭টি মাইটে পরিণত হত এবং পুকুরে ভুর ভুর করে কখনো কখনো ভেসে উঠতো। আবার অনেক ধনী টাকার মাইট ঘরের মাটির নীচে রেখে দিত এবং সেগুলি একসময় দেওদা হয়ে পুকুরে ঐ সকল মাইটের সাথে মিশে যেত। এসব টাকার মাইট আবার অনেককে স্বপ্নে দেখা দিত। স্বপ্নে দেখা দিয়ে বলত আমি অমুক পুকুরের চালায় উঠে বসে থাকব। তুই শনি অথবা মঙ্গলবার এমন একটা দিন তারিখে নিশিরাতে এসে আমাকে নিয়ে যাবি। এরকম স্বপ্ন দেখে যারা সাহস করে মাইট নিয়ে আসত তারা ধনী হয়ে যেত। এখনো এলাকায় ধনি ব্যক্তিদের প্রতি নিরক্ষর মানুষ উক্তি করে সে টাকার মাইট পেয়েছে। আবার অনেকে বলে পুকুর কাটার সময় সে পুকুরে মাইট পেয়েছে।

বাণীবহে পুস্কুলাগা

রাজবাড়ি সদর উপজেলায় বাণীবহ একটি প্রাচীন প্রসিদ্ধ গ্রাম। ইতিহাস পর্যালোচনায় দেখা যায় ২৫০/৩০০ বৎসর পূর্বে বাণীবহে এক উন্নত জনপদ গড়ে ওঠে। গ্রামটি কয়েকটি পাড়ায় যেমন---বিদ্যাবাগীশ পাড়া, আচার্য পাড়া, সরখেল পাড়া, সেনহাটি পাড়া, পচা পাড়া নামে বাণীবহে ছিল সাতশত ঘর বাড়ী--ব্রাহ্মণ দুইশত ঘর বৈদ্য আর অন্যান্য আড়াইশত ঘল গ্রামে এরুপ জনতাপূর্ণ ছিল যে কারো কোনো বহিরাঙ্গণ এমন কি বারান্দাও ছিল না। এ গ্রামে ১২৩৩ বাংলা সালে এক মহামারীতে গ্রামের প্রায় ৮০ ভাগ লোক মারা যায় এবং জীবিতরা গ্রাম ছেড়ে অন্যত্র চলে যায়। এ ঘটনাকে নিয়ে এলাকায় একটি লোকসংস্কার গড়ে ওঠে। কথিত সংস্কারটি হল ‘বাণীবহে পুস্কুলাগা’। লোকে বলে বাণীবহে হঠাৎ একদিন রাতে পূস্কু নামে এক অলৌকিক শক্তির আর্বিভাব ঘটে। কথিত ভাষায় পূস্কু এক প্রকার মহামারি রোগের আর্বিভাব ঘটায় এবং এক রাতে সকল মানুষকে মেরে ফেলে। এসব মানুষ মরে গেলে পুস্কু তাদের দেহে ভর করে ঐ সকল মানুষের দেহধারী হয় এবং অলৌকিক আচরণ করতে থাকে। গ্রামের দূরের আত্মীয়রা সে রাতের কোনো ঘটনাই জানত না। তাদের মধ্যে সকালে দু’একজন আত্মীয়-স্বজন বাড়িতে আসলে পুস্কুলাগা লোকটি হাত লম্বা করতে করতে উঠান থেকে পিড়ি এনে দেয়, অন্যঘর থেকে খাবার এনে দেয়। কথা বলার সময় দেখা যায় হা দিয়ে আগুন বের হয়। হাঁটার সময় দেখা যায় ১০/১২ হাত দূরে পা ফেলছে। বলাবাহুল্য এ গ্রামের পাশ দিয়ে মানুষ যাতায়াত করত না। বাণীবহ অনেকদিন বিরাণভূমিতে পরিণত ছিল।

Additional information