স্মরণীয় যাঁরা - পৃষ্ঠা নং-১৬

আহমেদ আতাউল হাকিম

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের আওতাধীন হয়েও স্বাধীন সত্ত্বায় কাজ করে এমন সাংবিধানিক পদ স্বল্পসংখ্যক। প্রধান বিচারপতি, প্রধান নির্বাচন কমিশনার কম্পট্রোলার এ্যান্ড আডিটর জেনারেল সাংবিধানিক পদভুক্ত। এসব পদ যেমনি সম্মান তেমনি দায়িত্বভার বহন করে। বাংলাদেশের অভ্যূদয় থেকে এ পদে যাঁরা অধিষ্ঠিত হয়েছেন তাদের সংখ্যাগত পরিমাণও খুব বেশি নয়। রাজবাড়ি জেলায় দুইজন কৃতি সন্তান কর্মগুণে এসব পদের অধিকারী হয়েছেন। আহমেদ আতাউল তার মধ্যে একজন।

সদালাপী, বিনয়ী, কর্তব্যনিষ্ঠ, অনাড়ম্বর জীবনে অভ্যস্থ আহমেদ আতাউল হাকিম রাজবাড়ি শহরের এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। পিতা- আজাহার উদ্দিন আহমেদ মানবসেবায় নিবেদিত একজন চিকিৎসক ছিলেন। নিজ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ওসমান মেডিক্যাল হলে সকাল-সন্ধ্যা নিয়মিত রোগীর ব্যবস্থাপত্র দিতেন। এর জন্য কোনো বিনিময় মূল্য নিতে দেখা যায়নি। তিনি রাজবাড়ি জেলা স্কুলের সেক্রেটারী রাজবাড়ি কলেজের গভর্নিংবডির সদস্যসহ নানা সমাজসেবামূলক প্রতিষ্ঠানের সাথে জড়িত ছিলেন। মন-মানসিকতায় তিনি ছিলেন উদার, পরিচ্ছন্ন ও পবিত্র। সাধারণ্যে তার পরিচিতি ছিল ক্লীন ম্যান হিসেবে। তাঁর সকল সন্তানকে দেশ মাতৃকার সেবায় উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত করেছিলেন। সন্তানদের মধ্যে সততা, শৃংখলা মানবিকতা ধর্মানুরাগ, সকল গুণের সঞ্চারণ ঘটিয়েছিলে

এ পরিবারের তৃতীয় সন্তান আতাউল হাকিম শিশুকাল থেকেই কর্তব্যনিষ্ঠ, শান্ত এবং মেধাবী। লেখাপড়া শুরু রাজবাড়ি বালিকা বিদ্যালয়ে (বর্তমান সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ে তখন ছেলে ও মেয়েদের প্রাথমিক শিক্ষার ব্যবস্থা ছিল)। অতঃপর টাউন মক্তব প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাঠ শেষ করে তৎকালীন গোয়ালন্দ মডেল হাই স্কুলে (বর্তমান সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়) ভর্তি হন। তিনি কৃতিত্বের সাথে ৮ম শ্রেণিতে ট্যালেন্টপুলে বৃত্তিলাভ করেন। অতঃপর মির্জাপুর ক্যাডেট কলেজ থেকে এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষায় মেধা স্থান অধিকার করেন। ঢাকা ইউনিভার্সিটি থেকে অর্থনীতিতে সম্মান ও এমএ পাস করেন। বিসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে নিরীক্ষা বিভাগে যোগদান করেন। সততা ও কর্তব্যনিষ্ঠায় তিনি উচ্চ আসনে অধিষ্ঠিত হন। রাজবাড়ি জেলার পক্ষ থেকে তাঁকে গণসংবর্ধনা দেওয়া হয়। রাজবাড়ি সরকারি কলেজ, রাজবাড়ি সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় থেকে তাঁকে সংবর্ধনা জানানো হয়। দেশ ও মানুষের কল্যাণে তিনি দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। তিনি রাজবাড়ি জেলার গৌরব ও অহঙ্কার।

মাওলানা আনম আমিনুল ইসলাম

‘মুখপত্র বিকিরণ’ প্রকাশকাল ১৯৯৩, প্রকাশক প্রাথমিক শিক্ষা ঢাকা বিভাগ-মুখপত্র বিকিরেণে প্রাথমিক শিক্ষা ঢাকা বিভাগের উপ-পরিচালক কলিম উদ-দীন আহমদ ‘বরণীয় যারা’ নিবন্ধে মাওলানা আনম আমিনুল ইসলাম সম্বন্ধে লিখেছেন, ‘দেশে বহু শিক্ষক ও কর্মকর্তা আছেন যাঁরা নিজ নিজ কর্মক্ষেত্রে যথেষ্ট নিষ্ঠাবান ও দক্ষ। তারা নিরলসভাবে শিক্ষার আলোকবর্তিকা বহন করে সামনে এগিয়ে চলেছেন। সেইসব নিবেদিতপ্রাণ ব্যক্তিবর্গের কয়েকজন যারা তাদের অবদানের স্বীকৃতি লাভ করেছেন তাদের মধ্যে একজন হচ্ছেন আনম আমিনুল ইসলাম।’ ‘শিক্ষা ছাড়া চলে না’ --এটি নিরেট সত্য কথা। এই সত্যের বিস্তার ঘটান শিক্ষক। তাই শিক্ষক শ্রদ্ধেয়, গুরুজন, জাতি গঠনের রুপকল্পকার।

Additional information