ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান - পৃষ্ঠা নং-১১

এরমধ্যে পূর্ববাংলায় ১৩টি। এ অঞ্চলে ১৮৯১ সালে পাবনা পাবলিক লাইব্রেরি, ১৯০৭ সালে রামনারায়ণ সরকারি পাবলিক লাইব্রেরি (লোহাগড়া নড়াইল), ১৯১৪ সালে উডহেড পাবলিক লাইব্রেরি, রাজবাড়ি। ১৯২০ সালে করোনেশান পাবলিক লাইব্রেরি, গোপালগঞ্জ প্রতিষ্ঠিত হয় (বাংলা সংস্কৃতির শতবর্ষ পৃষ্ঠা-৬৩৩)। উডহেড পাবলিক লাইব্রেরি স্থানীয় সম্ভ্রান্ত ব্যক্তিবর্গ এবং তৎকালীন ফরিদপুরের ম্যাজিস্ট্রেট স্যার জন শেফার্ড উডহেড এর উদ্যোগে গড়ে ওঠে এবং এর নামকরণ হয় উডহেড পাবলিক লাইব্রেরি। টিনের চালাঘরে উডহেড লাইব্রেরির সাইনবোর্ড দেখা যেত। লাইব্রেরিটিতে অতি দুর্লভ পুস্তক--------The Historian's History of the world Eddited by Henry Smith Williums, published in 1907, পুস্তকের ৩০টি ভলিউম সযত্নে তাকে রক্ষিত আছে। মুকুন্দিয়ার জমিদার দ্বারকানাথ ঠাকুরের বাড়ির অনেক আসবাবপত্র মুক্তিযুদ্ধের সময়ে এখানে দেওয়া হয়। ১৯৫৪ সালের দিকে একে ফজলুল হক উক্ত লাইব্রেরিটি পরিদর্শন করেন এবং পুস্তকের সংখ্যা সন্তোষজনক বলে মন্তব্য করেন। বর্তমানে পুস্তকের সংখ্যা ৭/৮ হাজার। উটহেড লাইব্রেরির চালাঘর পরিবর্তন হয়ে দোতালা বিল্ডিং হয়েছে। বদলে গেছে তার নাম। বর্তমানে তা ‘রাজবাড়ি পাবলিক লাইব্রেরি’ । আমাদের মন থেকে উডহেড লাইব্রেরির নাম মুছে গেলেও ইতিহাসের পাতা থেকে মুছে যায় যায়নি। করুণাময় গোস্বামী সম্পাদিত বাংলা সংস্কৃতির শতবর্ষ গ্রন্থে ৬৩৩ পৃষ্ঠায় উজ্জ্বল অক্ষরে লেখা রয়েছে, ‘১৯১৪ উডহেড পাবলিক লাইব্রেরি রাজবাড়ি, ফরিদপুর।’ বিগত ২৮/০৭/২০০৭ তারিখ পাবলিক লাইব্রেরিতে সোলার এনারজী বা সৌরশক্তিচালিত বিদ্যুৎ বাল্ব প্রজ্জ্বলন করেন সুফিয়া কামালের ছেলে ড. সাজিদ কামাল। শহরে সৌরশক্তির ব্যবহার এই প্রথম। প্লান্টের সমুদয় ব্যয়ভার বহন করেন ড. সাজিদ কামাল ও ড. সুলতানা আলম। বর্তমানে রাজবাড়িতে জেলা সরকারি গণগ্রন্থগার বিপুল আয়তনে গড়ে ওঠলেও প্রাচীন ঐতিহ্যবাহী উডহেড লাইব্রেরি বর্তমানে পাবলিক লাইব্রেরি হিসেবে এর গুরুত্ব কম নয়। লাইব্রেরিটি নিম্নলিখিত কমিটি কর্তৃক কেন্দ্রীয় পাবলিক লাইব্রেরি নীতিমালায় পরিচালিত হয়। লাইব্রেরিটি পূর্বে বৃটিশ কাউন্সিলের আওতাভুক্ত ছিল।

কমিটি

সভাপতি--------জেলা প্রশাসক (পদাধিকার বলে)

সহ-সভাপতি ----- অ্যাডভোকেট সৈয়দ রফিকুছ সালেহীন

সহ-সম্পাদক------- অ্যাডভোকেট আব্দুল ওয়াজেদ বিশ্বাস

বর্তমান কর্মচারী সংখ্যা ৪ (চার) জন। এমদাদুল হক লাইব্রেরিয়ান, মোঃ বদিউল আলম বুলবুল সহকারী লাইব্রেরিয়ান। এর অর্থ বরাদ্দ আশানুরুপ নয়। কর্মচারীদের বেতন নাম মাত্র। শহরের কেন্দ্রস্থলে প্রশস্ত পাকা সড়কের পাশে অবস্থিত লাইব্রেরিটির পাঠকের সংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। ঐতিহ্যবাহী উডহেড পাবলিক লাইব্রেরিটিকে রাজবাড়ির ঐতিহ্য ভেবে এর কাঠামোগত ও গুণগত মান উন্নয়নে সচেষ্ট হওয়া সকলের কর্তব্য।

জেলা সরকারি গণগ্রন্থাগার

রাজবাড়ি শহরের ঈদগাহ ময়দানের পশ্চিমে রেলের ঐতিহ্যবাহী এইন সাহেবের বাংলোর দক্ষিণ পার্শে কোলাহল মুক্ত পরিবেশে রাজবাড়ি জেলা সরকারি গণগ্রন্থগার। ১৯৫৮ সালের ২২ মার্চ ঢাকায় এক বিশেষ সমাবেশে বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় পাবলিক লাইব্রেরি উদ্বোধন করা হয়। তৎকালীন শিক্ষা কমিশনার বলেন ‘এই লাইব্রেরি কেবলমাত্র ঢাকার নাগরিকদের অধ্যয়নের সুযোগ দান করবে না বরং ইহা হইবে দেশের সকল লাইব্রেরির প্রাণকেন্দ্র।’ এরপর কিছু সংখ্যক বেসরকারি লাইব্রেরির পত্তন হয় মহকুমা ও থানা পর্যায়ে। পরবর্তীতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় লাইব্রেরি, ময়মনসিংহ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় লাইব্রেরি, ঢাকার কারিগরী বিশ্ববিদ্যালয়ের লাইব্রেরি, বাংলা একাডেমী, আনবিক শক্তি কেন্দ্র লাইব্রেরি, বরেন্দ্র রিসার্স লাইব্রেরি ও অন্যান্য লাইব্রেরি গড়ে ওঠে।

Additional information