অর্থনীতি ক্রমধারা - পৃষ্ঠা নং-৯

এছাড়া পাংশার গোপালপুরে জেলার একমাত্র সরকার পরিচালিত হোমিওপ্যাথী ডিসপেন্সারি ছিল। (তথ্যসূত্র ফরিদপুর গেজেটিয়ার ১৯৭৭ পৃষ্ঠা ২৫৭ ও ২৫৮) এই ডিসপেনসারির প্রথম হোমিও চিকিৎসক ছিলেন আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম এর পিতা মরহুম ডা, একেএম ওয়াহেদ।

১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধে দেশের আর্থিক মেরুদণ্ড ভেঙ্গে পড়ে। সরকারি নীতির আওতায় জেলার একমাত্র গোয়ালন্দ টেক্সটাইল মিলটি জাতীয়করণ করা হয়। ১৯৭৪ সালের দুর্ভিক্ষের প্রভাব রাজবাড়িতে প্রকটতর ছিল না। ১৯৮০ দশকের মাঝামাঝি থেকে জেলার উন্নয়নের ছাপ লক্ষ্য করা যায়। কৃষি অর্থনীতিতে আধুনিকায়ন ঘটে। ১৯৯০ সালের পর থেকে পোলট্রি শিল্পের বিকাশ ঘটে। বিসিক শিল্প নগরীতে রেশম শিল্প ব্যাপক সাড়া জাগায়। গ্রামীণ জীবনে আধুনিকতার ছোয়া লাগে। প্রায় ৪০% গ্রামে বিদ্যুৎ সরবরাহের আওতায় আনা হয়। ফ্রিজ, টিভি অনেকের ঘরে পৌছে যায়। গড়ে উঠতে থাকে পাকা বাড়ি। জেলায় এখন ছনের ছাউনীর ঘরের দেখা যায় না। বিল বাওড় নেই বললেই চলে। প্রায় সর্বত্রই উচ্চ ফলনশীল শস্যের আবাদ। তবে খাদ্য ঘাটতি রয়েছে। রাজবাড়ি শহরের আমূল পরিবর্তন ঘটেছে। ১৯৮০ সালে যেখানে ২/৪টি বিল্ডিং ছিল এখন তার পরিমাণ কয়েক হাজার ছাড়িয়ে গেছে। সব মিলিয়ে জেলাটির আর্থিক বুনিয়াদ শক্ত অবস্থান গ্রহণ করেছে। রাজবাড়ি শহরের চমচম দেশ বিখ্যাত। নির্ম্মল সা (ভাদু সা), শংকর, কাদেরীয়া, লালমোহন তেওয়ারী ও আরো ১০/১২টি মিষ্টির দোকান থেকে প্রতিদিন ২৫/৩০ মণ চমচম ও অন্যান্য মিষ্টি ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে রপ্তানি হয়। শত বছর পূর্বে পশ্চিম থেকে আগত একজন লালমোহন তেওয়ারী যে চমচম প্রস্তুত শুরু করেছিলেন তা আজ রাজবাড়ির ঐতিহ্যে পরিণত হয়েছে। ড. দীনেশচন্দ্র সেনের বৃহৎবঙ্গ গ্রন্থটিতে নলিয়া জামালপুরে এক মণ/দেড় মণ ওজনের মিশ্রির রথ খাজা এবং রামদিয়ার রামের মটকার উল্লেখ আছে। পাংশার চানাচুর ঐতিহ্য বজায় রেখে চলেছে।

রাজবাড়ি জেলায় কয়েকটি পণ্যের মূল্যতালিকা-----

চাউল মোটা ২৮ টাকা থেকে ৩০ টাকা, চাউল চিকন ৩৮ টাকা থেকে ৪২ টাকা, ডাল মসুর ৯০ টাকা থেকে ১০৮ টাকা, তেল সোয়াবিন ৯০ টাকা, মাংস গরু ২৫০ টাকা কেজি প্রতি, মাংস খাসি ৩৫০ টাকা, মুরগি ব্রয়লার ১৩০ টাকা, মুরগি দেশী ২৬০ টাকা, চিনি ৬০ টাকা, মাছ----ইলিশ ৪০০ টাকা কেজি, রুই বড় ২৫০ টাকা পাঙ্গাস ৮৫ টাকা, লবণ ১৫ টাকা, আলু ১০ টাকা ১২ টাকা, পিঁয়াজ ২০ টাকা চমচম ১৬০ টাকা।

সুভাষ চন্দ্র কটন মিল

বৃটিশ ভারতের ক্ষণজন্মা পুরুষ নেতাজী সুভাষ চন্দ্র বসু। রাজনৈতিক দর্শন রাজনীতির ব্যাখ্যা, রাজনীতির চর্চায় তিনি ভারতীয় উপ-মহাদেশের প্রবাদ পুরুষ। রাজনীতিতে নিজ দর্শনের আলোকে গড়ে তোলেন স্বরাজ আন্দোলন। ভারতবাসীর মুক্তির লক্ষ্যে রাজনৈতিক অধিকারের সাথে অর্থনৈতিক কাঠামো সৃষ্টি ছিল তার লক্ষ্য। নেতৃত্ব দেন রাজনীতিতে, নেতৃত্ব দেন অর্থনৈতিক সুবিধা লাভের। তাই সকলের নিকট পরিচিত হন নেতাজী হিসেবে। তার রাজনৈতিক দর্শনের আলোকে এবং স্বরাজ আন্দোলন বিস্তার লক্ষ্যে ১৯২৯/৩০ সালের দিকে সুভাষ চন্দ্র কটন মিল নামে একটি মিল রাজবাড়ি জেলার সূর্যনগরে প্রতিষ্ঠা করার উদ্যোগ নেন। রাজা সূর্যকুমারের পুত্র কুমার বাহাদুরের জমিদারীর সম্পত্তির উপর স্টেশনের উত্তর দিকে মিলটি উদ্ভোধন করা হয়। উদ্ভোধনকালে সেখানে উপস্থিত ছিলেন হুমায়ুন কবির, অম্বিকাচরণ মজুমদার, তমিজ উদ্দীন খান-সহ অনেক বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ। মিলটির স্থাপনা কাজ দীর্ঘদিন চলে কারণ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হিসাবে বৃটিশ ভারতে একাজ কঠিন ছিল। দ্বিতীয় মহাযুদ্ধ আরম্ভ হলে মিলটির স্থাপনা ধ্বংস করে দেওয়া হয়। নেতাজীরও কোনো সংবাদ এরপরে পাওয়া যায়নি। মিলের ধবংসাবশেষ বিশ বছর পূর্বেও দেখা যেত।

Additional information