ক্রীড়া - পৃষ্ঠা নং-২

এ প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ  করতে আসত কলকাতার নামীদামী ফুটবল টিম। বেলগাছিতে আলিমুজ্জামান শীল্ড এর খেলা অনুষ্ঠিত হত। ফুটবলের যাদুকর বলে পরিচিত সামাদ ১৯৩৬ সালের দিকে রাজবাড়ি ফুটবল মাঠে মোহামেডানের পক্ষে খেলতে আসতেন। আর এক কৃতি ফুটবলার ছিলেন জগদীশ গুপ্ত। তিনি কল্লোল যুগের প্রখ্যাত ঔপন্যাসিক, ছোট গল্পকার। জন্ম বালিয়াকান্দির খোর্দ্দ মেগচামী। থাকতেন কুষ্টিয়া। অমিয় গুহ, বামনদাস গুহরায়, নুর হোসেন (সোনাদা), সাত্তার মৌলভী, যোগেশ চন্দ্র, যোগেশ দত্ত তখনকার ফুটবল তারকা। এরমধ্যে সোনাদাই ৪-৪-২ পদ্ধতির প্রবর্তন করেন। পরবর্তী পর্যায়ে পাকিস্তান আমলে কৃতি ফুটবলার ও সংগঠক ছিলেন ডিএমএন ইসলাম, কেএস রহমান, রোস্তম আলী, অমল চক্রবর্তী, শৈলেশ রায়, কাদের নেওয়াজ, এনামুল কবির, আব্দুস সামাদ, প্রফেসর এহিয়া ইসলাম, আব্দুর রাজ্জাক, নিরোদ ভজন, সমর দাস, কাজী হেদায়েত হোসেন, হাবিবুর রহমান প্রমুখ। তাদের মধ্যে ডিএমএন ইসলাম ও কেএম রহমান, কালীপদ কলিকাতা লীগের বেঙ্গল রেলওয়ে দলে খেলতেন।

১৯৪৭ সালের পর থেকে ১৯৬৮ সাল পর্যন্ত ফুটবল রাজবাড়ির বিভিন্ন অঞ্চলে অতিপ্রিয় ও গুরুত্বপূর্ণ খেলায় রুপ নেয়। রেলওয়ে মাঠকে কেন্দ্র করে খানখানাপুর, বেলগাছি, বসন্তপুর, বিভিন্ন ক্লাব গড়ে ওঠে। রেলওয়ে ক্লাব, এমও ক্লাব, মার্চেন্ট এসোসিয়েশন, কলেজ টিম প্রভৃতি ক্লাব গড়ে ওঠে এবং নিয়মিত লীগ খেলা অনুষ্ঠিত হয়। এ সময়ের খেলোয়াড়দের মধ্যে যারা প্রতিভাবান যশস্বী ছিলেন তারা হলেন রবিউল আলম, এনায়েতুর রহমান, কালীপদ, অমূল্য, নিখিল নাগ, রোকন চৌধুরী, রঞ্জু চৌধুরী, কুদরত আলী, কুটি মনি, গোলাম মওলা, খলিলুর রহমান, গণেশ, শুকরী, মঞ্জুর মোর্শেদ বাদশা, এনায়েত করিম, মোহন, নিমাই, রাধাকান্ত, আজিজ, গৌড় ও আরো অনেকে। সকলেই ফুটবল জগতের রাজবাড়ি তথা দেশের কৃতি সন্তান। এদের মধ্যে অনেকেই ঢাকা ১ম বিভাগ ফুটবল লীগে নিয়মিত খেলতেন। স্বাধীনতা পরবর্তী কালেও ফুটবলের এ গৌরব অক্ষুন্ন থাকে এ প্রজন্মের ফুটবলারের মধ্যে- মোয়াজ্জেম, মঞ্জুরুল আলম দুলাল, শাজাহান, এনামুল, লিটন, হোসেন, মনোজ, কমল, হাই, মান্নান, হাবিব, হারুন, সাহা, জলিল, কুটি, হিরা প্রমুখ। তাদের মধ্যে অনেকেই ভাতীয় পর্যায়ের খেলোয়াড় ছিলেন। ফুটবলের সংগঠক ও রেফারী হিসেবে গৌরবময় ঐতিহ্য সৃষ্টি করেছেন ভুপেশ চন্দ্র মজুমদার, যোগেশ কুণ্ড, (এরা দুজনই এফআইএ অনুমোদিত) সুরেন লাহিড়ী, হাবিবুর রহমান, ডিএমএন ইসলাম, জলিল মিয়া, নবকৃষ্ণ চক্রবর্তী, ফজলুল হক মোকাতার, এম এ মোমেন (বাচ্চু মাস্টার), মোশারফ হোসেনে, রণজিৎ কুমার বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। বর্তমানে যারা এ গুরুদায়িত্ব পালন করে চলেছেন তারা এনায়েতুর রহমান, কমল চক্রবর্তী, কুটি, নিমাই ঘোষ, শাজাহান, মোয়াজ্জেম, কাজী মতিন, মঞ্জুরুল আলম দুলাল প্রমুখ।

