স্মরণীয় যাঁরা - পৃষ্ঠা নং-১২

বাংলাদেশ স্কাউট এসোসিয়েশনের পক্ষে আন্তর্জাতিক কমিশনার হিসেবে ১৯৭৮ থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত কাজ করেন। এশিয়া প্যাসিফিক আ্ঞ্চলিক স্কাউট কমিটির সদস্য নির্বাচিত হন। বাংলাদেশ স্কাউট আন্দোলনে তিনি বিশেষ ভূমিক রাখেন। স্কাউট আন্দোলনে বিশেষ ভুমিকা রাখায় ১৯৮৫ সালে তাঁকে বিশেষ সম্মাননা প্রদান করা হয়। ১৯৯৪ সালে তাঁকে স্কাউটের আন্তর্জাতিক সর্বোচ্চ পদকে ভূষিত করা হয়। রাজবাড়ি একটি অনুন্নত জনপদ হিসেবে পরিচয় বহন করে আসলেও বর্তমান সে প্রেক্ষাপট অনেকাংশেই বদলে গেছে। এর পিছনে রয়েছে জন মানুষের কর্মপ্রয়াসসহ কিছু মহৎ ব্যক্তির পথনির্দেশ। তাদের মধ্যে আবু হেনা অন্যতম। পাংশা ইউনিয়ন কাউন্সিলকে পৌরসভা এবং রাজবাড়ি পৌরসভাকে প্রথম শ্রেণির পৌরসভায় উন্নীত করতে তাঁর দান অনস্বীকার্য। বলা যায় তাঁর প্রচেষ্টাতেই এ কাজ সম্পন্ন হয়। রাজবাড়ির মানুষ গর্বভরে এ কথা স্মরণ করে। তাঁর প্রচেষ্টায় রাজবাড়ি জেলায় রাস্তা ঘাট, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নির্মাণ ও সংস্কারসহ নানা কাজ সম্পন্ন হয়। রাজবাড়ি-কুষ্টিয়া মহাসড়ক, খোকশা সেনগ্রাম বাহাদুরপুর তারাপুর রাস্তা নির্মাণে তাঁর বিশেষ অবদান রয়েছে। তাঁর স্বপ্নসাধ পাংশায় পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণ এখনো বাস্তবে রুপলাভ করেনি। অথচ এ ব্যারেজ নির্মিত হলে ভেরামারা কুষ্টিয়া, মাগুরা, রাজবাড়িসহ উত্তর দক্ষিণ জেলাসমূহে সেচ ব্যবস্থায় বিপুল কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি পেত। অন্যদিকে সেনগ্রাম, জৌকুড়া, রাজবাড়ি এবং ফরিদপুরের নদী ভাঙ্গন রোধ করা যেত। তিনি বাহাদুরপুরে একটি আলিম মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করেন। তাঁর প্রচেষ্টায় বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠিত হয়। তিনি ঢাকায় হাইকেয়ার স্কুলের সভাপতি। তাঁর উদ্যোগে ঢাকাস্থ রাজবাড়ি সমিতি গড়ে ওঠে এবং তিনি প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি। তিনি রাজশাহী ও চট্রগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট সভাপতি ছিলেন। বাংলাদেশ মেডিক্যাল স্টাডি এন্ড রিসার্স ইনস্টিটিউটের উপদেষ্টা। তিনি কাজী মোতহার হোসেন ফাউন্ডেশনের সভাপতি। রঞ্জন নামক স্বেচ্ছায় রক্তদান সমিতির পৃষ্ঠপোষক। জাতি তথা শিক্ষা, সমাজ উন্নয়নে তাঁর অবদান কৃতজ্ঞচিত্তে দেশবাসী স্মরণ করবে।

মোতাহার হোসেন

মোতাহার হোসেন স্কুলের ছাত্র থাকাকালীন গ্রামের শিক্ষা বিবর্জিত মানুষ একজন মা ও তাঁর সন্তানের জীবন সংগ্রামের গল্প বলত। মাতা আর্থিক কষ্টে দিনাতিপাত করে কীভাবে তাঁর একমাত্র সন্তানকে উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত করল, পিতৃহারা সন্তান কিভাবে ধ্যানস্থ ঋষির মতো একনিষ্ঠতায় উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করে জীবনযুদ্ধে জয়ী হল, এই ছিল গল্পের সার বস্তু। সে গল্প মন দিয়ে শুনতাম। এ গল্পের প্রভাব যে আমার উপর পড়েছিল তা আজ অস্বীকার করতে পারি না। পরিণত বয়সে তাঁর সাথে আমার দুবার দেখা হয়েছে। তাঁর সরল বাক্য, বিন্ম্র স্বভাব, অতি সাধারণ জীবনাচরণ দেখে বিমোহিত হয়েছি। এই মানুষটি মোতাহার হোসেন। ১৯৩৭ সালের ৩০ নভেম্বর রাজবাড়ি জেলার পাংশা উপজেলাধীন পাটবাড়িয়া গ্রামে মোতাহার হোসেন জন্মগ্রহণ করেন। পিতা মোজফফর হোসেন, মাতা আমেনা খাতুন। ছাত্র হিসেবে ছিলেন অত্যন্ত মেধাবী, একনিষ্ঠ ও বিনয়ী। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে এমএ এবং লন্ডন স্কুল অব ইকোনমিকস থেকে এমএসসি ডিগ্রিপ্রাপ্ত । প্রথমে মাগুরা কলেজে অধ্যাপনা এবং এরপর পাকিস্তান সুপিরীয়র সার্ভিসে যোগদান করে করাচীতে অবস্থান। অর্থনীতিতে মেধাসম্পন্ন মোতাহার হোসেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অর্থনীতিতে গবেষণা ও শিক্ষাকতায় যোগ দেন। পুনরায় সরকারি চাকরিতে যোগদান করে প্লানিং কমিশনে এ্যাসিস্ট্যান্ট চীফ।

Additional information