মুক্তিযুদ্ধে রাজবাড়ি - পৃষ্ঠা নং-২৯

শহীদ মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতিফলক শ্রীপুর বাসস্টান্ডমুক্তিযোদ্ধা স্মৃতি সৌধ রেলগেট রাজবাড়ি বৌদ্ধভুমি লোকোশেড রাজবাড়ি

লে. কর্নেল (অব.) আবু ওসমান চৌধুরী

মহান মুক্তিযুদ্ধের সেক্টর কমান্ডারদের মধ্যে একজন রাজবাড়ি জেলার পিতৃপুরুষের সহায় সম্পত্তির উত্তরাধিকারী, এ কথা জানার পর স্বভাবতই জেলার যে কোনো মানুষ গর্বিত হবেন। এ প্রজন্মের একজন যুবক গর্বভরে সে নাম উচ্চারণ করবেন। আগামী প্রজন্মের একজন শিশু তাঁর বীরত্বগাথা মন দিয়ে শ্রবণ করবে। সেই সফল নায়ক লে. কর্নেল (অব.) আবু ওসমান চৌধুরী।

তাঁর জন্ম চাঁদপুরে। শৈশবও কেটেছে চাঁদপুরে। কিন্তু তাঁর পিতা আব্দুল আজিজ চৌধুরী (শিক্ষক) একসময় রাজবাড়ির শ্যামল ও সুন্দর পরিবেশে আকৃষ্ট হয়ে খানখানাপুর গ্রামে অনেক সম্পত্তি ক্রয় করেন এবং এখানেই শেষ জীবনের আশ্রয় খুঁজে নেন। পিতার স্থায়ী বসতির কারণে আবু ওসমান চৌধুরী খানখানাপুরে কাটাতেন এবং রাজবাড়ির মাটি ও মানুষের সাথে তাঁর গভীর আত্মীয়তা গড়ে ওঠে। আমরা তাঁকে রাজবাড়ির মানুষ বলে পরিচয় দেই।

আবু ওসমান চৌধুরী ১৯৩৫ সালে ১ জানুয়ারি জন্মগ্রহণ করেন। তিনি পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে কমিশনপ্রাপ্ত হন। সে সময়ে পূর্ব পাকিস্তানের বঞ্চনা তাঁকে ব্যথিত করত। ২৬ মার্চের পূর্বের ঘটনাবলীর উপর তিনি তীক্ষ্ণ নজর রেখে আসছিলেন। অবস্থাদৃষ্টে হয়ত তাঁর মনে নানা আশঙ্কা জেগেছিল। যে কারণে তিনি ১৯৭০ এর নির্বাচনের পর ডেপুটেশনে ইপিআর এ যোগ দেন। উদ্দেশ্য সেনাবাহিনীর কঠিন নিগঢ় থেকে বেরিয়ে আসা এবং সুযোগমত পাকিস্তানবাহিনীর মোকাবেলা করা। পূর্বাপর ঘটনার পরিণতি সেদিকেই যাচ্ছিল। ১৯৭১ সালের ২৪ মার্চ তাঁর কর্মস্থল চুয়াডাঙ্গা থেকে কুষ্টিয়া আসেন এবং কুষ্টিয়া ডাকবাংলোয় অবস্থান নেন। ইতিমধ্যে ২৫ মার্চ শেষ রাতে যশোর ক্যান্টমেন্ট থেকে একবহর সৈন্য এসে কুষ্টিয়া শহরে কার্ফু জারী করে। কার্ফ্যুজারী বিষয়টি তাঁকে ভাবিয়ে তোলে। আবু ওসমান চৌধুরী কৌশলে কুষ্টিয়া ত্যাগ করে চুয়াডাঙ্গা পৌঁছেন। ইতিমধ্যে পাকিস্তানবাহিনী নারকীয় হত্যাযজ্ঞ শুরু করেছে। তিনি চুয়াডাঙ্গায় স্থানীয় রাজনীতিবিদ, ছাত্র-জনতা সকলের সম্মতিতে তাৎক্ষণিক সর্বাধিনায়ক মনোনীত হন। সেখানে তিনি সবুজ কাপড়ের উপর বাংলাদেশের মানচিত্র অঙ্কিত পতাকা উত্তোলন করে সবার মধ্যে স্বাধীনতার চেতনা সঞ্চারীত করেন। তিনি এলাকাটিকে দক্ষিণ পশ্চিম রনাঙ্গন বলে ঘোষণা দেন। তিনি আরো ঘোষণা করেন ‘স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশকে মেনে নিয়ে আমরা পাকিস্তানি সামরিক জান্তার বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করলাম’ (রাজবাড়ির মুক্তিযু্দ্ধ ড. মুহম্মদ আব্দুস সাত্তার পৃষ্ঠা-২০৩)।

২৬ মার্চ পাকিস্তানি সামরিক জান্তার অতর্কিত আক্রমণে দেশের মানুষের উপর নির্মম নির্যাতন শুরু হলে মানুষ দিশাহীন হয়ে পড়ে। এ পরিস্থিতিতে আবু ওসমান চৌধুরী অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে পদ্মার এপারের দক্ষিণ অঞ্চলকে হানাদার মুক্ত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

Additional information