ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান - পৃষ্ঠা নং-৯

প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই কলেজের অধ্যক্ষের দায়িত্ব পালন করেন মোঃ আরশাদ আলী। তিনি একাধারে ২০ বৎসর প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ হিসেবে স্থানীয় জনগণের সহায়তায় কলেজটিকে উন্নয়নের পথে এগিয়ে নেন। পরবর্তী অধ্যক্ষবৃন্দ অল্প সময়ের জন্য থাকেন। পাংশা কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের প্রবীণ শিক্ষক এবং উপাধ্যক্ষ এটিএম রফিকউদ্দিন বেশ কছিুকাল যাবৎ ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের পদে থেকে এর উন্নয়নকে অগ্রগামী করেছেন। পাংশা রাজবাড়ি জেলার বৃহত্তম উপজেলা এবং যাতায়াত উন্নত। কলেজটিতে মাস্টার্স খোলার ব্যাপারে অনেকেই উৎসাহী হন এবং এদের মধ্যে ডা. আসজাদ অন্যতম।

১৯৯৩ সাল থেকে বাংলা, রাষ্ট্রবিজ্ঞান, ব্যবস্থাপনা, সমাজ বিজ্ঞান, ভূগোল বিষয়ে মাস্টার্স খোলার কয়েক বৎসর পরই অনার্স খোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়। মোঃ জিল্লুল হাকিম, অধ্যক্ষ এটিএম রফিক উদ্দিন, কলেজের অন্যান্য শিক্ষকসহ সকলের প্রচেষ্টায় কলেজটিতে ১৯৯৮-৯৯ সেশন থেকে বাংলা, রাষ্ট্রবিজ্ঞান, ব্যবস্থাপনা, গণিত, সমাজ বিজ্ঞান বিষয়ে অনার্স খোলা হয়েছে। ছাত্র-ছাত্রীদের সংখ্যা আশানুরুপ এবং কলেজটির বোর্ড/বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষার ফলাফল সন্তোষজনক। কলেজটির অবকাঠামোগত অবস্থা, ছাত্র-ছাত্রীর সংখ্যা, পরীক্ষার ফলাফল শিক্ষকবৃন্দের দক্ষতা সব মিলিয়ে তা সরকারি হওয়ার দাবিদার হলেও এ পর্যন্ত কলেজটিকে সরকারিকরণ করা হয় নাই। বেসরকারি কলেজ হয়েও অনেক বাধা বিপত্তিকে অতিক্রম করে পাংশা কলেজ এ জেলার উচ্চ শিক্ষার প্রসার ঘটিয়ে চলেছেন।

রাজবাড়ি সরকারি উচ্চ বালক বিদ্যালয় (জেলা স্কুল)

