স্মরণীয় যাঁরা - পৃষ্ঠা নং-৯

মুন্সি ইয়ার উদ্দিন আহম্মেদ

রাজবাড়ি জেলার বালিয়াকান্দি উপজেলার নাড়ুয়া ইউনিয়ন একটি বর্ধিষ্ণু এলাকা। নাড়ুয়া ইউনিয়নের মদনডাঙ্গী গ্রামের মুন্সি ইয়ার উদ্দিন ছিলেন অত্র অঞ্চলের মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক এবং বিশিষ্ট সমাজসেবক। তিনি নাড়ুয়ার লিয়াকত আলী মেমোরিয়াল উচ্চ বিদ্যালয়ের পরিচালনা পরিষদের সাথে সংশ্লিষ্ট ছিলেন। তার নামে নাড়ুয়াতে মুন্সি ইয়ার উদ্দিন আহম্মেদ বালিকা বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত  হয়েছে। তিনি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন এবং এলাকার উন্নয়নে অবদান রেখে গেছেন।

 

মোঃ আমীর আলী মণ্ডল

বালিয়াকান্দি উপজেলার নাড়ুয়া ইউনিয়নের বিলটাকাপুড়া গ্রামে আমীর আলী মণ্ডল জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ছিলেন অত্র এলাকার বিশিষ্ট সমাজসেবক। জেলার একজন বিশেষ ব্যক্তিত্ব হিসেবে তাঁর পরিচয় রয়েছে। তিনি বিশ বৎসর নাড়ুয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হিসেবে এলাকার উন্নয়ন ও মানুষের সেবা করে গেছেন। তিনি নাড়ুয়া লিয়াকত আলী স্মৃতি বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাকাল থেকে এর পরিচালনা ও উন্নয়নের সাথে সংশ্লিষ্ট ছিলেন। 

মোঃ হাবিবুর রহমান

রাজবাড়ি জেলায় সংস্কৃতির জগতে এক পুরোধা ব্যক্তিত্ব মোঃ হাবিবুর রহমান। শহরের এক বনেদি পরিবারে ১৯২০ সালে জন্মগ্রহণ করেন। পিতা মোঃ ফখরুদ্দিন দীর্ঘসময় রাজবাড়ি পৌরসভার কাউন্সিলর ছিলেন। পিতামহ ও পিতা ফখরুদ্দিন বৃটিশ ভারতে দেশের স্বাধীনতাকামী বলে পরিচিত।

ফখরুদ্দিন নিখিল ভারত মুসলিমলীগের অত্র অঞ্চলের একজন নেতা হিসেবে পরিচিত ছিলেন। পাকিস্তান আন্দোলনে আহম্মদ আলী মৃধা, ফখরুদ্দিন আহমেদ, অ্যাডভোকেট আব্দুল মাজেদ রাজবাড়ি জেলায় সুবেদিত নাম। এ ক্ষেত্রে হাবিবুর রহমানের অবদান স্মরণীয়।

হাবিবুর রহমান শৈশবকাল থেকেই ছিলেন সাহিত্য, সংস্কৃতিমনা। আবৃত্তি, নাটক, সঙ্গীতচর্চা তাঁর নিত্যদিনের কর্মে পরিণত হয়। ‘হোসনেবাগ’ ও ‘চিত্রা’ হলে তাঁর নির্দেশনায় নাটক ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হত। তিনি একজন দক্ষ অভিনেতা ছিলেন। শেষ বয়েসেও তাঁর কণ্ঠের আবৃত্তি শ্রোতাদের আকৃষ্ট করত।

তাঁর নিকট থেকে জানা যায় রাজবাড়ি, পাংশা, ফরিদপুরে কাজী নজরুল ইসলামের যাতায়াত ছিল। হাবিবুর রহমান শৈশবে কাজীদার সংস্পর্শে আসেন। কাজী নজরুল ইসলাম তাঁদের বাড়িতে একবার তিনদিন অবস্থান করেন। হাবিবুর রহমান ছিলেন একজন দরদী মানুষ। ধর্মভেদ, ধনি, দরিদ্র সকলের নিকট আপনজন বলে পরিচিত ছিলেন। ১৯৪৩ এর মহাদুর্ভিক্ষের সময় তাঁর ব্যকুল হৃদয় কেঁদে ওঠে। তিনি হিন্দু মুসলিম নির্বিশেষে গরিবদের জন্য বাড়ি বাড়ি গিয়ে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিতেন।  সৎ নিষ্ঠাবান হাবিবুর রহমান পরিণত বয়সে জনসেবার লক্ষ্যে ১৯৬৭ ও ১৯৭৭ সালে দুইবার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। চেয়ারম্যান থাকাকালীন তিনি পৌরসভার উন্নয়নে নানা প্রকল্প বাস্তবায়ন করেন।

Additional information