অর্থনীতি ক্রমধারা - পৃষ্ঠা নং-৮

এ সব তাঁতে লুঙ্গী, গামছা, মশারি কাপড় তৈরি হত। তাঁতশিল্পীদের সাধারণভাবে কারিগর বলা হত। বর্তমানে তারা তাঁতী শিল্পী বলে পরিচিত। বালিয়াকান্দি রাজবাড়ি শহর-সহ রাজবাড়ির প্রত্যন্ত অঞ্চলে  এ শিল্পের বিকাশ ঘটে। এলাকায় বাঁশের আধিক্য থাকায় গ্রামাঞ্চলে ঝুড়ি, কুলা, চালুন, মাছ শিকারের যন্ত্র উৎপাদিত হতে থাকে। বেতের দ্বারা নানা ব্যবহার্য দ্রব্য যেমন ধামা, কাঠা, চেয়ার, মোড়া ইত্যাদি তৈরি হয়। পাংশায় ও বালিয়াকান্দিতে  এ শিল্পের স্থানীয়করণ ঘটে। রাজবাড়ি জেলার গুড়ের খ্যাতি রয়েছে। ‘নামে খায় বেলগাছির গুড়’ রাজবাড়ি জেলার প্রবাদ বাক্য। জেলায় প্রচুর পরিমাণে আখ উৎপাদিত হত। ডব্লিউ ডব্লিউ হান্টারের ১৮৭০ সালে A statistical Account of Bengal  থেকে জানা যায় রাজবাড়ি ও ফরিদপুরের গুড় দেশ বিখ্যাত।

জেলায় কামার দা, খুন্তা, কুড়াল, বিরানী, কাস্তে তৈরি করত। কুমারেরা মাটির বাসন শানকি, ঘট, বদনা, হাঁড়ি পাতিল বানাত। এ শিল্পটি এখন মৃতপ্রায়। নিন্মে রাজবাড়ি জেলায় গড়ে ওঠা শিল্পগুলি উল্লেখ করা হল।

এমএসআইস কোম্পানি লিঃ স্থাপিত ১৯৩০, উৎপাদন পরিমাণ ২৯০০ মণ। এসমএস পদ্মা আইসফ্যাক্টরি- স্থাপনকাল ১৯৩৬ মোট উৎপাদন ৩২৮৫০ মণ। ড্রাই আইস এন্ড কার্বলিক গ্যাস- স্থাপিত ১৯৩৭ উৎপাদন কার্বন গ্যাস ৩৬০ মণ। এমএস রাজবাড়ি ওয়েল মিল, স্থাপনকাল ১৯৫৭, তেল উৎপাদন ১৯৭০০ মণ। এমএস আনোয়ার সোপ ফ্যাক্টরি স্থাপনকাল ১৯৫৫ উৎপাদনে পাওয়ার স্টেশন বিনোদপুর ১৯৫৩।

ষাটের দশক থেকে রাজবাড়ি জেলায় বেকারী, আইসক্রীম, জুট বেইলিং, রাইস মিল, স-মিল, কাঠের আসবাবপত্র কারখানা, ইটভাটা, জুয়েলারি (পূর্ব থেকে), ঘড়ি মেরামত, বুক বাইডিং, হ্যান্ডলুম, টেইলারিং, ফটোগ্রাফি ইত্যাদি ক্ষুদ্রশিল্পের বিকাশ ঘটে।

 স্যার উইলিয়াম হান্টারের Statistical Account of Bengal ১৮৭৩ থেকে জানা যায়, গোয়ালন্দ মহকুমায় ১৮৬৭ সালে পদমদিতে ডিসপেন্সারি প্রতিষ্ঠিত হয় এবং এটাই ছিল তৎকালীন ফরিদপুর জেলার একমাত্র দাতব্য চিকিৎসালয়। ১৯২০ সালে দুটি ক্যাম্প হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হত। একটি ছিল গোয়ালন্দ ঘাটের ৫৪ বেডের এবং রাজবাড়ি ২১ বেডের। ম্যালেরিয়া, কলেরা, কালাজ্বর, টিবি, পক্সের প্রার্দুভাব ছিল বেশি। সে সময় ক্যান্সা রোগ দেখা যেত না। ১৯৪১ সালে ফরিদপুর জেলায় ক্যান্সারে মৃত্যুর রিপোর্ট নেই। তবে ১৯৬৩ সালে ৩০ জন মারা যায়। এ সময় থেকে ক্যান্সার বৃদ্ধি পেয়ে চলেছে।

ম্যালেরিয়া রোগ নির্মূলের জন্য ম্যালরিয়া কন্ট্রোল স্কীমের আওতায় DDT ছিটানো কার্যক্রম চলে ১৯৪৯ পর্যন্ত। এরপরই এই Malaria Eradication Scheme বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সহযোগিতায় পরিচালিত হয়। কলেরা মহামারী আকারে দেখা দিত। ১৯৫৯-৬০ সালে ফরিদপুর জেলার ৭৪৪টি গ্রামে মহামারী দেখা দেয়। কলেরা নিরাময়ে নানা সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

চিকিৎসাসেবা রাজবাড়িতে ১৮৭২ সালে মহকুমা হাসপাতাল প্রতিষ্ঠিত হয় (বর্তমান এসপি সাহেবের বাসা) ১৯৬৯ সালে শহরের দক্ষিণে আধুনিক হাসপাতাল হিসেবে স্থানান্তর করা হয়। এ হাসপাতালে বেড সংখ্যা ছিল ৫০। ৩২ পুরুষ ১৮ মহিলা। বর্তমানে তা ১০০ শয্যায় উন্নীত হয়েছে। জেলার তৎকালীন স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানসমূহ----

(১) রাজবাড়ি মহকুমা হাসপাতাল স্থাপন ১ সেপ্টেম্বর ১৮৭২ (২) নলিয়াগ্রাম সরকারি আউটডোর ডিসপেনসারি, ১৯৪৯ (৩) রামদিয়া সরকারি আউটডোর ডিসপেনসারি,, ১৯৪৯ (৪) মৃগী সরকারি আউটডোর ডিসপেনসারি, ১৮৯৫ (৫) বসন্তপুর আউটডোর ডিসপেনসারি, ১৯৪৯ (৬) হাবাসপুর আউটডোর ডিসপেনসারি,  ১ ডিসেম্বর ১৯৬৪ (৭) পাংশা আউটডোর ডিসপেনসারি, ১৮৯৫ (৮) কসবামাঝাইল DECH, ১৯২১ (৯)  খানখানাপুর, ১৯২৬ (১০) শ্যামনগর, ১৯৪৬ (১১) আড়কান্দি, ১৯৪০ (১২) খানগঞ্জ, ১৯৪২ (১৩) বাণীবহ, ১৯২৩ (১৪) বরাট, ১৯২৬ (১৫) বহরপুর, ১৯৩৯ (১৬) চন্দনী, ১৯৪০ (১৭) মথুরাপুর, (১৮) রাজাপুর, ১৯৪০ (১৯) উজানচর, ১৯৪০ (২০) মুকুন্দিয়া, ১৯৩৮ (২১) জসাই, ১৯২৫ (২২) গোপালপুর, ১৯২৫ (২৩) বরাট, ১৯২৬ (২৪) সেনগ্রাম ১৯৪৯।

Additional information