স্মরণীয় যাঁরা - পৃষ্ঠা নং-১১

মোঃ খলিল উদ্দিন মিয়া (জজ সাহেব)

মোঃ খলিল উদ্দিন মিয়া পাংশার কলিমোহর ইউনিয়নে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি বিচার বিভাগে যোগদান করেন। যে কারণে তিনি জজ সাহেব বলে এলাকায় পরিচিত ছিলেন। জজ সাহেবের পরিবারটি সমাজকর্মে নিবেদিতপ্রাণ। তার সমাজকর্মের পথ অনুসরণ করে তার পুত্রদ্বয় মোঃ নাসির উদ্দিন,  মোঃ সালাউদ্দিন রাজবাড়ি জেলার সমাজহিতৈষী কর্মে প্রায়শই ব্যস্ত থাকেন। তাদের গড়া ডিডিসি (DDC) ঢাকা, দেশের অন্যতম প্রতিষ্ঠান। ধনাঢ্য পুত্রদ্বয় ভুলে যান নাই এলাকার মানুষকে। স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা, মসজিদ, মন্দির প্রতিষ্ঠান গড়ার কাজে সাহায্য প্রদানে কখনো কুণ্ঠাবোধ করেন না। অতি উৎসাহে এগিয়ে আসেন এসব প্রতিষ্ঠান গড়ার জন্য।

মোঃ আবু হেনা

আবু হেনা মাটির গুণে মানুষ হয় ধন্য, আবার মানুষের গুণে মাটি হয় ধন্য। আবু হেনার ক্ষেত্রে এ কথাটি শতভাগ সত্য। রাজবাড়ির মাটিই সৃষ্টি করেছে দেশের একজন আবু হেনা আর আবু হেনা রাজবাড়ির মাটির জন্য বয়ে এনেছেন সুনাম। ক্ষুরধার মেধার গুণে নানা ক্ষেত্রে অতি উচ্চপদে আসীন হয়ে আবু হেনা সততা ও কর্তব্যনিষ্ঠায় রেখেছেন অনন্য দৃষ্টান্ত। দেশবাসীর নিকট আবু হেনা একটি বিশেষ নাম, বিশেষ আদর্শ। ১৯৩৭ সালে রাজবাড়ির মাটির স্পর্শ নিয়ে তিনি জন্মেছিলেন পদ্মা নদীর কোল ঘেঁষে ঐতিহ্যবাহী বাহাদুরপুর গ্রামে। পিতা আমানত আলী মল্লিক পেশায় মানুষ গড়ার শিল্পী। শিল্পী মন নিয়ে অত্যন্ত মেধাসম্পন্ন (সেকালে তিনি ম্যাট্রিক প্রথম বিভাগে পাস করেন) আমানত আলী ব্রতচারীর মতো ঐ অঞ্চলের মানুষের অন্ধকার মনের গহনে আলোক প্রজ্জ্বলন করে গেছেন। এমন ব্রতচারী শিক্ষকের সন্তান পদ্মার উথাল পাথাল ঢেউয়ের মতো মেধাকর্ষণের অব্যাহতধারায় পদ্মার মতো প্রশস্ত করেছেন জাতীর চেতনাবোধ। কর্তব্যকর্ম কখনো তাঁকে বিমূঢ়তায় আচ্ছন্ন করতে পারেনি। সকল কর্মে সফলতার স্বর্ণস্বাক্ষর রেখেছেন। অনেককে বলতে শোনা যায়, ‘এমন মানুষ এ মাটিতে কালেভদ্রে জন্মেছে।’

অত্যন্ত মেধাবী ছাত্র আবু হেনা ১৯৫৯ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্যে কৃতিত্বের সাথে অনার্স ও এমএ ডিগ্রি অর্জন করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষাকতায় যোগ দেন। অতঃপর তৎকালীন পাকিস্তান সিভিল সার্ভিসে যোগদান করে ১৯৬৬ সালে মুন্সিগঞ্জে মহকুমা প্রশাসক হিসেবে নিয়োজিত হন। এরপর খুলনা জেলা প্রশাসক, খুলনার বিভাগীয় কমিশনার, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়, অর্থ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব এবং সর্বশেষ সচিব পদে উন্নীত হয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগ, পাট মন্ত্রণালয় এবং মৎস্য ও পশু মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করেন। পরে তিনি প্লানিং কমিশনের সদস্য ছিলেন। বাংলাদেশ সরকার ও ইউনিসেফের এ্যাডভাইসরী চেয়ারম্যান, আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সেমিনারে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে বক্তব্য রাখেন। ১৯৯১-১৯৯৩ সালে তিনি জাপান ও ফিলিপাইনে রাষ্ট্রদূত ছিলেন। ১৯৯৫-১৯৯৬ সালে রুপালী ব্যাংকের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেন। মোহাম্মদ আবু হেনা ১৯৯৬ সালে ৬ এপ্রিল প্রধান নির্বাচন কমিশনারের দায়িত্বপ্রাপ্ত হন। এ পদে থাকাকালীন অত্যন্ত দক্ষতা ও নিষ্ঠার সাথে ১৯৯৬ সালের নির্বাচন সম্পন্ন করেন। পাঁচ বছর সাংবিধানিক এ পদে থেকে কার্য সম্পাদনে সুনাম অর্জন করেন। সরকারি দায়িত্বের পাশাপাশি সমাজসেবায় তিনি অনবদ্য ভূমিকা রেখেছেন।

Additional information