স্মরণীয় যাঁরা - পৃষ্ঠা নং-১৩

১৯৭৬ সালে উপসচিব পরিসংখ্যান বিভাগে যোগদান। অতিরিক্ত দায়িত্বে পরিচালক সার্ভে এবং জয়েন্ট সেনসাস কমিশনার। উপ-সচিব, হিসেবে অর্থ মন্ত্রণালয়, ত্রান ও পুনর্বাসন মন্ত্রণালয় এবং যুগ্ন-সচিব হিসেবে সংস্থাপন মন্ত্রণালয় এবং অতিরিক্ত সচিব হিসেবে ফিশারীজ ডেভেলপমেন্ট কর্পোরেশন এর চেয়ারম্যান এবং অর্থ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে নিয়োজিত ছিলেন। চাকরি থেকে অবসর গ্রহণের পর তিনি প্রশাসনিক সংস্কার কমিটি (নুরবনী কমিটি) পূর্ণকালীন সদস্য। অতঃপর টার্নওভার ট্যাক্স কমিশনের পূর্ণকালীন সদস্য হিসেবে কাজ করেন। তিনি বিশ্বব্যাংক ইউরোপীয়ন কমিশন এবং এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের বিভিন্ন প্রকল্পে কাজ করেছেন।

লেখক ও গবেষক হিসেবে তাঁর লেখা বই------

  1. Livestock and poultry population in East Pakistan (1968)
  2. Graduate job seekers in Bangladesh (1988)
  3. Sugarcane production in East pakistan-1970
  4. Timber trueds in East pakistan policies and program
  5. Methods and practice of statistics in Bangladesh
  6. The system of government budgeting
  7. The system of Accounting of Bangladesh
  8. Development Administration in Bangladesh

শেষোক্ত গ্রন্থ বাংলা একাডেমী কর্তৃক ভাষান্তর। তাঁর লেখা গবেষণামূলক এসকল গ্রন্থ বাংলাদেশের উন্নয়নের দিকনির্দেশা, সহায়ক ও নানা ক্ষেত্রে সমাধান। এছাড়া তিনি ‘জীবন সায়হ্নে’ পুঞ্জিভূত সংলাপ’ ‘আধারের কত রুপ’ গল্পগ্রন্থের লেখক। এ মহান মানুষটি এত কাজের ফাঁকেও ভুলে যান না জন্মস্থানের মাটি ও মানুষকে। বারবার ফিরে আসেন আপন মাটির টানে। নির্মাণ করেন মানুষের কল্যাণে রাস্তা - ঘাট শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। হাতে নেন নানা উন্নয়ন প্রকল্প। বাংলাদেশ হাট থেকে মৃগী বাজার পর্যন্ত রাস্তাটি তাঁর সহযোগিতায় নির্মিত। সাধারণ্যে সড়কটি ‘মোতাহার হোসেন রোড’ বলে পরিচিত। তাঁর মায়ের নামে প্রতিষ্ঠা করেছেন, ‘আমেনা বিদ্যাপীঠ’ মহৎ ব্যক্তি রাজবাড়ির গর্ব, অহঙ্কার।

ড. কেএম মোহসীন

পাংশার হাবাসপুর, বাহাদুরপুরে জন্ম নিয়েছেন দেশের প্রথিতযশা সাহিত্যিক রাজনীতিবিদ, প্রশাসক, শিক্ষক, সমাজসেবক। তাঁদের ভিড়ে কেএম মোহসীন এক উজ্জ্বল নাম। তিনি মনে-প্রাণে শিক্ষক। শিক্ষকতার মহান পেশাকে গ্রহণ করে দেশ ও জাতির জন্য যে অবদান রেখেছেন তা বিশেষভাবে স্বরণীয়। শিক্ষকতার পাশাপাশি একজন শেকড় সন্ধানী গবেষক হিসেবে বাংলাদেশের ইতিহাসের পাতায় সংযোজন করেছেন নব অধ্যায়। জাতিসত্ত্বায় সূচনা করেছেন নব চেতনা, নব ভাবনা। আমার অপরিপক্ক হাতে রাজবাড়ি জেলার ইতিহাসের প্রথম সংস্করণ প্রকাশিত হলে এ পণ্ডিত ইতিহাসবিদ আমাকে প্রশংসামূলক পত্র দেন। প্রথম সংস্করণে অনেক ভুল ত্রুটি থাকা সত্ত্বেও তাঁর প্রশংসাপত্র পেয়ে আমি অনুপ্রেরণা লাভ করি। দ্বিতীয় ও তৃতীয় সংস্করণে আমি পত্রটি যথাস্থানে সন্নিবেশিত করেছি।

কেএম মোহসীন ১৯৩৮ সালে ২৮ মে রাজবাড়ি জেলার পাংশা উপজেলাধীন হাবাসপুর গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত বংশে জন্মগ্রহণ করেন। পিতা আব্দুল কাদের খান। মেধাবী ছাত্র হিসেবে হাবাসপুর কে রাজ হাইস্কুল থেকে মাধ্যমিক পরীক্ষা কৃতিত্বের সাথে পাশ করে ফরিদপুর রাজেন্দ্র কলেজে ভর্তি হন। এরপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইতিহাসে অনার্স ও এমএ পাস করেন। ১৯৬৬ সালে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি ডিগ্রি লাভ করেন।

Additional information