ক্রীড়া - পৃষ্ঠা নং-৫

অলিম্পিক তারকা ডলি আক্তার

বাংলাদেশের ক্রীড়া জগৎকে উচ্চতর মানে উন্নীত করেছেন রাজবাড়ির মেয়ে ডলি আক্তার। তিনি সাঁতার জগতের তারকা। মেয়েদের মধ্যে একমাত্র ডলি আক্তার পর পর তিনবার বাংলাদেশ থেকে অলিম্পিকে যোগদান করেন। ২০০০ সালে সিডনী অলিম্পিকে, ২০০৪ সালে গ্রীস অলিম্পিকে এবং ২০০৮ সালে চীনে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ থেকে ছয় ক্রীড়াবিদের মধ্যে ডলি অংশগ্রহণ করেন। অলিম্পিক প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশ অনেক পিছিয়ে সে কথা সকলের জানা। অনুন্নত দেশ হিসেবে বাংলাদেশ ক্রীড়ার উন্নয়নে অর্থ ব্যয় করতে পারে না। তারপরেও অলিম্পিকে অংশগ্রহণ জাতির ভাবমর্যদা বৃদ্ধি করে। এ ছাড়া সাফগেমসে বাংলাদেশের অর্জন কম নয়।

সংগ্রামী জীবনের প্রতীক ডলি মেধা, একনিষ্ঠতা আর অনুশীলনে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে স্থান করে নিয়েছেন। রাজবাড়ি শহরের ভবানীপুরের রওশন আলী ও আমেনা বেগমের এক ছেলে এক মেয়ে। বড় সন্তান ডলি আক্তার শিশু বয়সেই বড় কিছু হওয়ার স্বপ্ন লালন করে মনে মনে। দারিদ্র পিতা মাতার সন্তানদের আকাশ দেখার স্বাদ যেন আকাশ কুসুম কল্পনা। তাই বলে কি তাদের আকাশ দেখা মানা? দরিদ্র পিতা মাতা তাকে স্কুলে ভর্তি করেন। সে সাথে সাঁতারু হয়ে ওঠার জন্য জেলর অন্যতম ক্রীড়াবিদ শহীদুন্নবী আলমের তত্ত্বাবধানে দেন। শহীদুন্নবী আলম ধীরে ধীরে নানা প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তাকে যোগ্য করে তোলেন। প্রথমে স্থানীয় পর্যায়ে এবং পরে জাতীয় পর্যায়ে একের পর এক প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অধিকার করেন। এক সময় ডলি জাতীয় অঙ্গন থেকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রবেশ করেন। ‘৯৯ সালে কাঠমুণ্ডু সাফ গেমসে ১০০ মিটার ব্রেস্ট স্ট্রোকে রৌপ্যপদক জয় করেন। ইসলামাবাদ সাফ গেমসে ২টি ব্রোঞ্জ, কলম্বো সাফ গেমসে ১টি রৌপ্য ও ২টি ব্রোঞ্জ পদক জয় করেন। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সাঁতারু ডলি আক্তার রাজবাড়ি তথা দেশের গর্ব। রাজবাড়িতে তাকে ২০০২ সালে শিল্পকলা একাডেমীতে নাগরিক সংবর্ধনা দেওয়া হয়।

এএসএম এরশাদুন নবী

এএসএম এরশাদুন নবী রাজবাড়ির গৌরব ও কৃতিসন্তান। জেষ্ঠ্য ভ্রাতা শহীদুন্নবী আলম বীর মুক্তিযোদ্ধা ও জাতীয় এথলেটিকস। দৌড়ে তৎকালীন পূর্ব - পাকিস্তান চ্যাম্পিয়ন। শহীদুন্নবী রাজবাড়ির ক্রীড়া জগতের উন্নয়নে নানা উদ্যোগ গ্রহণ করেন। রাজবাড়িতে গড়ে তোলেন সাঁতার প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা। জেষ্ঠ্য ভাইয়ের উৎসাহে এরশাদুন নবী সাঁতার জগতে প্রবেশ করেন। নিরলস প্রচেষ্টা, দক্ষতায় নিজের ভূবনে নিজেকে সু্রিতিষ্ঠিত করেছেন। সাঁতার নৈপুণ্যে তিনি নানা সম্মাননা লাভ করেন। পরবর্তীকালে তিনি দেশের সাঁতার জগতের উন্নয়নে নিজেকে সমর্পণ করেন। বর্তমানে তিনি জাতীয় স্পোর্টস কাউন্সিল সাঁতার বিভাগের চীফ কোচ। তার প্রচেষ্টায় রাজবাড়ির সাঁতার জগৎ ভিন্ন মাত্রা লাভ করেছে। রাজবাড়ির সুইপিংপুল প্রতিষ্ঠায় নানা ভূমিকাসহ তিনি স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ে অসংখ্য সাঁতার তারকা গড়ে তুলেছেন। এরশাদুন নবীর জন্ম ১৯৫৩ সালে রাজবাড়ি শহরে। পিতা মরহুম মওলানা সৈয়দ আশরাফ আলী আল কাদরী। ছাত্রজীবন কেটেছে জেলা স্কুল ও রাজবাড়ি কলেজে। অতি বিনয়ী ও ভদ্র এরশাদুন নবী রাজবাড়ির গর্ব।

 

 

Additional information