স্মরণীয় যাঁরা - পৃষ্ঠা নং-৫

বিজ্ঞান বিভাগসহ স্নাতক শ্রেণিতে উন্নীত করেন। শিক্ষক হোস্টেল, বিজ্ঞানাগার, জমি ক্রয় করে খেলার মাঠ, লাইব্রেরি, কমন রুম, আসবাবপত্র, শিক্ষার নিমিত্তে যাবতীয় কাজ সম্পন্ন করেন। এলাকার ছাত্রছাত্রী এ কলেজে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করে উচ্চ আসনে অধিষ্ঠিত । তারা জাতীয় জীবনে নানা অবদান রেখে চলেছেন। এ শিক্ষাবিদ ১৯৫২ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রসায়ন শাস্ত্রে এমএসসি ডিগ্রি নিয়ে ফরিদপুর রাজেন্দ্র কলেজে প্রভাষক হিসেবে যোগদান করেন। কর্মদক্ষতা, সততা ও নিষ্ঠার অল্প সময়ের মধ্যেই ঐ কলেজের উপাধ্যক্ষের পদে আসীন হন। এরপর অধ্যক্ষের দায়িত্ব নিয়ে পটুয়াখালি কলেজে যোগদান করেন। কেবল রসায়ন পাঠদানেই তিনি দক্ষতার পরিচয় দেননি; ইতিহাস, ভূগোল, রাষ্ট্রনীতি, ধর্ম বিষয়ে তাঁর পাণ্ডিত্য সুবেদিত। দেশ ও জাতির ভাবনায় তিনি প্রতিনিয়ত তাড়িত হতেন। ধর্মীয় বিশ্বাসে অটল থেকেও ছিলেন প্রগতির দিশারী। গল্প কাহিনী বলায় ছিলেন সাবলীল। বক্তব্য বিবৃতিতে ছিলেন অসামান্য প্রতিভার অধিকারী। সামাজিক অনুষ্ঠানাদিতে ছিল তাঁর বিচরণ। বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যায়নকালীন ১৯৫২ সালের ২১ ফ্রেব্রুয়ারি তিনি মিছিলে অংশগ্রহণ করেন। এই শিক্ষাবিদ মাদ্রাসা শিক্ষার পাশাপাশি প্রথম বিভাগে স্কুলের পরীক্ষায় পাস করেন। পাবনার অজ পাড়াগাঁয়ের জন্ম নেওয়া মানুষটি মেধা ও একাগ্রতায় উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করে শিক্ষার আলো জ্বালাবার ব্রত নিয়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের চাকরি গ্রহণ করেন। সুদীর্ঘ - ৩৬ বছর শিক্ষাদানের পর ১৯৮৬ সালে অবসরে যান। তিনি ছিলেন বেড়াডাঙ্গা ১ নং সড়কের বাসিন্দা। মিয়া মোঃ কায়েম উদ্দিনের স্মৃতির উদ্দেশ্যে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে মিয়া মোঃ কায়েম উদ্দিন পরিষদ। তাঁর সন্তানেরা প্রতিবছর এ পরিষদের মাধ্যমে রাজবাড়ি কলেজের মেধাবী ছাত্র-ছাত্রীদের এককালীন বৃত্তি প্রদান করে থাকেন।

 বদরোদ্দজা খান (টুকু মিয়া)

কিছুকিছু মানুষ থাকেন যাদের বেশভূষা সহজ সরল। চলাফেরা দেখে তার গুণাবলীর বিষয় জানার উপায় থাকে না। এ ধরণের মানুষ হয় দার্শনিক প্রকৃতির। সবার উপরে তাদের থাকে এমন চিন্তা ভাবনা যার ফলাফল সামগ্রীক কল্যাণে কাজ করে সরল, অতি সাধারণ বেশভূষায় তাকে দেখা যেত রাজবাড়ি সূর্যনগর এলাকায়। অথচ এই মানুষটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রকালীন ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রয়ারি গুলির আঘাতে রক্তাক্ত হন। পত্রিকায় তার নাম আসে নাই। নীরবে কাজ করাই ছিল তার জীবনের দর্শন। তার এমনটি হওয়ার কারণও রয়েছে। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে দর্শন শাস্ত্রে এমএ ফাইনাল পরীক্ষায় ফার্স্ট ক্লাস ফার্স্ট হয়ে ফুল ব্রাইট স্কলার হিসেবে বৃত্তিলাভ করেন। কিছু কিছু রাজনৈতিক ব্যক্তির কারণে তার ইংল্যান্ড যাওয়া বন্ধ হয়ে যায়। অতঃপর তিনি ভেড়ামারাসহ কয়েকটি কলেজে অধ্যাপনা করেন এবং শেষে গফরগাঁ কলেজের অধ্যক্ষ নিযুক্ত হন। তিনি ছিলেন একজন সফল শিক্ষক ও সুপণ্ডিত। পরে চাকরি ছেড়ে দিয়ে এলাকার উন্নয়ন ভাবনায় আত্মনিয়োগ করেন। তিনি দুইবার চেয়ারম্যান নিযুক্ত হন। তিনি ছিলেন সূর্যনগর হাই স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা। 

ডা. আব্দুল আজিজ, আহম্মদ ইরতেফা মর্জি, ড. গোলাম রব্বানী

ডা. আব্দুল আজিজ আহম্মদ ইরতেফা মর্জি ড. গোলাম রব্বানী রাজবাড়ির মাটিতে এমন কয়েকজন প্রতিভাবান ব্যক্তির জন্ম হয়েছে যারা বিশ্বের অমর অবদান রেখেছেন। তারা হলেন ডা. আব্দুল আজিজ, রামচন্দ্রপুর, রাজবাড়ি। আহম্মদ ইরতেফা মুর্জি, রাজবাড়ি ও ড. গোলাম রব্বানী, কাচারীপাড়া, পাংশা। ডা. আব্দুল আজিজ মিজানপুর ইউনিয়নের রামচন্দ্রপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।

Additional information