স্মরণীয় যাঁরা - পৃষ্ঠা নং-৪

তিনি ছিলেন বৃটিশ বিরোধী ও গণচেতনার ধারক। তিনি এবং তাঁর ভাগনেয় হাতেম আলী (পিএলএ) এলাকার সমাজসচেতন ব্যক্তি। কথায় বলে মামা ভাগ্নে যেখানে ভয় নেই সেখানে। মামা ভাগ্নের এ জুটি এলাকার মানুষকে বৃটিশদের অন্যায় অত্যাচারের বিরুদ্ধে সচেতন করে তোলে। কংগ্রেস বা মুসলিম লীগ তাদের বিষয় ছিল না। তারা বৃটিশ রাজত্বকে ঘৃণা করতেন এবং তাদের বিরুদ্ধে এলাকাবাসীকে সংগঠিত করেন। একবার গ্রামে কোনো এক ঘটনায় মামা ভাগ্নে বৃটিশ পুলিশের বন্দুক ছিনিয়ে নিলে পুলিশ তাদের উপর গুলি চালায়। কথিত আছে মৌলবী হাতেম আলী মাথা নিচু করে এবং কেতাব উদ্দিন লম্ফ দিয়ে বন্দুকের গুলি থেকে বেঁচে যান। অসীম সাহসী কেতাব উদ্দিনের নাম পুলিশের খাতায় ব্লাকলিস্ট হওয়ায় তিনি সরকারি চাকরি পান না। এ ঘটনার পর তিনি ময়মনসিংহ চলে যান এবং করটিয়া সাদত কলেজে অধ্যাপনা শুরু করেন। ময়মনসিংহে তিনি শেরপুর ও ভুয়াপুর কলেজের প্রতিষ্ঠাতা এবং প্রিন্সিপ্যাল। শেষ জীবনে তিনি নিশ্চিন্তপুরে ফিরে আসেন এবং বালিয়াকান্দি কলেজ প্রতিষ্ঠা করেন। শিক্ষার আলো পৌছে দিয়েছেন দেশের এ প্রান্ত থেকে সে প্রান্তে। এ দার্শনিক পুরুষ অবসরের পর নিজ গ্রামে বাস করতেন এবং শৈশব স্মৃতি বিজড়িত মাঠে-প্রান্তরে ঘুড়ে বেড়াতেন।

প্রিন্সিপ্যাল কেতাব উদ্দিন আহমেদ ১৯৪৫ সালে বিবাহ করেন রাবেয়া খাতুনকে। রাবেয়া খাতুন ১৯৩২ সালে টাঙ্গাইল জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। রাবেয়া বেগম স্বামীর সহচর্যে এবং শিক্ষার প্রতি প্রবল আকর্ষণে ১৯৫২ সালে বিএ পাস করেন। ১৯৬০ সালে বিএড কোর্স সমাপ্ত করেন। শিক্ষক হিসেবে যোগদানের পর ১৯৫৮ সালে প্রধান শিক্ষকের পদে অধিষ্ঠিত হন। দীর্ঘদিন ফরিদপুর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালনের পর ১৯৮১ থেকে ১৯৮৯ সাল পর্যন্ত খুলনা বিভাগে বিদ্যালয় পরিদর্শকের (Inspector of Schools) দায়িত্ব পালন করেন। এই মহিয়সী মহিলার প্রতি আমার কৃতজ্ঞতা অশেষ। তৎকালীন ডিপিআই হাফেজ আহমেদ রাবেয়া আহমেদের বাসায় আমার স্ত্রীর সঙ্গীত শুনে তাকে রাজবাড়ি সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সঙ্গীত শিক্ষিকা হিসেবে নিয়োগ প্রদানের বিষয়ে নিশ্চিত করেন। তিনি এখন রাজবাড়ি সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক (১০/০৩/২০১০ এ অবসর গ্রহণ)। অধ্যক্ষ কেতাব উদ্দিন আহমেদ ও রাবেয়া আহমেদ রাজবাড়ি জেলার অহঙ্কার।

আমানত আলী মল্লিক

আমানত আলী মল্লিক সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার আবু হেনার পিতা। আমানত আলী মল্লিক তাঁর মেধা, পাণ্ডিত্য, ন্যায়পরায়ণতা আর কর্তব্যনিষ্ঠার মাধ্যমে নিজেই সৃষ্টি করে গেছেন ইতিহাস। এ মহান ব্যক্তির স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে প্রকাশিত হয়েছে ‘আমানত আলী স্মারকগ্রন্থ’ যার সম্পাদনা করেছেন দেশের বরেণ্য ঐতিহাসিক ড. কেএম মহসিন। তাঁর সম্বন্ধে লিখেছেন দেশের অনেক বরেণ্য ব্যক্তিত্ব যারা সকলেই তাঁর ছাত্র ছিলেন। মানুষ তার কর্মের দ্বারাই মানুষের মনে স্থান করে নেন। আর ঐ সমস্ত কর্মের পরিধিতে সৃষ্ট হয় ইতিহাস। আমানত আলী মল্লিক এমনি ইতিহাসের উপাদান রেখে গেছেন তাঁর কর্মের দ্বারা। স্মৃতির আড়ালে এমন মহৎ ব্যক্তিকে যেন ভুলে না যাই।

মিয়া মোঃ কায়েম উদ্দিন

মিয়া মোঃ কায়েম উদ্দিন মানুষ গড়ার কারিগর নন। মানুষ গড়ার শিল্পী। সঠিক অর্থেই তিনি ছিলেন জাতি ও জাতিত্বের রুপকল্পনায় স্বপ্নচারী স্থপতি। এ শিক্ষাবিদ ফরিদপুর রাজেন্দ্র কলেজ, পটুয়াখালি কলেজ এবং সর্বশেষ রাজবাড়ি কলেজের অধ্যক্ষ হিসেবে শিক্ষা বিস্তার ও শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়নে অনন্য অবদান রেখে গেছেন। ১৯৬১ সালে রাজবাড়ি কলেজ প্রতিষ্ঠার পর থেকে এ অঞ্চলের মানুষের উচ্চ শিক্ষার দ্বার উম্মোচিত হয়। ১৯৬৬ সালে তিনি রাজবাড়ি কলেজে অধ্যক্ষ হিসেবে যোগদান করেন। নব প্রতিষ্ঠিত কলেজের নানা সমস্যার সমাধানে তিনি কলেজটিকে দৃঢ় ভিত্তির উপর দাঁড় করান। তিনি কলেজের একতলা ভবনকে দ্বিতলে রুপান্তর করেন।

Additional information