ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান - পৃষ্ঠা নং-১২

এই লাইব্রেরিগুলিকে কেন্দ্র করে গ্রন্থাগার আন্দোলন গড়ে উঠতে দেখা যায়। তবে তদানিন্তন পাকিস্তান আমলে লাইব্রেরি উন্নয়নের জন্য তেমন কিছু করা হয় নাই। ১৯৭৭ সালে বাংলাদেশ সরকার দেশের গ্রন্থাগার উন্নয়নের জন্য চিন্তা ভাবনা শুরু করে। লাইব্রেরি উন্নয়নের জন্য জরীপ পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এ জন্য মিঃ স্টিফেন পার্কনর নামে জনৈক বৃটিশ লাইব্রেরিয়ানকে উপদেষ্টা নিয়োগ করা হয়। তিনি ১৯৭৮ ও ১৯৭৯ সালে প্রধানতঃ বৃটিশ কাউন্সিলের লাইব্রেরিয়ানদের সহায়তায় দেশের ১৭৬টি সাধারণ গ্রন্থাগার জরীপ করে সরকারের কাছে এর উন্নয়নের সুপারিশ পেশ করেন। রাজবাড়িতে উডহেড পাবলিক লাইব্রেরি পূর্বে বৃটিশ কাউন্সিলের আওতাভুক্ত থাকে। ১৯৮২ সালে রাজবাড়ি উডহেড লাইব্রেরির অস্তিত্ব ঠিক রেখে নতুনভাবে পাবলিক লাইব্রেরি প্রতিষ্ঠিত হয় এবং উডহেড লাইব্রেরির দোতলায় কার্যক্রম শুরু হয়। ১৯৮২ সালের ১ সেপ্টম্বর সকল পাবলিক লাইব্রেরি কেন্দ্রীয় পাবলিক লাইব্রেরির সাথে অন্তর্লীন হয়ে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের অধীনে আসে। সারাদেশে ১০টি মডেল লাইব্রেরি প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনায় এ অঞ্চলে রাজবাড়ি, শরিয়তপুর, মাগুরায় জেলা সরকারি গণগ্রন্থগার প্রতিষ্ঠা হয়। ১৩ মার্চ ১৯৯৫ সালে তৎকালীন সংস্কৃতি বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী অধ্যাপিকা জাহানারা বেগম এই ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। অতপর ১৬ মার্চ ১৯৯৭ যুব ও সংস্কৃতি বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের গণগ্রন্থাগারের শুভ উদ্বোধন করেন। এ যাবতকালে লাইব্রেরি পরিচালনার ডিগ্রিধারী প্রফেশনাল লাইব্রেরিয়ান ছিল না। ১৯৯৮ সালের ১ মার্চ মোহাম্মদ হামিদুর রহমান বিএ অনার্স, এমএ (লাইব্রেরি এন্ড ইনফরমেশন সায়েন্স) লাইব্রেরিয়ান হিসেবে যোগদান করেন। বর্তমানে পুস্তকের সংখ্যা প্রায় ১৬ হাজার। ১৯৯৯/২০০০ অর্থবৎসরে অত্র গ্রন্থাগারে ৮ লক্ষ ২৫ হাজার টাকার পুস্তক ক্রয় করা হয়। স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেল, ইঞ্জিনিয়ারিং সকল স্তরের ছাত্রদের জন্য পাঠ্যপুস্তকের সুবিধা রয়েছে। প্রতিদিন (ছুটির দিনে বাদে) সকাল ১১টা থেকে গ্রন্থাগার খোলা থাকে। পাঠ্যপুস্তক ছাড়াও দৈনিক ১০টি, সাপ্তাহিক ৮টি, পাক্ষিক ৪টি, মাসিক ৮টি ত্রৈমাসিক ৩টি সাময়িক রাখা হয়। গ্রন্থাগারে ইতিমধ্যে কম্পিউটার নেটওয়ার্ক শুরু হয়েছে। গ্র্ন্থাগারটি জ্ঞান ভাণ্ডার হিসাবে রাজবাড়ি জেলার মানুষের অমূল্য সম্পদ।

 

 

 

 

Additional information