অর্থনীতি ক্রমধারা - পৃষ্ঠা নং-৬

এ উপন্যাসের প্রকাশকালে (১৯৩৬) কেতুপুর, দেবীগঞ্জ এ অঞ্চলের অবস্থিত স্থান যদিও বর্তমান নামকরণ ভিন্ন যেমন দেবীগঞ্জ ‘দেবগ্রাম’----

পদ্মা, পদ্মার খালগুলি ইহাদের অধিকাংশের উপজীবিকা। কেহ মাছ ধরে, কেহ মাঝিগিরি করে। কুবেরের মতো কেহ জাল ফেলিয়া বেড়ায় পদ্মার বুকে, কুড়োজাল লইয়া কেহ খালে দিন কাটায়। নৌকায় যাহারা মাঝি যাত্রী লইয়া মাছ বোঝাই দিয়া পদ্মায় তাহারা সুদীর্ঘ পাড়ি জমায়। ঋতুচক্রে সময় পাক খায়। পদ্মার ভাঙ্গন ধরা তীঁরে মাটি জমিতে থাকে। পদ্মার বুকে জল ভেদ করিয়া ওঠে চর। অর্ধ শতাব্দীর বিস্তীর্ণ চর পাথার জলে আবার বিলীন বিলীন হইয়া যায়। জেলে পাড়ার ঘরে শিশুর ক্রন্দন কোনো দিন বন্ধ হয়ে নাই।

পদ্মানদীর মাঝিতে পদ্মার পটভূমির জেলেদের কান্নাই কেবল তৎকালীন সমাজচিত্র নয়। এ চিত্র রাজবাড়ি জেলার সকল নিম্নবিত্ত দুঃখ দারিদ্রের চিত্র। চর অঞ্চলের মাঝি, চাষা, কুলি, মজুর যেমন, তেমনি অবস্থা রাজবাড়ির ভর অঞ্চলের ভাষা, মজুর, কুলি, কামার, কুমার, চামার, বাগদীদের।

বৃটিশ শাসনকালের মাঝামাঝি থেকে রেলপথ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, দাতব্য চিকিৎসালয় এবং নীলচাষের বন্ধের ফলে মানুষের আর্থিক সংগতির কিছুটা উন্নতি হতে থাকে। এ প্রসঙ্গে উইলিয়াম হান্টার এবং জেসি জ্যাকস তৎকালীন ফরিদপুর জেলায় যে আর্থিক প্রসঙ্গ তুলে ধরেন তা থেকে এ অঞ্চলের আর্থিক অবস্থার কিছুটা আভাস পাওয়া যায়।

The cultivating classes who formed great much of the population are visibly are better off them informed year, and they are gradually acquiring as a last for the middle class of people however who live on fads salaries do not for well. The increased price of prosier Straitened their circumstance so that they are now said to live in hand and mouth (W.W. Hunter receded the malarial of the people of the Faridpur District in 1875)

১৯৪২-৪৩ এর টেস্ট ইনকুয়ারিতে দেখা যায় প্রতি কৃষক পরিবারের গড় সদস্য সংখ্যা ছিল ৮ জন। প্রতিটি কৃষক পরিবারের গড় ভূমির পরিমাণ ছিল ৩.৭ একর। মূল্য তালিকায় দেখা যায় ১৮৬৭ সালে প্রতি মণ ধানের দাম ছিল ২ টাকা যা ১৯৬৭ সালে হয় ৪০টাকা। ১০০ বছরে ২০ গুন দাম বেড়েছে। কৃষি ফসলের উৎপাদন কম। শতকরা ৯০% মানুষ কৃষক। পাট, ধান, সরিষা, আখ, অর্থকরী ও লাভজনক উৎপাদন। ঘর বাড়ি ছিল বাঁশের খুটিতে উপরে খড় ও ছনের ছাউনি। সাধারণ কৃষক পরিবার মাটিতে বিছানা পেতে শয়ন করে। অপেক্ষাকৃত স্বচ্ছল কৃষক পরিবার চৌকিতে শয়ন করে।

উৎপাদনমুখী কার্যক্রমে কৃষিখৃণ সহায়তায় ১৯০৬ সাল থেকে সমবায় আন্দোলন (Co-oparative monement) ওঠে। এ সময় ফরিদপুর জেলায় Co-operative Society গড়ে ওঠে। এরমধ্যে ‘কুরশী গ্রাম্য বায়তুল মাল’ এবং পাচুরিয়া গ্রাম্য বায়তুল মাল গোয়ালন্দ মহকুমায় স্থাপিত হয়। আর কেন্দ্র্রীয় সমবায় ব্যাংক (Central Co-operative Bank) হয় ফরিদপুর। গোয়ালন্দ, মাদারীপুর, এরমধ্যে গোয়ালন্দ কেন্দ্রীয় সমবায় ব্যাংক তুলনামূলক অগ্রগতি লাভ করে। সমবায় আন্দোলন পরবর্তীতে ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করে ১৯৫০ থেকে ১৯৭০ বিশেষ করে ষাটের দশকে সমবায় সমিতি ইউনিয়ন পর্যন্ত বিস্তার লাভ করে। ১৯৭১ এর স্বাধীনতার পর থেকে সমবায় আন্দোলনটির গুরুত্ব হ্রাস পেতে থাকে। ধীরে ধীরে ঋণ প্রকল্পের স্থান করে নেয় ক্ষুদ্র ঋণ প্রতিষ্ঠান, কৃষি ব্যাংক, বিভিন্ন বাণিজ্যিক ব্যাংক এবং এনজিওসমূহ। বৃটিশ শাসনের মাঝামাঝি থেকে এ অঞ্চলের যাতায়াত ব্যাবস্থার উন্নতি ঘটতে থাকে। ১৮৭১ সালে পূর্বদেশগামী রেলপথ জগতি থেকে গোয়ালন্দ পর্যন্ত সম্প্রসারিত হয়। পদ্মায় গোয়ালন্দ থেকে নারায়নগঞ্জ সারাবছর স্টিমার সার্ভিস চালু থাকে। গোয়ালন্দ রেল সংযোগ থাকায় রাজধানী কলিকাতার সাথে সহজ যোগাযোগ বৃদ্ধি পায়। এ ছাড়া মটর লঞ্চে গোয়ালন্দ ঢাকা, গোয়ালন্দ দাউদকান্দি, গোয়ালন্দ চাঁদপুর যাতায়াত করে। গড়াই নদীতে কামারখালি লাঙ্গলবন্দ, কামারখালি কুষ্টিয়া চলাচল করে। জেলাটি নদীবেষ্টিত হওয়ায় নৌকা, বোট, পানশীতে চন্দনা নদীতে বালিয়াকান্দি পাংশা যাতায়াত করে।

Additional information