ক্রীড়া - পৃষ্ঠা নং-৩

সেই থেকে শহিদুন্নবী আলম, মোহাম্মদ আলী, মহসীন উদ্দিন, এরশাদুন্নবী সেলু (বর্তমানে জাতীয় কোচ) গ্রথিত হয়েছেন কালের সৃষ্টির প্রক্রিয়া সাঁতারে। আজ রাজবাড়ি তথা দেশের গৌরবময় ইতিহাসে জাতীয় কোচ এরশাদুন্নবী ও তাঁর সহযোগী কোচ স্বপন চন্দ্র ও কৃষ্ণা বসুর অক্লান্ত শ্রমে রাজবাড়িতে গড়ে ওঠে একদল কৃতি সাঁতারু। আসমা, আলেয়া, সীমা, খাদেজাতুল কোবরা, কৃষ্ণা, বিথি, সেলিনা আক্তার, লায়লা নূর, নূরই-আফরোজ, পুতুল, মিতা, নিবেদিতা, সালমির নাম উল্লেখযোগ্য। ১৯৮৩ সালে বয়সভিত্তিক জাতীয় সাঁতারে লায়লা নূর একাই ১২টি সোনা জিতে রেকর্ড সৃষ্টি করেন। তিনি জাতীয় পর্যায়ে ব্যক্তিগত ৬ বার চ্যাম্পিয়ন হবার গৌরব অর্জন করেন। তিনিই একমাত্র মহিলা সাঁতারু যিনি আন্তর্জাতিক সাঁতার প্রতিযোগিতায় শ্রীলঙ্কার সাফ গেমসে অংশ নিয়ে ২টি ব্রোঞ্জ পদক লাভ করেন। লায়লা নূর দেশের ১ম মহিলা কোচ হিসেবে ভারত, পাকিস্তান এবং জার্মানিতে উচ্চতর প্রশিক্ষণের জন্য ডাক পান। তিনি এ পর্যন্ত ৮০টি পদকের কৃতিত্বের দাবিদার। বর্তমান তিনি সাঁতার ফেডারেশনের জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য। এরপর মিতা সোম ৪টি সোনা, নিবেদিতা ৩টি সোনা ও ১টি রুপা ও ২টি তামা জয়ের গৌরব অর্জন করেন। ১৯৯২-৯৩ সালে বয়সভিত্তিক জাতীয় সাঁতার প্রতিযোগিতায় নিবেদিতা দাস ৩টি জাতীয় রেকর্ডসহ ব্যক্তিগত চ্যাম্পিয়ন এবং মিতা সোম নতুন রেকর্ডসহ ব্যক্তিগত রানার্সআপ হওয়ার গৌরব অর্জন করেন রাজবাড়িতে একটি সুইমিং পুল নির্মিত হয়েছে।

রাজবাড়ির কৃতি সন্তান এবং দেশের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র মুন্নী আক্তার ডলি। সিডনী অলিম্পিক-২০০০ তিনি প্রথম একমাত্র মহিলা সাঁতারু যিনি আন্তর্জাতিক ইভেন্টে যোগদান করেন। সাফ গেমসসহ জাতীয় সাঁতার প্রতিযোগিতায় সোনা, রুপা জিতে নিয়েছেন এবং চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করেন। তার সঙ্কল্প দৃঢ়। সু-শৃংখল তাঁর কর্মপ্রয়াস। তিনি আগামী দিনে দেশের মান বৃদ্ধি করবেন এ তার প্রত্যাশা।

জেলার ক্রীড়া জগতের এ গৌরবের স্বীকৃতি জেলাবাসী অনেকাংশে লাভ করেছে। রাজবাড়ি জেলার ক্রীড়া জগতের অবকাঠামোগত উন্নয়নে যাঁর অবদান অস্বীকার করলে অকৃতজ্ঞ হতে হবে তিনি হচ্ছেন অধ্যাপিকা জাহানারা বেগম (সাবেক প্রাথমিক ও গণশিক্ষা বিষয়ক মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা। তিনি স্টেডিয়ামের আংশিক নির্মাণকাজ, জাতীয় এক্রোবেটিক সেন্টার ও সুইমিংপুল নির্মাণে অসামান্য ভূমিকা রেখেছেন।

 সাবেক মাননীয় জাতীয় সংসদ সদস্য রাজবাড়ি-১ আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম এবং রাজবাড়ি-২ আসনের মাননীয় জাতীয় সংসদ সদস্য- মোঃ নাসিরুল হক সাবু জেলার ক্রীড়া জগতের উন্নতি ও প্রসারে বলিষ্ঠ ভূমিকা রেখেছেন। বর্তমান মাননীয় জাতীয় সংসদ সদস্য রাজবাড়ি-১ কাজী কেরামত আলী ও রাজবাড়ি-২ আসনের জিল্লুল হাকিম ক্রীড়া জগতের উন্নতিতে অনন্য ভূমিকা রেখে চলেছেন। সাবেক জেলা প্রশাসক বিজনকান্তি সরকারের উদ্যোগে ক্রীড়া জগৎসহ সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডল ভিন্নমাত্রা লাভ করে। এর সাথে যাদের অবদান, আগ্রহ, প্রচেষ্টা ও নিরন্তর রাজবাড়ি ক্রীড়া জগতের প্রসার পরিমার্জন পরিবর্ধন করেছে, তারা এ জেলারই সকল গুণী মানুষ ও সকল স্তরের জনগণ।

বি.দ্র. ক্ষুদ্র পরিসরে অনেক কৃতি খেলোয়াড়ুদের নাম উল্লেখ করা সম্ভব হয়নি এ জন্য লেখক ক্ষমাপ্রার্থী।

জাতীয় এ্যাক্রোবেটিকস রাজবাড়ি

এ্যাক্রোবেটিসসের আভিধানিক অর্থ মল্লক্রীড়া বা ব্যায়ামদি বা দড়াবাজিকর। এর শব্দমান যাহোক এ্যাক্রোবেটিকস বলতে যা বোঝায় তা হলো অপূর্ব শারীরিক কৌশল প্রদর্শনে একধরনের খেলা। দড়ি বেয়ে এ্যাক্রোবেটস তাতে অনেক উঁচুতে ভারসাম্য রক্ষা করে, বল নাচিয়ে, বিভিন্ন কৌশলে শূন্যে ডিগবাজী দিয়ে, শারীরকে বিভিন্ন কৌশলে বাঁকিয়ে খেলা প্রদর্শন করে। এটি বর্তমানে আন্তর্জাতিক মানের শিল্প বলে পরিচিতি লাভ করেছে। এ ব্যাপারে চীন, দক্ষিণকোরিয়া পৃথিবীতে সেরা এ্যাক্রোবেটিকস বলে পরিচিত। বাংলাদেশে আন্তজাতিক মানের এ্যাক্রোবেটিকস দল গঠনের নিমিত্তে তৎকালীন সংস্কৃতিক বিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপিকা জাহানারা বেগম রাজবাড়িতে ১৯৯৩ সালে জাতীয় এ্যাক্রোবেটিকস সেন্টার প্রতিষ্ঠা করেন।

Additional information