স্মরণীয় যাঁরা - পৃষ্ঠা নং-৮

তাঁরা সবাই এলএমএফ পাস চিকিৎসক ছিলেন। ডা. প্রমথনাথ দত্ত তৎকালীন সময়ে দক্ষ চিকিৎসক। সকলেই কৃতজ্ঞতায় তাদের নাম আজও স্মরণকরে। কথায় বলতো,  ‘ডা. মাখন-সে তো যখন তখন।’ সত্য সত্যই মানুষের কল্যাণে ডা. মাখনলাল সাহা সদা সর্বদাই প্রস্তুত থাকতেন। তিনি মিকচার পদ্ধতির ঔষধ ব্যবহারে সুনাম অর্জন করেছিলেন। ডা. গোলাম সামদানী চট্রগ্রাম থেকে রেলের ডা. হিসেবে এসে আর ফিরে যান নাই। রাজবাড়ির প্রধান সড়কে দীর্ঘ ৩০ বৎসর চিকিৎসক হিসেবে মানুষের সেবা করে গেছেন। তাঁরা সবাই ছিলেন মানব দরদী। অর্থের চেয়ে মানুষের সেবাই যেন ছিল তাঁদের কাজ। রোগীর নিকট থেকে সামান্য অর্থের বিনিময়ে চিকিৎসাপত্র দিতেন। ডা. গোলাম সামদানীকে উদ্দেশ্য করে লোকে বলত, ‘ডা. সামদানী রোগীর খুব আমদানী।’ ডা. মোয়াজ্জেম হোসেনের ক্লিনিকের নাম ছিল হোসেন ক্লিনিক। তার চিকিৎসাপত্র ছিল অতি অল্প খরচে। মানুষ ভালবেসে তাকে বলত, ‘ডা. হোসেন গেলেই বলে বসেন।’ এ চারজন চিকিৎসক জ্বরাব্যাধিপূর্ণ রাজবাড়িকে ধীরে ধীরে মু্ক্ত করেছেন। আজকের উন্নত চিকিৎসাকৌশল তাদের হয়ত আয়ত্ব ছিল না কিন্তু সেবামূলক মন দিয়ে তারা শহরকে সু-স্বাস্থ্যের দিকে এগিয়ে নিয়ে গেছেন।

ডিএমএন ইসলাম (ইসলাম ভাই)

জন্ম মানিকগঞ্জ জেলায়। রেলের চাকরিসূত্রে  পঞ্চাশের দশকের প্রথম দিকে রাজবাড়িতে আসেন। পঞ্চাশ-ষাটের দশকে রাজবাড়ি শহর, খানখানাপুর, বেলগাছি অত্র অঞ্চলে ফুটবল খেলা জমজমাট ছিল। রাজবাড়িতে খেলার মাঠ ছিল ঐতিহ্যবাহী রেলওয়ে ময়দান। ফুটবল খেলোয়াড়, ফুটবল প্রশিক্ষক, টিম সংগঠক, খেলা পরিচালনাসহ সকল বিষয়ে ইসলাম ভাইয়ের সমান পারদর্শিতা ছিল। রাজনৈতিক ধ্যানধারণায়ও তিনি অগ্রগামী ছিলেন। তাঁর অতি নিকটে থেকে আমি অত্র অঞ্চলে দেশের বিশিষ্ট রাজনীতিবিদদের কর্মকাণ্ড সম্বন্ধে তথ্য সংগ্রহ করেছি। ইসলাম ভাইয়ের কথায় বলতে হয় রাজবাড়ির ক্রীড়া, রাজনীতি, উন্নয়ন সকল বিষয়ে তিনি নিজেই ছিলেন ইতিহাস। তাঁর স্ত্রী জাহানারা বেগম একজন বিশিষ্ট সমাজসেবী ও নারী উন্নয়নের সাথে সংশ্লিষ্ট। জাহানারা বেগম এর প্রচেষ্টায় রাজবাড়িতে গড়ে উঠেছে নারী উন্নয়ন কল্যাণ সমিতি, সেলাই কর্মসূচীসহ আরো অনেক উন্নয়নমূলক সংগঠন।

মোঃ আব্দুর রব

ষাটের দশকের কোনো ছাত্রের প্রথম বিভাগে এসএসসি পাশ করা কঠিন ছিল। সমস্ত মহকুমায় তখন প্রতি বৎসর দু-চারজনের বেশি প্রথম বিভাগ পেত না। ১৯৬৪-৬৫ সালে আব্দুর রব মৃগী হাইস্কুল থেকে প্রথম বিভাগসহ ঢাকা বোর্ডে স্ট্যান্ড করেন। পরবর্তীতে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি সাহিত্যে এমএ ডিগ্রি লাভ করে অধ্যাপনার পেশায় আত্মনিয়োগ করেন। দেশের ক্রান্তিকালে তিনি মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েন এবং নিজস্ববাহিনী গঠন করে যুদ্ধে নেতৃত্ব দেন। রাজবাড়িতে যুদ্ধকালে তার সহযোদ্ধা দিয়ানত শহীদ হন। তিনি একসময় জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের নেতৃত্বে ছিলেন। এলাকার মানুষ আর এলাকার উন্নয়ন নিয়ে তিনি বিশেষভাবে ব্যস্ত থাকতেন। ফরিদপুর ইয়াছিন কলেজের উপাধ্যক্ষ থাকাকালীন তিনি ইন্তেকাল করেন।

Additional information