অর্থনীতি ক্রমধারা - পৃষ্ঠা নং-১০

গোয়ালন্দ টেক্সটাইল মিল

গোয়ালন্দ বিভিন্ন কারণে ঐতিহ্যবাহী স্থান। অনেক পূর্বে গোয়ালন্দের নিকটে কুশাহাটায় চিনি উৎপাদিত হত। গোয়ালন্দ এশিয়া মহাসড়কে ঢাকার মুখে অবস্থিত এবং উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে ষাটের দশকের মাঝামাঝি গোয়ালন্দের ধনাঢ্য ব্যক্তি নিজামউদ্দিন আহম্মেদ গোয়ালন্দের মোড় বলে পরিচিত স্থানের দক্ষিণ পার্শে টেক্সটাইল মিল স্থাপনের পরিকল্পনা গ্রহণ করেন। পরিকল্পনা মাফিক অবকাঠামো নির্মাণ করা হয়। ইতিমধ্যে মুক্তিযু্দ্ধ শুরু হলে মিলটি উৎপাদনে যেতে পারে না। স্বাধীনতার পর মিলটিতে উৎপাদন শুরু হলে তৎকালীন সরকারের কলকারখানা রাষ্ট্রয়ত্ব করার নীতিতে মিলটি রাষ্ট্রয়ত্ব করা হয় এবং তা সরকারের নিয়ন্ত্রণধীন হয়। আশির দশকের প্রথম থেকে বিরাষ্ট্রীয়করণে প্রক্রিয়া শুরু হলে আশির দশকের মাঝামাঝি তা মূল মালিককে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। মিলটির উৎপাদিত সুতা উন্নতমানের। মিলটির আরম্ভকালে উৎপাদিত সুতা মিলগেটে ও স্থানীয়ভাবে বিক্রয় করা হত। বর্তমানে তা ঢাকা-নারায়ণগঞ্জে বিক্রয় করা হয়। এ কাঁচামাল হিসেবে তুলা পাকিস্তান ও মিশর থেকে আমদানী করা হয়। মিলটির কর্মচারীর সংখ্যা ছয়শতের উপর। মিলটি বর্তমানে সুষ্ঠুভাবে পরিচালিত হচ্ছে।

রাজবাড়ি ওয়েল মিল

রাজবাড়ি ওয়েল মিল স্থাপনসহ (১৯৫৫) রাজবাড়ি শহরভিত্তিক শিল্প বিকাশে একজন সফল উদ্যোক্তা হাজী গোলজার হোসেন। কুষ্টিয়ার অতিসাধারণ পরিবার থেকে আসা উদ্যোগী যুবক রেলের কয়লার ব্যবসার সুত্র ধরে রাজবাড়িতে আসেন। উল্লেখ্য রাজবাড়ি অনেক পূর্ব থেকেই মৎস্য ব্যবসার কারণে কিছু বরফকল স্থাপিত হয়। এরমধ্যে লোকোশেড বরফকল, পদ্মা আইস গোয়ালন্দ আইস, গোয়ালন্দ আইস ফ্যাক্টরি উল্লেখযোগ্য। এ সমস্ত বরফকলের, স্থাপনা ছিল লোকোসেড, হাজী মার্কেটে, হাজী গোলজার হোসেনের বাসার পাশে। উক্ত বরফকলগুলি ১৯৩৫ সাল থেকে ১৯৫০ সালের মধ্যে গড়ে ওঠে এবং এর পরিচালনায় থাকেন এছেম আলী বিশ্বাস, কাজী মোকারম হোসেন, মনমথনাথ সেন, হাজী গোলজার হোসেন প্রমুখ। হাজী গোলজার হোসেন নিজ উদ্যোগে একটি বরফকল স্থাপন করেন এবং মনমথনাথ পরিচালিত বরফকলটি ক্রয় করেন। হাজী গোলজার হোসেন পরবর্তীতে নিজ উদ্যোগে স্থাপন করেন রাজবাড়ি শহরভিত্তিক বৃহত্তম শিল্প প্রতিষ্ঠান কাজলি ওয়েল মিল (১৯৫৫)। পরবর্তীতে এর নামকরণ হয়----রাজবাড়ি ওয়েল মিল। রাজবাড়ি, ফরিদপুর, কুষ্টিয়ার মধ্যে এ মিলটি উন্নত তৈল উৎপাদন প্রতিষ্ঠান। স্থানীয় চাহিদা মেটানোর পর এ মিলের উৎপাদিত সরিষা, তিল, তিষি, বাদাম তেল ফরিদপুর, কুষ্টিয়াসহ সারাদেশে রপ্তানি হয়। তাঁর পুত্র আলহাজ্ব দেলোয়ার হোসেন বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও সমাজসেবক।

রাজবাড়ির পোলট্রি শিল্প

পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত-সহ চীন, ইন্দোনেশিয়া প্রভৃতি দেশে অনেক পূর্ব থেকেই ক্ষুদ্র শিল্প হিসেবে পোল্ট্রি শিল্পের বিকাশ ঘটলেও বাংলাদেশে এ শিল্পের প্রসার ঘটেছে অনেক পর বিশেষ করে ১৯৯০ সালের পর থেকে। রাজবাড়ি অবকাঠামোগত ভাবে শিল্প বিকাশের দাবিদার। রাজধানী ঢাকা শহর থেকে মাত্র আড়াই ঘন্টার পথ অতিক্রমণে প্রশস্ত পদ্মার খোলা বাতাসে রাজবাড়ির প্রবেশ পথ গোয়ালন্দ। রাজবাড়ির অবস্থান ঢাকার অদূরে উন্নত সড়ক সংযোগে অবস্থিত। দক্ষিণ বাংলার সাথে রয়েছে উন্নত সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা। রেলপথ, স্থলপথ, বিদ্যুতায়ন দক্ষ শ্রমিকের প্রাচুর্য ইত্যাদি কারণে রাজবাড়িকে শিল্প স্থাপনের স্পট হিসেবে চিহ্নিত করা যায়। সাভার, গাজীপুরে আশির দশক থেকে পোল্ট্র্রি শিল্পের বিকাশ ঘটে।

Additional information