লন টেনিসে রাজবাড়ির বিশেষ গৌরব রয়েছে। হোসনেবাগ হল সংলগ্ন টেনিস মাঠ (বর্তমানে অবলুপ্ত) সে ঐতিহ্যের ধারক। বর্তমানে অফিসার ক্লাব লন টেনিস মাঠ সে ঐতিহ্য বহন করে চলেছে। বেলগাছির হিরালাল, শিবলাল দুই ভাই বিশ্বমানের টেনিস খেলোয়াড়। তারা জাতীয়ভাবে পুরস্কৃত হয়েছেন।

১৯৮৬ সালে অনুষ্ঠিত জাতীয় পর্যায়ে যুব ভলিবল প্রতিযোগিতায় রাজবাড়ি জেলা দল রানার্স আপ হওয়ার গৌরব অর্জন করে। সুযোগ্য কোচ মঞ্জুর এলাহী এ খেলার নেতৃত্ব দেন। ১৯৯১ সালে অনুষ্ঠিত জাতীয় পর্যায়ে বিভিাগীয় মিলনার্স ভলিবল প্রতিযোগিতায় রাজবাড়ি দল ২য় স্থান অধিকার করে। ১৯৮৯-১৯৯২ সাল পর্যন্ত  ঢাকা বিভাগীয় ভলিবল রাজবাড়ি চ্যাম্পিয়ন হয়। পুতুল ঘোষ সাফ গেমসে খেলার সুযোগ লাভ করে।

এ্যাথলেটিক্স এ রয়েছে রাজবাড়ির গৌরময় ইতিহাস। শহিদুন্নবী আলম ও মোসলেহ উদ্দিন বিশেষভাবে এ কৃতিত্বের দাবিদার। দৌড়ে শহিদুন্নবী আলম প্রথমবার পূর্ব-পাকিস্তান চ্যাম্পিয়ন হন এবং ২য় বার ৮০০ মিটার দৌড়ে পূর্ব-পাকিস্তান অলিম্পিকে ৩য় স্থান অধিকার করেন। মোসলেহ উদ্দিন নৌবাহিনীর হয়ে হাই জাম্পে পাকিস্তান অলিম্পিকে অংশ নিতেন। শের আলী পাকিস্তান অলিম্পিকে প্রতিবারই ডাইভিংয়ে ১ম হতেন। ১৯৯০-৯১ এ অনুষ্ঠিত বিভাগীয় এ্যাথলেটিক্স প্রতিযোগিতায় কৃষ্ণা সরকার এবং নিঃস্কৃতি দেশমুখ যথাক্রমে বর্শা নিক্ষেপ এবং লৌহ গোলক নিক্ষেপে সোনা জয় করেন।

পদ্মা আর গড়াইয়ের উদ্দাম উত্তাল ঢেউয়ের সাথে পাল্লা দিয়ে গড়ে উঠেছে রাজবাড়ির মানুষের জীবন ধারা। এ ধারার সাঁতার তাদের জীবনের প্রতিষ্ঠা। পঞ্চাশের দশক থেকে সাঁতার প্রতিযোগিতা হিসেবে রুপ নিলেও স্বাধীনতার পর থেকে রজাবাড়ির সাতারুরা বিশ্বমানে উঠে এসেছে। আঃ রব, আঃ রাজ্জাক, এটিএম রফিক উদ্দিন পারিবারিক সূত্রে চার সহোদর এক শক্তিতে উদ্ধুদ্ধ হয়েছিলেন সেই কবে, কয়েক যুগ পূর্বে।

Additional information