রাজবাড়ি জেলা স্কুলরাজবাড়ি সরকারি উচ্চ বালক বিদ্যালয়ের পুরাতন বিল্ডিংটির গায়ে লেখা থেকে জানা যায় বিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাকাল ১৮৯২ সাল। বিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাকাল নিয়ে মতভেদ রয়েছে। বাংলা একাডেমী কর্তৃক প্রকাশিত চরিতাভিধানে ১৬৭ পৃষ্ঠায় দেখা যায় বিখ্যাত সাহিত্যিক ও সাংবাদিক জলধর সেন ১৮৮১ সালে গোয়ালন্দ হাই স্কুলে শিক্ষক নিযুক্ত হয়ে আসেন। শিক্ষকতাকালে স্ত্রী, কন্যা, মাতাকে হারিয়ে মনের প্রশান্তি লাভের জন্য তিনি হিমালয়ে যাত্রা করেন। তথ্যানুসন্ধানে জানা গেছে বর্তমান যেখানে রাজবাড়ি জেলা স্কুলের পুরনো দালান রয়েছে, সেখানে ছনের গৃহে গোয়ালন্দ এমই বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত ছিল। দোতলা পাকা দালান হওয়ার পর এর নামকরণ হয় গোয়ালন্দ মডেল হাই স্কুল এবং এসময় দালানের গায়ে লেখা হয় এর প্রতিষ্ঠাকাল ১৮৯২। প্রকৃত পক্ষে বিদ্যালয়টির সূচনা হয়েছিল অনেক পূর্বে সম্ভবত ১৮৭০ সালে। তখনও রাজবাড়ি নামটি মুখে মুখে থাকলেও লিখিতভাবে সবকিছু পরিচয় ছিল গোয়ালন্দ। সে হিসেবে বিদ্যালয়টির নামকরণ হয় গোয়ালন্দ মডেল হাই স্কুল। যা বাণীবহের জমিদার গিরিজাশংকর মজুমদার কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত। বিদ্যালয়টিতে শতবর্ষ পূর্তি অনুষ্ঠান অত্যন্ত জাঁকজমকের সাথে পালিত হয়। বিদ্যালয়টি এ অঞ্চলের অতি পুরাতন এবং ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠান। এ বিদ্যালয়ে পাঠ গ্রহণ করেছেন দেশের অনেক বরেণ্য ব্যক্তি। ড. কাজী মোতাহার হোসেন এ বিদ্যালয়ের ছাত্র ছিলেন। তার জেষ্ঠ্য কন্যা তার নামে কয়েকবৎসর একটি বৃত্তি চালু রেখেছিলেন। এ বিদ্যালয় থেকে অনেক ছাত্র বোর্ডে বিভিন্ন সময়ে স্ট্যান্ড করে। ১৯৬৮ সালে বিদ্যালয়টি সরকারিকরণ করা হয়। তৎকালীন প্রধান শিক্ষক নূরুল হক সাহেবের নাম বিশেষভাবে স্মরণীয়। বিদ্যালয়ের পুরাতন ভবনটি এখন রাজবাড়ির কেবলই প্রাচীন ঐতিহ্যের বাহন। কালের বিবর্তনে হয়ত একদিন তাও বিলীন হয়ে যাবে, সে স্থানে নির্মিত হবে আগামী ইতিহাস রচনার নতুন ভবন। কালের গতিতে এমন করেই ইতিহাস বদলায়। ইতিহাস তার সিঁড়ি ভেঙ্গে ওপরে উঠতে থাকে। বর্তমান সৈয়দ সিদ্দিকুর রহমান বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হিসেবে কর্মরত আছেন।

নাড়ুয়া লিয়াকত আলী মেমোরিয়াল হাই স্কুল

সে সময়ের খরস্রোতা গড়াই আর উত্তরপূর্ব থেকে প্রবাহিত চত্রা নদীর মিলনস্থল নাড়ুয়া বাজার। পশ্চিমে বাদশাডাঙ্গী, দক্ষিণে মদনডাঙ্গি, ডাঙ্গি, বিল এসব গ্রামের উৎপত্তি ইতিপূর্বে লেখা হয়েছে। অনুরুপ নাড়ুয়া নাওয়াড়া থেকে। নাওয়াড়া বিষয়েও বলা হয়েছে। এলাকাটি গড়াই, চত্রার পলিমাটির উর্বর জনপদ। এ অঞ্চলে উৎপাদিত পাট, পিঁয়াজ, রসুন, গুড় ব্যবসায়ের প্রধান কেন্দ্র নাড়ুয়া। উৎপাদিত পন্য গড়াই নদী পথে কামারখালি, খুলনা, কুষ্টিয়া, লাঙ্গলবাধ রপ্তানি হত। এলাকাটির আর্থিক সচ্ছলতা থাকা সত্ত্বেও বৃটিশ শাসনকালে উচ্চ শিক্ষার বিকাশ ঘটেনি। এলাকাটি রানী হর্ষমুখীর জমিদারীভুক্ত ছিল।

Additional information