মুক্তিযুদ্ধে রাজবাড়ি - পৃষ্ঠা নং-৩০

তিনি প্রথমেই কুষ্টিয়া শহরকে মুক্ত করার পরিকল্পনায় স্থানীয় ইপিআর, আনসার, মুজাহিদ, ছাত্রজনতাকে ঐক্যবদ্ধ করার পরিকল্পনা করেন। সকল স্তরের মানুষ ও যোদ্ধাদের ঐক্যবদ্ধ করে ১ এপ্রিল কুষ্টিয়া আক্রমণ করেন। কুষ্টিয়ার যুদ্ধে পাকিস্তানবাহিনী ছিন্নভিন্ন হয়ে পড়ে। তারা পলায়নপর হলে যত্রতত্র সাধারণ মানুষ তাদের পিটিয়ে মারে।

যুদ্ধের শুরুতেই তাঁর বিশেষ কৃতিত্ব হল তিনি ১ এপ্রিলের মধ্যে কুষ্টিয়া, ফরিদপুর, ঝিনাইদহ, মাগুরা হানাদার মুক্ত রাখেন। কেবল তাই নয় পাকিস্তানবাহিনীর দ্বারা নির্মম হত্যাযজ্ঞ, বিমানবাহিনীর নির্বিচার বোমা বর্ষণ, গণহত্যা, লুটপাট, বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগের চিত্র তুলে সারা বিশ্বের টিভি চ্যানেলে প্রেরণ করে পাকিস্তানবাহিনীর পৈশাচিক কর্মকাণ্ড তুলে ধরেন। ফলে বাংলাদেশ সারা বিশ্ব থেকে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে নৈতিক সমর্থন লাভ করে। তিনি টেলিফোন বিভাগের কর্মচারীদের নিয়ে পোড়াদাহে একটি টেলিফোন এক্সচেঞ্জ স্থাপন করে কুষ্টিয়াসহ অত্র এলাকায় মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনা করেন। এদিকে রাজবাড়ি ফরিদপুর অঞ্চলে ঢাকা থেকে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর প্রবেশপথ গোয়ালন্দের ওপর সতর্ক দৃষ্টি রাখেন। তাদের প্রবেশ প্রতিরোধে অস্ত্রসহ সৈন্য পাঠান। ২১ এপ্রিল পর্যন্ত হানাদারবাহিনী গোয়ালন্দ অতিক্রম করে গোয়ালন্দ, রাজবাড়ি ও ফরিদপুরে পৌঁছাতে পারেনি। তাঁর অভূতপূর্ব সাফল্য ৫ এপ্রিল শেখ মুজিবের অবর্তমানে কমান্ডার ইনচার্জ তাজউদ্দিন আহমদ এবং ৭৬ তম বিএসএফ ব্যাটালিয়ন অধিনায়ক লে. কর্নেল এইচআর চক্রবর্তী তাঁকে সীমান্তে স্বাগত জানান। এ সময় তিনি যশোর ব্যুহ ভেঙ্গে দেওয়ার পরিকল্পনায় দর্শনা বর্ডারে ভারতীয় রেললাইনের সাথে বাংলাদেশ রেল লাইনের সংযোগ স্থাপন কাজ সম্পন্ন করেন। তবে  সে সময় ভারত থেকে প্রয়োজনীয় অস্ত্রসস্ত্র না আসায় যশোর মুক্ত করা সম্ভব হয়নি। তাসত্ত্বেও হত্যা ও লুটপাটের উদ্দেশ্যে যশোর ক্যান্টমেন্ট থেকে আগত সৈন্যদের প্রতিহত করতে সমর্থ হন।

এ সময় যশোরের আট মাইল উত্তরে লেবুতলায় হানাদারেরা পৌঁছালে মুক্তিযোদ্ধাদের অতর্কিত আক্রমণে হানাদারবাহিনীর অনেক সৈন্য নিহত হয়। মুক্তিযুদ্ধের শুরুতে এ বীর যোদ্ধার নেতৃত্বে ও পরিকল্পনায় অত্র অঞ্চল হানাদারবাহিনীর প্রাথমিক আক্রমণ থেকে মুক্ত থাকে। পরবর্তীতে সর্বাত্মক মুক্তিযু্দ্ধ শুরু হলে তাঁকে ৮নং সেক্টরের দায়িত্ব প্রদান করা হয়। তার অধীনে ছিল ফরিদপুর, কুষ্টিয়া, যশোর ও খুলনা অঞ্চল। সেক্টর কমান্ডার হিসাবে তাঁর সাহসিকতা, কুশলতা, সফলতা কিংবদন্তিস্বরুপ। তিনি আমাদের তথা বাংলাদেশের মানুষের অহঙ্কার, জাতির গৌরব। তাঁর লেখা ‘এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম’ একটি প্রামাণ্য দলিল। তিনি সাহিত্যকর্মের জন্য বাংলাদেশ ইতিহাস পরিষদ ও ফরিদপুর সাহিত্য ও সংস্কৃতি উন্নয়ন সংস্থা কর্তৃক ‘আলাওল সাহিত্য পুরস্কার’ লাভ করেন।

Additional information