ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান - পৃষ্ঠা নং-৮

রাজা সূর্যকুমার ইনস্টটিউশন

রাজা সূর্য্যকুমার ই্নস্টেটিউশন ‘বেশ তো স্কুল কলেজে তালা লাগাইয়া চলিয়া যাও। আমি স্কুল করিয়াছিলাম যখন রাজবাড়ির চর্তুদিকে ২০ মাইলের মধ্যে কোনো স্কুল ছিল না একমাত্র ফুরিদপুর জেলা স্কুল ছাড়া। রাজবাড়তে মাত্র ঈশ্বর পণ্ডিতের পাঠশালা ছিল তাহাও ভালোরুপে চলিত না। আমি স্কুল করিবার ৫ বৎসর পর বাণীবহের বাবুরা স্কুল করিলেন গোয়ালন্দ হাইস্কুল। এখন আর আমার স্কুল করিবার কী প্রয়োজন ছিল? একথা স্বয়ং রাজা সূর্য কামারের যা ত্রৈলোক্যনাথ ভট্রাচার্য রচিত আমার স্মৃতিকথা গ্রন্থের ১৭ পৃষ্ঠায় লেখা আছে। ত্রৈলোক্যনাথ ১৯০২ সালে যখন আরএসকে স্কুলের প্রধান শিক্ষকের পদ ছেড়ে দিয়ে কানুনগো চাকরি নিতে মনস্থির করেন তখন একদিন পদ্মায় গ্রীনকেটে রাজার সাথে এভাবেই কথা হয়। এর পর ত্রৈলোক্যনাথ বিদ্যালয় ছেড়ে যাননি।

রাজা সূর্যকুমার অত্র অঞ্চলে উচ্চ শিক্ষা বিস্তারে ১৮৮৮ সালে রাজা সূর্যকুমার ইনস্টিটিউশন প্রতিষ্ঠা করেন। বর্তমান মূল ভবনের পশ্চিমপার্শে (নতুন ভবন যেখানে) টিন শেড নির্মিত স্কুল শুরু হয়। রাজা ৫,০০০ টাকায় মূল ভবনের কাজ শুরু করেন। তিনি জীবিত অবস্থায় মূল ভবনের প্লিন্থ গড়ে তোলেন। ১৯২৪ সালে প্রধান শিক্ষক ত্রৈলোক্যনাথের উদ্যোগে স্কুলের প্রাক্তন ছাত্র, উকিল, মোক্তার, জনসাধারণ বিশেষ করে রেলওয়ে কর্মীদের সাহায্য পান। ‘এসডিও সাহেবের সহিত ট্রলিতে গোয়ালন্দ ঘাট খানখানাপুর, পাঁচুরিয়া যাইয়া কিছু টাকা সংগ্রহ করা গেল (স্মৃতিকথা), পিডব্লিউ আই (রেলওয়ে) সম্পূরণ সিং লেবার ও ম্যাটেরিয়াল দেন। শিক্ষকগণ বেতনের টাকা থেকে চাঁদা ও ডোনেশনের ৫০০০.০০ টাকা সংগৃহীত হয়। এভাবে বিল্ডিং তৈরি হয়। কলিকাতা থেকে শ্বেত পাথর এনে দাতাদের নাম দেয়া হয়। আলহাজ্ব হাফিজ উদ্দিন আহমদ ১৯৬৫ থেকে ১৯৯৫ সাল পর্যন্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করেন। তাঁর প্রচেষ্টায় বিদ্যালয়ের অবকাঠামোর প্রভৃতি উন্নতি সাধিত হয়। হাফিজ উদ্দিন অবসরে গেলে আলহাজ্ব মোসলেম উদ্দিন খান প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করেন। মোঃ মোসলেম উদ্দীন সাহেবের উদ্যোগে এবং সরকারি অনুদানে বিদ্যালয়টি মেরামত করা হয়। প্রাচীন মডেলের বিদ্যালয়টি জেলার ঐতিহ্য ধারণ করে আছে। বিদ্যালয়ের এককালের প্রধান শিক্ষক ত্রৈলোক্যনাথ ভট্রাচার্যের নামসহ সকল প্রধান শিক্ষক এবং অন্যান্য শিক্ষকবৃন্দের প্রচেষ্টায় ফলাফল সব সময়েই ভালো। এ বিদ্যালয়ে পাঠ গ্রহণ করছেন বিখ্যাত সাহিত্যিক সন্তোষ কুমার, মেধাবী ছাত্র নেহাল উদ্দীন। শিক্ষকতা করেছেন এয়াকুব আলী চৌধুরীর মতো দেশের বিশিষ্ট সাহিত্যিক। বর্তমান প্রধান শিক্ষক মোঃ আমিনুল ইসলাম বিদ্যালয়ের সার্বিক উন্নয়নে নিবেদিত প্রাণ শিক্ষক হিসেবে কাজ করেছেন।

পাংশা কলেজ

রাজবাড়ি জেলায় বাংলা, রাষ্ট্রবিজ্ঞান, ব্যবস্থাপনা, ভূগোল, সমাজবিজ্ঞান বিষয়ে মাস্টার্স ডিগ্রি পড়ার সুযোগ পাওয়া যায়। এ সুযোগটি কয়েক বৎসর পূর্বেও ছিল না। পাংশার কয়েকজন বিদ্যোৎসাহী ব্যক্তির দ্বারা তা সম্ভব হয়েছে। ১৯৬৯ সালে ডা. একেএম আসজাদ, ডা. রহমত আলী, ডা. গহর উদ্দিন মণ্ডল, ডা. খোন্দকার নুরুল ইসলাম, ডা. মৃধা আব্দুল জলিল, ডা. রহমত আলী, ডা. হীরালাল আগারওয়ালা-সহ স্থানীয় বিদ্যোৎসাহী ব্যক্তিবর্গ ও জনগণের প্রচেষ্টায় গড়ে ওঠে পাংশা কলেজ। পরবর্তীতে ডা. একেএম আসজাদ, মোঃ জিল্লুল হাকিম, নাসিরুল হক সাবু, আব্দুল মতিন-সহ অনেকের প্রচেষ্টায় কলেজটি অগ্রগামী হতে থাকে।

Additional information