স্মরণীয় যাঁরা - পৃষ্ঠা নং-৬

তার পিতার নাম মোঃ আবেদ আলী সরদার। ডা. আব্দুল আজিজ ঢাকা মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস পাস করে আমেরিকায় গবেষণার কাজে আত্মনিয়োগ করেন। তিনি জটিল রোগের কারণ নির্ণয় এবং তার ঔয়ধ উদ্ভাবনের জন্য মেডিসিনে পিএইডি ডিগ্রীপ্রাপ্ত হন। ডা. আব্দুল আজিজ ১২টি জটিল রোগের ঔষধ উদ্ভাবন করেন।

সে সময় আমেরিকাতে ১২তম বৈজ্ঞানিক (ঔষধ উদ্ভাবন) ছিলেন। এজন্য তাকে পঞ্চাশ হাজার ডলার পুরস্কার দেওয়া হয়। তিনি দীর্ঘদিন আফ্রিকাতে কাটান। ডা. আব্দুল আজিজ স্বাধীনতার পর দেশে ফিরে আসেন। ১৯৭৮ সালে ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেন।

রাজবাড়ির আর আক প্রতিভাবান ব্যক্তি আহম্মদ ইরতেফা মর্জি। আহম্মদ ইরতেফা মর্জি রাজবাড়ি শহরে মৃধা পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি প্রখ্যাত  আইনজীবী আহমেদ আলী মৃধার ২য় পুত্র। রাজবাড়ি জেলা স্কুলের ছাত্র ইরতেফা ছোটবেলা থেকে মেধাবী ও বিজ্ঞানমনস্ক ছিলেন। তিনি বর্তমানে নাসার সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছেন। গ্যালিলিও এর যুগ থেকে মহাকাশ রহস্য উদ্ভাবনে মানুষ গভীর আত্মনিয়োগ করেন। হাবলের টেলিস্কোপ সে আগ্রহ আরো বাড়িয়ে দেয়। আমেরিকাতে গড়ে ওঠে মহাকাশ গবেষণাগার নাসা। নাসার মাধ্যমে মহাকাশ সম্বন্ধে জানা, মহাকাশে যন্ত্রযান প্রেরণ, মহাকাশ স্টেশন, চাঁদে অবতরণ, মঙ্গল বৃহস্পতিসহ দূর-দূরান্তের গ্যালাক্সি, নক্ষত্র, কুয়াশার, কৃষ্ণগহবরের রহস্য জানার গবেষণা চলছে। পৃথিবীতে গড়ে উঠেছে তথ্য প্রযুক্তি, তথ্য প্রবাহের নেটওয়ার্ক। এই নাসার একজন বিশিষ্ট মহাকাশ বিজ্ঞানী রাজবাড়ির বৈজ্ঞানিক আহমেদ ইরতেফা মর্জিঅ ১৯৬৯ সালে মহাকাশযান এ্যাপোলো-১১ এর মাধ্যমে মানুষ চাঁদে অবতরণ করে। এ্যাপোলো-১১ অবতরণের প্রধান পরিকল্পনাকারী ছিলেন ইরতেফা মর্জি। তাঁর গবেষণার জন্য তিনি আমেরিকাতে পুরস্কৃত হয়েছেন বিভিন্নভাবে। আমেরিকাতে থেকেও তিনি ভুলে যান নাই দেশকে। আহমেদ ইরতেফা মর্জি স্কট অবস্তায় একবার দেশে এসেছিলেন।

মায়ের বুক থেকে সন্তান হারিয়ে যাওয়া বেদনাদায়ক। তা আরো বেশি বেদনাদায়ক সন্তান যদি হয় প্রতিভাবান আর তার মৃত্যু হয় বিদেশ বিভুঁইয়ে, আর কোনো ক্রমেই যদি না পাওয়া যায় সে লাশের খবর। ড. গোলাম রব্বানী এভাবেই চলে গেছেন। তার কোনো খোঁজ খবর না পাওয়া গেলেও সকলে নিশ্চিত যে তিনি আর ধরাধামে নেই। পদ্মার চর সংলগ্ন শহরের কোলাহল মুক্ত প্রাকৃতিক পরিবেশে অবস্থিত কাচারী পাড়া বিদ্যালয়ের প্রতিভাবান এ ছাত্রটি রাজেন্দ্র কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় স্ট্যান্ড করেন। পরে ভূতত্ত্ব বিষয়ে মাস্টর্স করে আমেরিকা থেকে পিএইচডি ডিগ্রি লাভ করেন এবং গবেষণায় রত হন। তার গবেষণার বিষয় ছিল বিভিন্নমুখী। ভূ-প্রকৃতিতে বিচিত্র কীটপতঙ্গের বাস আর বিচিত্র তাদের আচার আচরণ গুণাগুন বিশ্লেষণ। আফ্রিকা মহাদেশের ঘন অরণ্যে বিচিত্র প্রাণীদের আচরণ পর্যবেক্ষণ আর ভূ-পরিবেশে এদের খাপ খাওয়ানো ছিল তার গবেষণার বিষয়। পিছনের সকল টান উপেক্ষা করে প্রাণীর ভূ-পরিবেশ পরিকল্পনায় তিনি সমর্পন করে গেছেন নিজেকে। হারিয়ে গেছেন সকলের অলক্ষ্যে নিবিড় অরণ্যে। রেখে গেছেন কাচারীপাড়ার নিভৃত পল্লীতে কিছু স্মৃতি আর মানুষের কল্যাণে কিছু উদ্ভাবন।

অ্যাডভোকেট আব্দুল জলিল মিয়া

আব্দুল জলিল মিয়া ছিলেন রাজবাড়ির আইনজীবী ও ক্রীড়ামোদী। একবার রাজবাড়ি পৌর চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। তিনি রাজবাড়ি জেলার ক্রীড়া সংগঠক হিসেবে অধিক পরিচিত ছিলেন। মুসলিম জাগরণে তিনি অগ্রাণী ভূমিকা পালন করে গেছেন।

Additional information