মুক্তিযুদ্ধে রাজবাড়ি - পৃষ্ঠা নং-১৮

গোয়ালন্দ

(১) ফকির আব্দুল জব্বার, গোয়ালন্দ।

নয় মাস যুদ্ধকালীন সময়ে মুক্তিযোদ্ধাগণ অনেক স্থানে সংগঠিত ও বিচ্ছিন্ন অপারেশ কার্যক্রম পরিচালনা করে। এখানে কয়েকটি অপারেশনচিত্র তুলে ধরা হল------ভারতে প্রশিক্ষণ গ্রহণের পর জুলাই মাসের প্রথম দিকে মোঃ রফিকুল ইসলামের নেতৃত্বে পাটুরিয়া এলাকায় ট্রেনিং ও অপারেশন কাজ শুরু করে। প্রাথমিক অবস্থায় তারা প্রায় ২০০ শত মুক্তিযোদ্ধা রিক্রুট করে। প্রথমেই গোয়ালন্দ হাসপাতাল সংলগ্ন রেলব্রিজ পাহারারত বিহারী, রাজাকার ও মিলিশিয়াকে আক্রমণ করা হয়। এই আক্রমণে অংশগ্রহণ করেন আব্দুস সামাদ মোল্লা, মোঃ সাকির উদ্দিন কুটি, মোঃ আমিনুল ইসলাম শফি ও মোঃ আব্দুল আজিজ খুশী। আক্রমণ করা হয় ভোর ছ’টায়। অতর্কিত আক্রমণে ১৬ জন রাজাকার আত্মসমর্পণ করে, অবশ্য এই রাজাকাররা ১৬টি রাইফেল জমা দিয়ে মুক্তিবাহিনীতে যোগ দেয়। এরপর ৪০ জন মুক্তিযোদ্ধার একটি দল আলাদীপুর ব্রিজ আক্রমণ করে। ব্রিজটি ছিল ফরিদপুর ও রাজবাড়ির যোগাযোগের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তা বোমার আঘাতে ভেঙ্গে দিতে পারলে পাকসেনারা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে এই লক্ষ্যে তার ব্রিজের কাছাকাছি এসে গুলি ছুঁড়তে থাকে। কিন্তু রাজাকারদের প্রচণ্ড প্রতিরোধের মুখে পড়ে। গুলির শব্দ শুনে বিহারীরা এসে যোগ দেয়। ফরিদপুর থেকে পাকহানাদারবাহিনীও ছুটে আসে। মুক্তিযোদ্ধারা পিছু হটতে বাধ্য হয়। এই অপারেশনে বিহাররীদের গুলির আঘাতে রাজবাড়ি কলেজের ১ম বর্ষের ছাত্র (লেখকের প্রিয় ছাত্র) আব্দুল আজিজ খুশী শহীদ হন। গ্রুপ কমান্ডার রফিকুল ইসলামের নেতৃত্বে পাঁচুরিয়া রেল স্টেশন এবং দুই রেল ব্রিজের পাহারারত প্রায় ৩০ জন রাজাকারকে মোটিভেশন করে আত্মসমর্পন করান।

কামরুল হাসান লালী ক্যাডেট কলেজের ছাত্র (পরে ডাক্তার) ছিলেন। ভারতের চাকুলিয়ায় একমাস প্রশিক্ষণ শেষে সেপ্টেম্বরে শক্তিশালী দল নিয়ে রাজবাড়ি প্রবেশ করেন। গ্রুপ কমান্ডার কামরুল হাসান লালীর অধীনে ছিলেন গোলাম মোস্তফা, আবু বকর সিদ্দিক, মোঃ হোসেন দেওয়ান, মেজেক শেখ, শাহজাহান, হেলাল-সহ আরো অনেকে। তারা প্রথমে পাংশা ও পরে বেলগাছি বকু চৌধুরীর বাড়ি আশ্রয় নেন। অসীম সাহসী মোঃ ইলিয়াস মিয়ার নেতৃত্বে কয়েকজন আলাদা হয়ে যান। কামরুল হাসান লালী শুকুর চেয়ারম্যানের বাড়িতে ৩০/৩৫ জন সদস্য নিয়ে শক্তিশালী মুক্তিযোদ্ধা দল গঠন করেন। তারা সূর্যনগর ও রাজবাড়ির মাঝে কয়েকটি ব্রিজের পাহারারত রাজাকারদের আত্মসমর্পন করান। লেখকের বাড়ি বালিয়াকান্দি ‍উপজেলায় দিগন্ত বিস্তৃত তেঢালা বিলের দক্ষিণ পাড় অবস্থিত নাড়ুয়া ইউনিয়নে বিলমালেঙ্গা গ্রামে। যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন বিলগুলিতে অবস্থিত গ্রামটি ছিল বিহারী ও পাকবাহিনীর অনুপ্রবেশ থেকে নিরাপদ। বিলমালেঙ্গা ও তালুকপাড়া পাশাপাশি দুটি গ্রামের কিছুসংখ্যক মুক্তিযোদ্ধা ট্রেনিং গ্রহণ করেন। তবে গ্রামটি নিরাপদ হওয়ায় মুক্তিযোদ্ধাদের অনেকেই আশ্রয় গ্রহণ করতেন।

Additional information