স্মরণীয় যাঁরা - পৃষ্ঠা নং-১৭

তিনি আরো শ্রদ্ধাবান যদি তিনি হন টোল, গৃহগুরু বা প্রাথমিক স্তরের শিক্ষক। কারণ শিক্ষা নামের অতিকায় বৃক্ষটির প্রাথমিক বীজ অঙ্কুরিত হয় তার হাতে। এরপর ব্যক্তিক জীবনে শিক্ষার ধারণা নানা ডালপালা মেলে পত্র-পল্লবে, রঙে, রেখায় বিকশিত হয়। অঙ্কুরোদগমের কার্যটি সহজ মনে হলেও তা সহজ নয়। কারণ অফলা পতিত জমিনকে তাকেই শ্রম, মেধা, ধৈর্য দিয়ে সরস করতে হয়। এ কাজের প্রতি মমত্ববোধই একজন শিক্ষককে শিক্ষাবিদে পরিণত করে। বৈশ্বিক আয়-উপার্জনের পাথেয় বলে যে সমস্ত শিক্ষক শিক্ষাদানে ব্রতী আছেন তারা শিক্ষক কিন্তু শিক্ষাবিদ নন। আনম আমিনুল ইসলাম একজন শিক্ষাবিদ কারণ পেশাকে তিনি নেশা হিসাবে গ্রহণ করেছেন, পেশার আওতার বাইরে শিক্ষা বিস্তারে প্রতিনিয়ত আত্মনিবেদনে ব্যস্ত আছেন।

ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ, জেলা ও দায়রা জজ মোঃ তফাজ্জল হুসাইন, এবিএম নুরুল ইসলামের স্নেহধন্য আনম আমিনুল ইসলাম পাংশা উপজেলাধীন বিকয়া ইউনিয়নের মুছিদাহ গ্রামে ১৯৫০ সালে এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। পিতা তৈয়বুর রহমান ছিলেন সাদা মনের মানুষ। মাতা আজিরন নেছা’র ও ছিল শিক্ষার প্রতি বিপুল আগ্রহ। তিনি ১৯৭০ সালে মাদ্রাসা-ই-আলিয়া, ঢাকা থেকে কামিল ডিগ্রি অর্জন করেন। এছাড়াও পরবর্তীকালে ক্বারীয়ানা, সিভিল ডিফেন্স, সিইনএডসহ নানা প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। কর্মজীবনে তিনি প্রথমে বিকয়া হাইস্কুলে শিক্ষকতা শুরু করেন। দীর্ঘসময় প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতার পর সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসার হিসেবে অবসর গ্রহণ করেন। তিনি বিভিন্ন সময়ে মাদ্রাসা, রেজিস্টার প্রাথমিক বিদ্যালয়, উচ্চ বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করতে নানাভাবে সহায়তাদান করেন। তিনি মুছিদহ-বনগ্রাম সিনিয়র মাদ্রাসার অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা। একজন প্রতিষ্ঠিত ইমাম, ক্বারী ও তেজস্বী বক্তা। তিনি পুঁইজোর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বিদ্যোৎসাহী সদস্য। পড়, পড়াও, পড়ার ব্যবস্থা কর এটাই তার আরাধ্য বিষয়। তিনি ফুরফুরা শরীফের বড়পীর মরহুম হযরত আব্দুল হাই সিদ্দিকী (রঃ) এর মুরীদ। বর্তমানে পাংশাসহ জেলার সকল স্তরের শিক্ষা বিস্তারে নানাভাবে নিজেকে নিয়োজিত রাখেন।

Additional information