ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান

 চতুর্দশ অধ্যায়

কয়েকটি ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও লাইব্রেরি

একটি জাতি শক্ত শিরদাঁড়ায় দাঁড়াতে পারে একমাত্র শিক্ষাকে ভর করে। তাই শিক্ষা জাতির মেরুদণ্ড। উন্নয়নের সকল পূর্বশর্তের মধ্যে শিক্ষা অন্যতম। অরণ্যানীর যুগ থেকে যখন মানুষ মৃত্তিকার যুগে প্রবেশ করেছে তখন থেকেই উন্নয়ন কৌশল আয়ত্ত রাখার প্রয়োজনে অক্ষরজ্ঞানের অনুশীলনের প্রতি অগ্রগামী হয় এবং নগরায়নের যুগে এসে শিক্ষার প্রতি তীব্র আকাঙ্খা অনুভব করে। শিক্ষা ব্যতীত উন্নয়নের পথে অগ্রগামী হওয়া সম্ভব না, তা সকল জাতির মধ্যে সঞ্চারিত হয়। শিক্ষা থেকে যে জাতি যত দূরে রয়েছে সে জাতির উন্নয়ন তত শ্লথ। উন্নত জীবন বিকাশে শিক্ষার অত্যাবশ্যকতায় নিয়ন্ত্রিত, সুশৃংখল, প্রয়োজনীয় শিক্ষার নিমিত্তে গড়ে ওঠে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। তাই শিক্ষা বিস্তারে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের গুরুত্ব অপরিসীম।

রাজবাড়ি সরকারি কলেজ

রাজবাড়ি সরকারি কলেজ রাজবাড়ি সরকারি কলেজ লাইব্রেরিরাজবাড়ি সরকারি কলেজ ভবনবৃটিশ শাসনের প্রায় ১০০ বৎসর পর থেকে এদেশে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা কাঠামোগত রুপ নেয়। উচ্চ শিক্ষার প্রাতিষ্ঠানিক বিষয়টি কলকাতাকেন্দ্রীক থাকলেও সিপাহী বিদ্রোহের পর জমিদার শ্রেণির ‍পৃষ্ঠপোষকতায় উচ্চ শিক্ষার নিমিত্তে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠতে থাকে। রাজবাড়ি জেলার তৎকালীন জমিদার রাজা সূর্যকুমার ১৮৮৮ সালে স্থাপন করেন রাজা সূর্যকুমার ইনস্টিটিউশন (RSK)। পরবর্তীতে গোয়ালন্দ মডেল হাই স্কুল, খানখানাপুর সুরাজ মোহিনী হাই স্কুল, পাংশা জর্জ হাই স্কুল, হাবাসপুর উচ্চ বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা পায়। এ পর্যায়ে বিগত শতকের পঞ্চাশ দশকের শেষ পর্যন্ত বালিয়াকান্দি, মৃগী, সমাধিনগর, নাড়ুয়া, নলিয়া জামালপুর, রামদিয়া, বেলগাছি, রতনদিয়া, মাছপাড়া মাধ্যমিক বিদ্যালয় গড়ে উঠলেও ১৯৬১ সালের পূর্ব পর্যন্ত জেলায় উচ্চ শিক্ষার নিমিত্তে কোনো কলেজ গড়ে ওঠেনি। রাজবাড়ি জেলা অবহেলিত অনুন্নত এলাকা বলে চিহ্নিত হলেও শিক্ষার প্রতি মানুষের আকঙক্ষা সকল সময়েই প্রবল ছিল। আর উচ্চ শিক্ষার তীব্র আকাঙক্ষায় তখন এ এলাকার বহু মেধাবী ছাত্র পার্শ্ববর্তী ফরিদপুর রাজেন্দ্র কলেজ, কুষ্টিয়া কলেজ, মাগুরা সোহরাওয়ার্দী কলেজ-সহ দেশের দূর-দুরান্তের কলেজে পড়তে যেত। বিষয়টি এলাকার মানুষের মনে তীব্রভাবে নাড়া দেয়। এ নিয়ে ভাবতে থাকেন এলাকার অনেক গণ্যমান্য ও বিত্তশালী ব্যক্তি। এ বিষয়ে কাজী হেদায়েত হোসেন, ডা. একেএম আসজাদ, ডা, এসএম ইয়াহিয়া, অমলকৃষ্ণ চক্রবর্তী, বৃন্দাবন দাস, ফজলুল হক মুক্তার, অ্যাডভোকেট আবুল কাশেম মৃধা, অ্যাডভোকেট আব্দুল জলিল মিয়া, ডা. জলিলুর রহমান, মরগুব আহম্মেদ, ডা. আজাহার উদ্দিন, আঃ হানিফ মোল্লা (গোয়ালন্দ) বিশেষভাবে স্থানীয় পর্যায়ে কলেজ স্থাপনের উদ্যোগ গ্রহণ করেন। এরমধ্যে রাজবাড়িতে মহকুমা প্রশাসক নিযুক্ত হয়ে আসেন কাজী আজহার আলী। কাজী আজহার আলী এমন একজন কর্মকর্তা যার ভাবনা যেন মানুষের কল্যাণ আর উন্নয়নকে নিয়ে। কলেজ প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে তিনি বিপুল উদ্যোগ নিয়ে এগিয়ে আসেন। উল্লেখ্য তখন কলেজ প্রতিষ্ঠার জন্য অর্থ, সম্পত্তি, ছাত্র থেকে শুরু করে অনুমোদন পাওয়া ছিল এক দুরুহ ব্যাপার। তা সত্ত্বেও কাজী আজহার আলী স্থানীয় বিদ্যোৎসাহী ব্যক্তিদের নিয়ে এগিয়ে আসেন কলেজ প্রতিষ্ঠাকল্পে। এ উদ্দেশ্যে কমিটি গঠিত হয়। কমিটির চেয়ারম্যান ছিলেন কাজী আজহার আলী, সম্পাদক মামুনুর রশিদ (সেকেন্ড অফিসার), যুগ্ন সম্পাদক ডা. একেএম আসাজাদ, সদস্য ছিলেন কাজী হেদায়েত হোসেন, অ্যাডভোকেট আব্দুল জলিল মিয়া, অ্যাডভোকেট আবু হেনা, ফজলুল মুক্তার।

Additional information