স্মরণীয় যাঁরা - পৃষ্ঠা নং-১৪

১৯৬২ সালে চাখার ফজলুল হক কলেজে প্রথম যোগদান। ১৯৬৬ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সহকারি অধ্যাপক হিসেবে ইতিহাস বিভাগে যোগদান। ১৯৭২ সালে একই বিভাগে সহযোগী অধ্যাপক এবং ১৯৮৩ সালে প্রফেসর পদে যোগদান। হাউস টিউটর সূর্যসেন হল (১৯৬৭-১৯৭৩), প্রভোস্ট সলিমুল্লাহ হল (১৯৮৩-১৯৮৯), বিভাগীয় চেয়ারম্যান (১৯৮৩-১৯৮৭), কলা অনুষদের (১৯৯১-১৯৯৩), ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির সভাপতি (১৯৯৩), ইতিহাস সমিতির সেক্রেটারী (১৯৮০-১৯৮১)। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রোভার স্কাউটের শিক্ষক উপদেষ্টা ছিলেন। ১৯৭৪ সালে দিল্লীতে গান্ধী পিস ফাউন্ডেশন কর্তৃক ফেলোশীপ লাভ করেন। ১৯৭৪-১৯৭৫ সালে লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক কমনওয়েলথ একাডেমিক স্টাফ কর্তৃক তাঁকে ফেলোশিপ প্রদান করা হয়। ১৯৮৫-১৯৮৭ সালে জাপান বাংলাদেশ গবেষণা টিমের সদস্য। ১৯৯৪-১৯৯৫ ওসাকা ইউনিভার্সিটি অব ফরেন সার্ভিস ফেলোপ্রাপ্ত হন।

গবেষক হিসেবে কেএম মহসিনের রয়েছে অমূল্য অবদান। এশিয়াটিক সোসাইটি অব বাংলাদেশ পত্রিকার সম্পাদক ১৯৮৩, ৮৮, ৮৯ । সভাপতি সম্পাদনা পরিষদ ২০০৪, ২০০৫। বাংলাদেশ ইতিহাস সমিতির পত্রিকা ১৯৮০, ৮১। সেক্রেটারী হিস্ট্রি অব বেঙ্গল কমিটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ১৯৭৫, ১৯৭৬। সদস্য বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস প্রকল্প ১৯৭৮-১৯৮৫। সম্পাদক বাংলার ইতিহাস, (পঞ্চম খণ্ড) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। সদস্য সম্পাদনা পরিষদ ঢাকা পোস্ট, প্রজেক্ট এন্ড ফিউচার, এশিয়াটিক সোসাইটি অব বাংলাদেশ। তিনি বঙ্গভবনের শতবর্ষের ইতিহাস গ্রন্থ প্রকল্পের চেয়ারম্যান ছিলেন।

বাংলাদেশে ইতিহাস চর্চায় এবং মুক্তিযুদ্ধের দলিল প্রণয়নে তাঁর অনেক গ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে। ৪০টিরও বেশি গবেষণামূলক প্রবন্ধ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, এশিয়াটিক সোসাইটি অব বাংলাদেশ এবং বাংলা একাডেমী কর্তৃক প্রকাশিত। বিটিভিতে ইতিহাস ও ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে নিয়মিত আলোচনায় অংশগ্রহণ। তিনি এশিয়াটিক সোসাইটি অব বাংলাদেশের জীবন সদস্য। এ প্রতিষ্ঠানের কাউন্সিলর। জীবন সদস্য বাংলাদেশ ইতিহাস সমিতি। বাংলাদেশ স্কাউটের জাতীয় কমিশনার। ইউনাইটেড ন্যাশনস এসোসিয়েশনস অব বাংলাদেশের সদস্য। সদস্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেট। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন সিনেট সদস্য। জীবন সদস্য সলিমুল্লাহ মুসলিম হল এ্যালামনাই এসোসিয়েশন এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এ্যালামনাই এসোসিয়েশন। সদস্য বাংলাদেশ জাদুঘর। জন্মভূমির সাথে তাঁর নিবিড় সম্পর্ক। রাজবাড়ির মাটি ও মানুষ তাঁর প্রিয়। হাবাসপুর-বাহাদুরপুর প্রাক্তন ছাত্র সমিতির সদস্য। সদস্য ‘পাংশা থানা সমিতি’, ‘রাজবাড়ি জেলা সমিতি’, ‘সাবেক ফরিদপুর চাকরিজীবী কল্যাণ সমিতি’। শিক্ষা, সেমিনার, আন্তর্জাতিক সম্মেলনে নিয়মিত যোগদান। রাজবাড়ি জেলার মানুষের শিক্ষা সংস্কৃতি বিকাশে তাঁর অবদান অসামান্য।

অধ্যাপক আব্দুল গফুর

অধ্যাপক আব্দুল গফুর রাজবাড়ি জেলার এক কীর্তিমান পুরুষ যিনি ভাষা আন্দোলন, বাংলা ভাষার লালন এবং ভাষার উৎকর্ষ সাধনে অপরিসীম ভূমিকা রাখায় একুশের পদকে ভূষিত হয়েছেন। ২০০৫ সালে তাঁকে এ সম্মাননা প্রদান করা হয়। তিনি কেবল ভাষাসৈনিক নন, প্রথিতযশা সাংবাদিক, শিক্ষক, সংগঠক, সাহিত্যিক, গবেষক। জাতীয় চেতনা বিকাশে নিরলস কর্মী। তাঁর অবদান জাতি গর্বভরে স্মরণ করে। ইসলামী মূল্যবোধের অনুরক্ত অধ্যাপক আব্দুল গফুর জাতিত্ববোধে ধর্ম বর্ণ গোত্র ভেদে একজন আদর্শ মানুষ হিসেবে পরিচিত। আধুনিক চেতনার ধারক ও বাহক। লেখনী, বক্তৃতা, কর্মপ্রবাহের মাধ্যমে তিনি মানুষের কাছে চেতনার বার্তাই পৌঁছে দেন।

Additional information