রাজবাড়ি পৌরসভা

পঞ্চদশ অধ্যায়

রাজবাড়ি পৌরসভা

উর, পুর, নল, খিল, তালক, পাঠক ইত্যাদি দ্রাবিড় গোষ্ঠী ব্যবহৃত আদি ও খাঁটি বাংলা শব্দ। এরমধ্যে পুর এর আভিধানিক অর্থ আলয়, নিকেতন, ভবন, শহর বা নগর। পুর থেকে পৌর যার আভিধানিক অর্থ নগরবাসী। স্থানীয় জননিবেশনে জনগণের ভৌত সুবিধাবলীর ব্যবস্থাপনা পৌর শব্দের মূল অর্থ প্রকাশ করে। উক্ত সুবিধাদি স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তির সমন্বয়ে সম্পাদনের ব্যবস্থা করার প্রয়াসে বৃটিশ শাসনকালে স্থানীয় সরকারের নীতি ও বিধিবিধান অনুযায়ী মিউনিসিপ্যালটি গঠন করা হয়। মিউনিসিপ্যালিটির আভিধানিক অর্থ স্বায়ত্বশাসনসস্পন্ন শহর বা অঞ্চল। ১৮৬৯ সালে স্থানীয় সরকারের আওতাধীন ফরিদপুর মিউনিসিপ্যালিটি প্রতিষ্ঠা লাভ করে। ১৮৭৫ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় মাদারীপুর মিউনিসিপ্যালিটি। ফরিদপুর ডিস্ট্রিক্ট বোর্ড ১৮৮৬ সালে কাজ শুরু করে। রাজবাড়ি মিউনিসিপ্যালিটি গঠনের পূর্বে ১৯১৩ সালে ইউনিয়ন

কমিটি গঠিত হয়। ১৯২৩ সালে রাজবাড়ি ইউনিয়ন বোর্ডকে মিউনিসিপ্যালিটিতে রুপান্তর করা হয়। এ সময় মিউনিসিপ্যালিটি ও ডিস্ট্রিক্ট বোর্ডের কার্যক্রম ছাড়াও মহকুমা পর্যায়ে ইউনিয়ন বোর্ড ও ইউনিয়ন কমিটি গঠিত হয়। ১৮৭০ সালের চৌকিদারী আইন প্রথম গ্রাম পর্যায়ে স্থানীয় সরকারের কাজ শুরু করে। ১৮৮০ সালের এ্যাক্ট অনুযায়ী গ্রাম সমষ্টি নিয়ে গ্রাম পঞ্চায়েত গঠিত হয়। ১৮৮৫ সালে প্রতি মহকুমার গঠিত হয় লোকাল বোর্ড। ১৯১৯ সালে  Bengal Village self Government Act ইউনিয়ন কমিটির স্থলে ইউনিয়ন বোর্ড গঠিত হয়। ইউনিয়ন বোর্ডের অধীনে ইউনিয়ন কমিটির কাজের পরিধি বৃদ্ধি করা হয়। ইউনিয়ন বোর্ডকে ট্যাক্স আদায়সহ ‍সুপেয় পানি সরবরাহ, স্বাস্থ্য সুবিধা, শিক্ষাসহ গ্রাম্য পুলিশী (চৌকিদার) ব্যবস্থা গ্রহণের ক্ষমতা দেওয়া হয়। ইউনিয়ন বোর্ডকে ক্ষুদ্রাকার ফৌজদারী ও দেওয়ানী মামলার ভারও দেওয়া হয়। এ সময় গোয়ালন্দ মহকুমার ইউনিয়ন বোর্ডের সংখ্যা ছিল বিশ।

১৯১৩ সালে লক্ষ্মীকোল, বিনোদপুর, সজ্জ্বনকান্দা, ভবানীপুর, চককেষ্টপুর, বেড়াডাঙ্গা ইত্যাদি গ্রাম নিয়ে ইউনিয়ন কমিটি গঠিত হয়। ইউনিয়ন কমিটিকে লোকাল বোর্ড এবং ১৯১৯ সালে লোকাল বোর্ডের নামকরণ হয় ইউনিয়ন বোর্ড। ১৯২৩ সালে ইউনিয়ন বোর্ডকে মিউনিসিপ্যালিটিতে রুপান্তর করা হয়। সে সময় ১৬জন মিউনিসিপ্যাল কমিশনার দ্বারা মিউনিসিপ্যালিটির পরিচালনা বোর্ড গঠিত হত। এরমধ্যে ১০ জন নির্বাচিত, ৫ জন মনোনীত এবং ১জন এক্স-অফিসিও কমিশনার থাকতেন। সমগ্র মিউনিসিপ্যালিটি ৫টি ওয়ার্ডে বিভক্ত ছিল। ১৯২১ সালের সেনসাস অনুসারে লোকসংখ্যা ছিল ৭২৭৫। ১৯২৩-২৪ সালে মোট জনসংখ্যার শতকরা ২১ ভাগ মানুষ করের আওতায় আনা হয়। জনপ্রতি করের হার ছিল সারে বারো আনা। ঐ বছর মিউনিসিপ্যালিটির অন্যান্য আয়সহ মোট আয় ছিল ৮০০০.০০ টাকা। মিউনিসিপ্যালিটিতে বিশুদ্ধ পানি সরবরাহের ব্যাবস্থা ছিল। মিউনিসিপ্যালিটির প্রধান আয়ের উৎস ছিল সরকারি অফিস ও জনগণের উপর ধার্যকৃত কর। সরকারি ভবনের উপর মূল্যমানের উপর ৭.৫% কর ধার্য ছিল।

১৯৬০ সালের মিউনিসিপ্যাল এ্যাডমিনিস্ট্রেশন অর্ডিন্যান্সের মাধ্যমে রাজবাড়ি মিউনিসিপ্যালিটিকে টাউন কমিটি হিসেবে পূর্ণগঠন করা হয়। ৩.৫ বর্গমাইল টাউন কমিটির আওতাভুক্ত ছিল। এ সময় টাউন কমিটির লোকসংখ্যা ছিল ১৬,০৬০। ১৯৬৮ সালে টাউন কমিটির উদ্যোগে লোকসংখ্যা গণনা করা হয়। এ সময় লোকসংখ্যা ছিল ২০,৯৯৮। একজন চেয়ারম্যানসহ মোট ১৩ জন সদস্য দ্বারা এর শাসনকার্য পরিচালিত হত। ১৯৬৭-৬৮ সালে একজন সেক্রেটারী, একজন ট্যাক্স দারোগা, একজন করনিক, একজন ভ্যাকসিনেটর, একজন ইনোকিউলেটর, তিনজন পিয়ন, একজন সাব-ওভারসিয়ার এবং একজন হিসাবরক্ষক দ্বারা পৌর কমিটির স্টাফ গঠন করা হয়। এ সময় মোট করদাতার সংখ্যা ছিল ১৮৯৪। প্রধান আয়ের উৎস ছিল হোল্ডিং ট্যাক্স। মোট ভ্যালুয়েশনের ১০% হারে ট্যাক্স ধার্য হত।

Additional information