ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান - পৃষ্ঠা নং-৩

এতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন চিত্তরঞ্জন গুহ, নজিবর রহমান, লতিফ বিশ্বাস, আমজাদ হোসেন-সহ রাজবাড়ি কলেজের অনেক ছাত্র-ছাত্রী। অনেক প্রতিবাদের মুখে ১৯৬২ সালে কলেজের সম্মুখে শহীদ মিনার নির্মাণ করা হয়। উল্লেখ্য উক্ত শহীদ মিনারই অতিতে  রাজবাড়ির কেন্দ্রী শহীদ মিনার। বর্তমানে শহীদ খুশী রেলওয়ে ময়দান রাজবাড়ির কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার। কলেজ প্রতিষ্ঠা লগ্ন থেকেই ছাত্র সংগঠনগুলি শক্তিশালী হতে থাকে। ১৯৬৩ সালের প্রথম নির্বাচনে ছাত্রলীগের পক্ষে চিত্তরঞ্জন গুহ ভিপি এবং আব্দুল লতিফ বিশ্বাস সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে লতিফ বিশ্বাস, কাজী ইকবাল ফারুক, আনোয়ার হোসেন, গণেশ নারায়ণ চৌধুরী ষাটের দশকে ভিপি নির্বাচিত হন এবং নজিবর রহমান, ফকির আব্দুল জব্বার, রেজাউল হক রেজা সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। ষাটের দশকেই ছাত্রলীগের পাশাপাশি ছাত্র ইউনিয়নের সংগঠন গড়ে ওঠে। ছাত্রইউনিয়নের নেতৃত্বে ছিলেন আমিনুর রহমান (পানু ভাই), আব্দুস সাত্তার, আবুল ফালা, আবুল হোসেন-সহ আরো অনেকে।

কলেজ প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই মেধাবী ছাত্র-ছাত্রী কলেজে ভর্তি হতে থাকে। তাদের মধ্যে আবুল কাশেম, আজাহার আলী শেখ, আমিনুর রহমান আবি, রাবেয়া খাতুন, মতিয়র রহমান, কাজী ইকবাল ফারুক, আবুল কালাম, নিত্যরঞ্জন ভট্রাচার্য, সুশিল কুমার বাড়ই, সত্যজিৎ ভদ্র-সহ আরো অনেকে। তৎকালীন সময়ে অধ্যক্ষ ওসমান গণি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সদ্য পাস করা মেধাবী ছাত্রদের শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দান করতেন। তাদের মধ্যে আমিনুল ইসলাম পরবর্তীতে প্রেসিডেন্টের সেক্রেটারী, দীপক কুমার সাহা (অতিরিক্ত সচিব), মজিবর রহমান (নারকোটিস বিভাগে উচ্চপদে আসিন), প্রফেসর মজির উদ্দিন (রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক) প্রফেসর লুৎফর রহমান (অধ্যক্ষ অব.), প্রফেসর মোহাম্মদ আলী খান (অধ্যক্ষ অব.), প্রফেসর শংকর চন্দ্র সিনহা (অধ্যক্ষ অব.), প্রফেসর ড. ফকীর আব্দুর রশিদ (অধ্যক্ষ অব.), প্রফেসর নুরুল ইসলাম, প্রফেসর রস্তম আলী শিকদার (অধ্যক্ষ অব.), মোঃ নাসির হোসেন চৌধুরী বিশেষভাবে স্মরণীয়।

কলেজের ভালো ফলাফলের জন্য অল্প সময়ের মধ্যে ছাত্র-ছাত্রী সংখ্যা প্রায় (দুই) হাজারে পৌঁছায়। ১৯৬৬ সালে ওসমান গণি অধ্যক্ষের পদ থেকে ইস্তফা দিলে মিয়া মোহাম্মদ কায়েম উদ্দিন অধ্যক্ষ হিসেবে যোগদান করেন। তিনি ০১/০৩/৮০ সালে কলেজ সরকারিকরণ পর্যন্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব পালন করেন। তিনি স্নাতক বিজ্ঞান বিভাগ চালুসহ কলেজের সার্বিক উন্নয়নের মাধ্যমে কলেজটিকে শক্ত ভিতের উপর দাঁড় করান। এ কলেজের অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন ওসমান গণি, মোঃ মজিবর রহমান (ভারপ্রাপ্ত), মিয়া মোঃ কায়েম উদ্দিন, মোঃ মোতাহার হোসেন, বিধু ভুষণ চন্দ, প্রফেসর মোঃ এহিয়া ইসলাম মিয়া, প্রফেসর লুৎফর রহমান, প্রফেসর মোহাম্মদ আলী খান, প্রফেসর ড. ফকীর আব্দুর রশীদ, মোঃ সাবদার হোসেন, প্রফেসর সাহ মুহম্মদ ফরহাদ, প্রফেসর মাহতাবুল ইসলাম, প্রফেসর হাফিজুর রহমান, প্রফেসর কেরামত আলী। উপাধ্যক্ষ হিসেবে কর্মরত ছিলেন অধ্যাপক লুৎফুর রহমান, অধ্যাপক হেদায়েত হোসেন, অধ্যাপক আকবর আলী মিয়া, অধ্যাপক সাবদার হোসেন, অধ্যাপক আকবর হোসেন। প্রফেসর আমানউল্লাহ বর্তমান অধ্যক্ষ হিসেবে নিয়োজিত আছেন। উপাধ্যক্ষ হিসেবে নিয়োজিত আছেন মোঃ ফকরুজ্জামান (সহযোগী অধ্যাপক)।

এ কলেজ থেকে জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহে শ্রেষ্ঠ কলেজ শিক্ষকের মর্যাদা পেয়েছেন প্রফেসর মোহাম্মদ আলী খান (দুইবার), প্রফেসর তেজেন্দ্র কুমার চন্দ, সহযোগী অধ্যাপক নিতাই চন্দ্র বসাক, প্রফেসর মতিয়র রহমান (তিনবার), প্রফেসর আকবর হোসেন, প্রফেসর নিত্যরঞ্জন ভট্রাচার্য। শ্রেষ্ঠ প্রতিষ্ঠান প্রধান (কলেজ) প্রফেসর এহিয়া ইসলাম মিয়া, প্রফেসর মোহাম্মদ আলী খান, প্রফেসর ড. ফকীর আব্দুর রশীদ, প্রফেসর সাবদার হোসেন। কলেজের সৃষ্টিলগ্ন থেকে আজ পর্যন্ত হাজার হাজার ছাত্র-ছাত্রী বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন। কলেজের অগ্রগামী কর্মকাণ্ডের জন্য ১৯৯৬-৯৭ শিক্ষাবর্ষ হতে ক্রমান্বয়ে ১২টি বিষয়ে অনার্স খোলা হয়েছে এবং বর্তমানে কলেজটি মাস্টার্স কোর্স খোলা হয়েছে। আশা করা যায় অচিরেই কয়েকটি বিষয়ে মাস্টার্স কোর্স খোলা সম্ভব হবে। রাজবাড়ি কলেজটি জেলার একটি ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠান।

Additional information