অর্থনীতি ক্রমধারা - পৃষ্ঠা নং-১১

রাজবাড়িতে এ শিল্প স্থাপনে যারা বিশেষভাবে ভূমিকা রাখেন তাদের মধ্যে গোয়ালন্দের শেখ ইদ্রিস আলী অন্যতম। একটি দেশের শিল্পদোক্তা শ্রেণি দেশের উন্নয়নে বিশেষ ভূমিকা রাখেন। এ শ্রেণি দেশের শাসন ও পরিকল্পনা প্রণয়নে সক্রীয় অংশগ্রহণ না করলেও শ্রম, মেধা আর অর্থ দিয়ে উৎপাদন, কর্মসংস্থানের সৃষ্টি করে দেশ গড়ার উজ্জ্বল স্বপ্ন দেখায়। ইদ্রিস আলী শেখ রাজবাড়ি জেলার এমন এক স্বাপ্নিক যিনি আজীবন সাধনায় নিজের ভাগ্য খোলার চেষ্টায় খুলে দিয়েছেন রাজবাড়ির উন্নয়নের দ্বার। তার নিরলস প্রচেষ্টায় স্থাপন করেছেন দেশের বৃহত্তম পোল্ট্রি শিল্প গোয়ালন্দ হ্যাচারীজ। গোয়ালন্দ হ্যাচারীজের উৎপাদন ক্ষমতা ব্যাপক। সপ্তাহান্তে বাচ্চা বিক্রির পরিমাণ প্রায় ২০ হাজার যার আনুমানিক মূল্য ২৫,০০,০০০.০০ টাকা। এ শিল্পের উন্নতি দেখে অর্থনীতির ডিমোস্ট্রেশনের সূত্র ধরে গোয়ালন্দে গড়ে উঠেছে বাংলাদেশ হ্যাচারীজ, পদ্মা হ্যাচারীজ, মডার্ন হ্যাচারীজ। জেলার অন্যান্য স্থানে তা ছড়িয়ে যাচ্ছে। ব্যাপকভাবে পোল্ট্রি শিল্প গড়ে উঠলেও স্থানীয়ভাবে বা বাংলাদেশে এর খাদ্য উৎপাদন না হওয়ায় খরচ বেশি হচ্ছে। মানুষের খাদ্যাভাস পরিবর্তন হয়েছে। ক্রয় ক্ষমতা বৃদ্ধি পেয়েছে। মানুষ স্বাস্থ্য সচেতন হওয়ায় ডিম ও গোশতের প্রতি তাদের ঝোঁক বেশি দেখা যাচ্ছে। এ শিল্পটির প্রতি সকল স্তরের মানুষের পৃষ্ঠপোষকতা থাকা উচিত। শুধু এর উপর ভিত্তি করেই রাজবাড়ির মানুষ ভাগ্যের আমূল পরিবর্তন করে দিতে পারবে। প্রয়োজন শুধু এর বিকাশ ও টিকিয়ে রাখার জন্য সকল স্তরের মানুষের নির্ভেজাল আন্তরিকতা।

ভিপিকেএ

রাজবাড়ি পূর্ব থেকেই অর্থনৈতিকভাবে অপেক্ষাকৃত পশ্চাৎপদ এলাকা। নদনদী পরিবেষ্টিত পলিমাটির প্রভাবে এলাকাটি উর্বর হলেও নদী ভাঙ্গন, বন্যা, খরা, সেচের অভাব শিক্ষার অভাব, অসচেতনতা এলাকাটিকে পিছিয়ে রাখে। আশির দশকের মাঝামাঝি থেকে এলাকার অবস্থার পরিবর্তন হতে থাকে। ক্ষুদ্র ঋণ ব্যবস্থার মাধ্যমে মানুষের অবস্থার পরিবর্তনে স্থানীয়ভিত্তিতে গড়ে ওঠে ভিপিকেএ বেসরকারি সংস্থা। এ সংস্থা প্রতিষ্ঠা থেকে বর্তমান পর্যন্ত যিনি তার মেধা, শ্রম, অধ্যাবসায় এবং নিবেদিত প্রাণ কর্মি হিসেবে দেশের সেবা করে চলেছেন তিনি আঃ ছাত্তার। ২০/১২/৮১ তে জাহানারা বেগমের বাসায় আহম্মদ আলীর মৃধার পুত্র আহম্মেদ মর্তফার পৃষ্ঠৃপোষকতায় এ সংস্থাটি গড়ে ওঠে। বর্তমানে এ সংস্থা রাজবাড়ি জেলা ছাড়াও ফরিদপুর, শরিয়তপুর, ঢাকা, মাগুরা, দৌলতপুর প্রভৃতি স্থানে কাজ করছে। সংস্থাটি কর্মসংস্থানসহ উন্নয়ন চেতনায় বিশেষ ভূমিকা রাখছে।

কেকেএস

মানবসেবার কৌশল বিভিন্নমুখী। রাজনীতিক, শিক্ষক, উদ্যোগক্তা বা প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী মানবসেবার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন। রাজবাড়ির বিশেষ এক ব্যক্তিত্ব ফকীর আব্দুল জব্বার। একাধারে রাজনীতিক, মুক্তিযোদ্ধা, শিক্ষক ও উদ্যোক্তা হিসেবে মানব সেবায় উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। তার অন্যান্য কর্মকাণ্ডসহ কেকেএস সংগঠনটি দেশের বর্তমান আর্থসামাজিক উন্নয়নে প্রশসংসার দাবিদার। দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নের স্বপ্নদ্রষ্টা নোবেল বিজয়ী মুহাম্মদ ইউনুসের মডেল আজ দেশ-বিদেশে খ্যাত। এমনি একটি মডেলের অনুসরণে ফকীর আব্দুল জব্বার তিলে তিলে নিজের শ্রম আর মেধা দিয়ে গড়ে তুলেছেন রাজবাড়ি কেকেএস প্রতিষ্ঠান। স্থানীয় ভিত্তিতে ১৯৮৫ সালে রাজবাড়ি জেলার ভূমিহীন, বিত্তহীন, নিম্ন আয়ের মানুষের আর্থসামাজিক উন্নয়নকল্পে সংস্থাটি প্রতিষ্ঠিত হয়। এ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে তিনি যেমন সৃষ্টি করেছেন শত শত কর্মহীন যুবকের কর্মসংস্থান তেমনি ঘুরিয়ে দিয়েছেন ভাগ্যহীন দরিদ্র মানুষের ভাগ্যের চাকা। প্রতিষ্ঠানটি জেলার আর্থিক উন্নয়নে আরো অনেককে উদ্বুদ্ধ করেছে এবং উন্নত প্রশাসনিক কাঠামোতে এর আকার আয়তন বৃদ্ধি পেয়ে চলেছে। ‘কর্মই মানুষের জীবন’------এ ব্রতই ফকীর আব্দুল জব্বারের।

Additional information