ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান - পৃষ্ঠা নং-১০

তিনি কলিকাতায় অবস্থান করায় এলাকার উন্নয়নের জন্য স্থানীয়ভাবে কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠেনি। বৃটিশ শাসন এবং জমিদারী প্রথার অবসানকালে ইসমাইল হোসেন মৃধা, আমির আলী মণ্ডল, ইয়ারউদ্দিন মুন্সী শাহাদত হোসেন, ডা. মমতাজ উদ্দিন, মোঃ মুনসুর আলী, পঞ্চানন সাহা, সূর্য সাহা অজিত কুমার সাহা (অপূর্ব কুমার এর বাবা) প্রমুখ ব্যক্তিবৃন্দের উদ্যোগে ১৯৫১ সালে নাড়ুয়া লিয়াকত আলী মেমোরিয়ল হাইস্কুল প্রতিষ্ঠিত হয়। বিদ্যালয়ের নামকরণ বিষয়ে আলোচনা শেষে সদ্য প্রতিষ্ঠিত পাকিস্তানের প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী লিয়াকত আলী খানের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা রেখে নাড়ুয়া লিয়াকত আলী মেমোরিয়াল হাই স্কুল’ রাখার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। উল্লেখ্য লিয়াকত আলী খান ঐ বছরই মৃত্যুবরণ করেন। সুষ্ঠু পরিচালনা এবং শিক্ষকবৃন্দের আন্তরিক প্রচেষ্টায় স্বল্পসময়ের মধ্যে বিদ্যালয়টি সুনাম অর্জন করে। গোপীনাথ সাহা, আবদুল ওয়াজেদ একেএম শামসুদ্দোহা (বাবু স্যার), আজিজুল ইসলাম, নজরুল ইসলাম, প্রশান্ত কুমার প্রমুখ প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করেন। মোঃ ফয়জুল্লাহ (প্রাক্তন সচিব), ডা. প্রশান্ত কুমার, প্রফেসর মতিয়র রহমান, তোফাজ্জল হোসেন (প্রকৌশলী ও সমাজসেবক), আকতারুজ্জামান খান (সমাজসেবক) ডা. আজিজুল ইসলাম, মোতাহার হোসেন (প্রকৌশলী), আবুল কাশেম প্রকৌশলীসহ অনেক উচ্চপদস্থ সরকারি, বেসরকারি কর্মকর্তা এ বিদ্যালয়ের ছাত্র। বিদ্যালয়টি বর্তমানে উচ্চ মাধ্যমিক স্তরে উন্নিত হয়েছে।

শিক্ষার হার ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান একনজরে--------

২০০১ এর সেনসান অনুযায়ী রাজবাড়ি জেলার শিক্ষার হার (সাত বছরের উর্ধে) শতকরা ৪০-৪১। তবে শিক্ষার হার বৃদ্ধি শতকরা ২% ধরে বিগত দশ বছরের বৃদ্ধিতে বর্তমান প্রায় ৬০% যা জাতীয় ৬৭% এর সাথে সঙ্গতি পূর্ণ।

শিক্ষা প্রশিক্ষণ

সরকারি কলেজ----রাজবাড়ি সরকারি কলেজ, সরকারি আদর্শ মহিলা কলেজ। বেসরকারি কলেজ------২০টি, স্কুল এন্ড কলেজ ২টি, মাধ্যমিক বিদ্যালয় ১৪৪টি, কামিল মাদ্রাসা ৩টি, ফাজিল মাদ্রাসা ৮টি, আলিম মাদ্রাসা ৯টি, দাখিল মাদ্রাসা ৪৪টি, সরকারি ভোকেশনাল ১টি, বেসরকারি ভোকেশনাল ১টি, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ২৬৩টি, বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ১৫৬টি, কিন্ডার গার্টেন ইংলিশ মিডিয়াম ২টি কিন্ডার গার্টেন সাধারণ প্রায় অর্ধশতাধিক।

উডহেড পাবলিক লাইব্রেরি

গ্রন্থাগার সম্পর্কিত ধারণাটি অত্যন্ত প্রাচীন। প্রকৃতপক্ষে সভ্যতার জন্মলগ্ন থেকে গ্রন্থাগারের ভূমিকা অসামান্য। গ্রন্থাগার না থাকলে অতীতের অভিজ্ঞাতা ও জ্ঞানের ধারাবাহিকতা রক্ষিত হয় না। ফলে যখনই কোনো দেশে গ্রন্থগার বিলুপ্ত বা ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে তখনি সে দেশ শতবর্ষ পিছিয়ে গিয়েছে। বিভাগপূর্ব বাংলাদেশে সর্বপ্রথম মেদিনীপুরে ১৮৫১ সালে একটি গণগ্রন্থাগার প্রতিষ্ঠিত হয়। মেদিনীপুর কালেক্ট্রয়েট বার্ষিক রিপোর্টের উপর তদানীন্তন বাংলার গভর্নর মন্তব্য করেন।’ মেদিনীপুরের সাধারণ গ্রন্থগার স্থাপনের উপকারিতা ২৩২-২৩৯ অনুচ্ছেদ হতে আভাস পাওয়া যায়। এই প্রস্তাব করা হইতেছে যে বড় বড় শহরে গ্রন্থাগার স্থাপনের প্রচেষ্ঠা করা হউক। উক্ত প্রস্তাব ১৮৫৪ সালে করা হয় যে কারণে, ঐ সালটি ইতিহাসের স্মরণীয় বছর।

ঐ বছরে বাংলাদেশের যশোর পাবলিক লাইব্রেরি, রংপুর পাবলিক লাইব্রেরি, বগুড়া উডবার্ণ পাবলিক লাইব্রেরি ও বরিশাল প্রতিষ্ঠিত হয়। এ সময়ে গণগ্রন্থাগার প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ গ্রহণ করেন স্থানীয় সম্ভ্রান্ত ব্যক্তিবর্গ ও ইংরেজ সিভিল সার্ভেন্ট। লন্ডনে পাবলিক লাইব্রেরি এ্যাক্ট পাস হওয়ার পর তার প্রভাবে বিভাগপূর্ব বাংলাদেশের অন্যান্য অঞ্চলে ১৮৫১ সাল থেকে ১৯৩০ সালের মধ্যে অবিভক্ত বাংলায় প্রায় ৪০টি গণগ্রন্থাগার প্রতিষ্ঠিত হয়।

Additional information