ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান - পৃষ্ঠা নং-২

রাজবাড়ি সরকারি কলেজ প্রতিষ্ঠার প্রথম কমিটি

রাজবাড়ি কলেজ প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে এলাকার জনগণের ভূমিকা স্মরণযোগ্য। যে যেভাবে পেরেছেন সে সেভাবেই কলেজ প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে এগিয়ে এসেছিলেন। অর্থ, জমি, জায়গীর, অনারারী সার্ভিস এমন কি মুষ্ঠি চাল দিয়েও কলেজ প্রতিষ্ঠা ক্ষেত্রে এলাকার জনগণ অবদান রেখে গেছেন।

রাজবাড়ি স্টেশন থেকে আধা কিলোমিটার পশ্চিমে ব্যাপ্টিস্ট মিশনের শত বৎসরের ঐতিহ্যবাহী দোতালা বিল্ডিং ৪৭ শতাংশ জমি-সহ ব্যাপ্টিস্ট মিশনের পক্ষে শিমশন চৌধুরী আতাইকোলা, গভর্নিং বোর্ডের পক্ষে রেজিস্ট্রি করে দেন। পরবর্তীতে আশে পাশের অনেক জমি ক্রয় ও দানের মাধ্যম বর্তমান কলেজের জমির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৪ একরের উপর। ১৯৬১ সালে ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করেন তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নর আযম খান। ১৯৬১ সালের ২৩ জুন কলেজ উদ্বোধন করেন তৎকালীন মহকুমা প্রশাসক কাজী আজাহার আলী। প্রথম বৎসরে বর্তমান লাইব্রেরির সামনের চৌ-চালা টিনের ঘরটি ক্লাশ রুম হিসেবে ব্যবহৃত হয় এবং বর্তমান অধ্যাক্ষের কক্ষ এবং অফিস ভবনটিই অধ্যক্ষের কক্ষ এবং অফিস কক্ষ ছিল।

১৯৬১ সালে মানবিক ও বাণিজ্য বিভাগ খোলা হয় এবং ১৯৬২ সালে বিজ্ঞান বিভাগ খোলা হয়। ১৯৬৪ সাল পর্যন্ত ক্লাস বিল্ডিং নির্মাণ না হওয়ায় এবং ছাত্র-ছাত্রীর চাপ বৃদ্ধি পাওয়ায় ১৯৬৩ সালে বর্তমান জেলা স্কুলে (তখন গোয়লন্দ মডেল হাই স্কুল) ক্লাস নেওয়া হত। কলেজ প্রতিষ্ঠালগ্নে বর্তমান সজ্জনকান্দা (কাজী বাড়ির পার্শে)। অধ্যাক্ষের জন্য বাসা হিসেবে প্রশাসন কর্তৃক গৃহীত হয়। এরমধ্যে অধ্যক্ষ নিযুক্ত হয়ে আসেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ওসমান গণি। বাংলাদেশে রয়েছে ছাত্র আন্দোলনের ঐতিহ্য। কলেজ প্রতিষ্ঠার পরপরই ছাত্রলীগ প্রতিষ্ঠা পায়। ছাত্রলীগের নেতৃত্বে ছিলেন চিত্তরঞ্জন গুহ, লতিফ বিশ্বাস, নজিবর রহমান, আমজাদ হোসেন প্রমুখ। তৎকালীন সময়ে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড অনেকাংশে নিয়ন্ত্রিত ছিল। কলেজ প্রতিষ্ঠার পরে ছাত্র সংগঠনের পক্ষ থেকে শহীদ মিনার নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হয়।

Additional information