সংবাদ পত্র - পৃষ্ঠা নং-২

এ পত্রিকাটি তৎকালীন হিন্দু ও মুসলমান সমাজে অভূতপূর্ব সাড়া জাগায়। অবিভক্ত বাংলায় আসাম, ত্রিপুরায় এ পত্রিকার পাঠক ছিল। এমন কি দক্ষিণ আফ্রিকা ও বার্মায় (মায়ানমার) চাকরিরত বাঙালিরা এ পত্রিকা পাঠ করতেন।

খাতক

অবিভক্ত বাংলায় কাঙ্গাল হরিনাথকে গ্রামীণ সংবাদপত্রের পথিকৃত বলা হয়। একই সমতলের পাংশার খোন্দকার নজির উদ্দিন আহম্মদ ছিলেন তাঁর উত্তরসূরী। তিনি ছিলেন দরিদ্র কৃষক প্রজার দরদী বন্ধু। তিনি একাধারে রাজনিতিবিদ, সাংবাদিক, সমাজসেবক। মানবকল্যাণে নিবেদিত খোন্দকার নজির উদ্দিন সাধারণ মানুষের বঞ্চনা দেখে ব্যাথিত হন। তিনি লেখনির মাধ্যমে তাদের দুঃখ দুর্দশা তুলে ধরতে প্রয়াশী হন। প্রথমেই তিনি ১৯২২ সালে পাংশা কমলা প্রেস থেকে ডিমাই সাইজের ‘গুর্খা’ নামে একটি পত্রিকা প্রকাশ করেন। পত্রিকাটি স্বল্পকাল স্থায়ী হয়। এরপর ১৯২৫ সালে উক্ত প্রেস থেকে ‘কাঙ্গাল’ নামে পত্রিকা প্রকাশ করেন। কাঙ্গাল পত্রিকা প্রকাশের মূল উদ্দেশ্য ছিল ঋণগ্রস্থ প্রজাদের সুদের বেড়াজালে আটকে যাওয়ার করুণ চিত্র তুলে ধরা। গরিব প্রজা, মহাজন, জোতদার, ধনি, বনিকদের থেকে উচ্চসুদে ঋণ নিয়ে কীভাবে সহায় সম্বলহীন কাঙ্গালে পরিণত হচ্ছে তারই চলমান চিত্র কাঙ্গাল পত্রিকায় প্রকাশিত হত। নাজির উদ্দিন সম্পাদিত রায়ত পত্রকাতেও সে তথ্য সন্নিবেশিত হয়। খোন্দকার নজির উদ্দিন আহম্মেদ সম্পাদিত ‘খাতক’ পত্রিকাটি প্রকাশিত হয় ১৯৩৯ সালে। সাপ্তাহিক খাতক কমলা প্রেস পাংশা থেকে প্রকাশিত হত। ১৯৫৮ সালে নাজির উদ্দিন আহমদের মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত ১৯ বছর ধরে পত্রিকাটি প্রকাশিত হতে থাকে। তৎকালীন ফরিদপুর জেলায় খাতকই ছিল একমাত্র পত্রিকা। ১৯৭৭ সালে প্রকাশিত ফরিদপুর গেজেটিয়ার Khatak a weekly jourral was edited and published by Naziruddin from pangsa। কমলা প্রেস বন্ধ হলে খাতক ফরিদপুর মুসলিম প্রেস থেকে মুদ্রিত ও পাংশা থেকে প্রকাশিত হত। এ পত্রিকায় গুরুত্বপূর্ণ সংবাদসহ নিলাম, ইস্তেহার, গল্প, কবিতা, প্রবন্ধ, টিকা টিপ্পনি ছাপা হত। খাতক শ্রেণিবৈষম্যের শিকার উচ্চ শ্রেণির দ্বারা সাধারণ মানুষের শোষণের নানা কৌশল ক্রিয়া খাতকে প্রকাশিত হত। এক পর্যায়ে পত্রিকাটি ফরিদপুর জেলা প্রাথমিক শিক্ষাকগণের মুখপত্র হিসেবে কাজ করে। কবি গোলাম মোস্তফা, কাজী আব্দুল মাজেদ, রিজিয়া, গাফফার চৌধুরী এ পত্রিকায় লিখতেন। শেরে বাংলা একে ফজলুল হক, তমিজ উদ্দিন খান, বাহাদুর ইউসুফ হোসেন চৌধুরী এর পৃষ্ঠপোষক ছিলেন।

সাপ্তাহিক বাণী

১৯৩০ সালের দিকে রাজবাড়ি শহরের প্রেস থেকে সাপ্তাহিক বাণী নামে একটি পত্রিকা প্রকাশিত হত। মনমথনাথ পাল ছিলেন প্রেসের স্বত্ত্বাধিকারী এবং তিনিই পত্রিকাটির সম্পাদক ছিলেন। তিনি ছিলেন কংগ্রেস নেতা। কংগ্রেসের স্থানীয় স্থপতি হিসেবে পত্রিকাটি প্রকাশিত হত। Bani Appeared from Rajbari in 1936 it was edited and published by manmothanath pal.

(ফরিদপুর গেজেটিয়ার পৃ-৩৫১)।

মাসিক চন্দনা

এক সময়ের খরস্রোতা এবং রাজবাড়ি জেলার আংশিক ভূমি গঠনের স্রোতম্বিনী চন্দনার নাম অনুসারে ১৯৬৫ সাল থেকে মাসিক চন্দনা নামে একটি পত্রিকা প্রায় পাঁচবছর নিয়মিত প্রকাশিত হয়। আমি তখন রাজবাড়ি কলেজের স্নাতক শ্রেণির ছাত্র। ডিমাই সাইজের পত্রিকাটি কভার পেজ ছিল আকর্ষণীয়। আমি এর নিয়মিত পাঠক ছিলাম। আমার লেখা দুটি কবিতা ছাপা হয়েছিল। তৎকালীন মহকুমা প্রশাসক নুরুদ্দিন আল মাসুদ এর পৃষ্ঠপোকতায় রাজবাড়ি থেকে প্রকাশিত হতে থাকে। পত্রিকাটির সম্পাদক ছিলেন অ্যাডভোকেট মাজেদ আলী খান। সম্পাদক ছিলেন ড. ফকীর আব্দুর রশিদ। সম্পাদনা ও পরিচালনা পর্ষদে ছিলেন ডা. একেএম আসজাত একেএম আবদুর রাজ্জাক, অধ্যাপক আবদুল ওহাব, ফিরোজা সুলতানা, এমএ মোমেন বাচ্চু মাস্টার, রশীদ মাস্টার মকসুদ আহমেদ প্রমুখ। ড. কাজী মোতাহার হোসেন, বামন দাস গুহরায়, কাজী ইকবাল ফারুক, আমিনুর রহমান আবি, দেবাহুতি চক্রবর্তী নিয়মিত লেখক ছিলেন।

Additional information