স্মরণীয় যাঁরা - পৃষ্ঠা নং-১০

স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় স্থানীয় জনগণের জীবন ও সম্পত্তি রক্ষায় তিনি আপ্রাণ চেষ্টা করেন। বিহারী প্রধান রাজবাড়ির বিহারীরা যখন দিনে দুপুরে হত্যা ও লুটতরাজ শুরু করে তখন তিনি এর তীব্র প্রতিবাদ করায় তাকে হত্যার পরিকল্পনা করে। তাকে না পেয়ে তার ভাই আশ্রাফ উদ্দিন আহমদ, আতা উদ্দিন আহমদ এবং ভাইয়ের ছেলে আতাউর রহমানকে গুলি করে। তাঁরা সকলেই শহীদ হন। এরপর হাবিবুর রহমান আত্মগোপন করেন। তিনি নানা ক্লাব, সমিতির পৃষ্ঠপোষক, সভাপতি ছিলেন। ১৯৭৮ সালে বিএনপি প্রতিষ্ঠিত হলে তিনি রাজবাড়ি জেলা বিএনপি’র সভাপতি নির্বাচিত হন। রাজবাড়িতে এ দল প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে তাঁর বিশেষ অবদান রয়েছেন। ২০০২ সালে তিনি ইহলোক ত্যাগ করেন। তাঁর স্মৃতির উদ্দেশ্যে রাজবাড়ি পৌর মেয়র কর্তৃক হাবিবুর রহমান সড়ক নামফলক স্থাপন করা হয়েছে।

এমএ মোমেন (বাচ্চু মাস্টার)

এমএ মোমেন বাচ্চু মাস্টার ১৯৩৯ সালে রাজবাড়ির সজ্জনকান্দায় বিখ্যাত মোল্লাবাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতার নাম আব্দুল গফুর মোল্লা। এমএ মোমেন ছিলেন একাধারে শিক্ষক, রাজনীতিবিদ, সমাজসেবক, মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক, ক্রীড়াবিদ ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব। তিনি বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি ন্যাপ (মোজাফফর) সভাপতি ছিলেন। এক সময় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি’র রাজনীতিতে সক্রিয় অংশগ্রহণ করেন। দাবি আদায়ে যে কোনো আন্দোলন সংগ্রামে তিনি বলিষ্ঠ নেতৃত্ব দেন। তিনি রাজবাড়িতে মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক হিসেবে কাজ করেন।

তিনি ছিলেন প্রকৃত অর্থেই একজন শিক্ষক। যে কারণে সর্বমহলে তিনি বাচ্চু মাস্টার বলে পরিচিত ছিলেন। তিনি প্রথমে রাজবাড়ি বালিকা বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা শুরু করেন। ১৯৬৮ সালে বিদ্যালয়টি সরকারিকরণ হলে সরকারি নিয়ন্ত্রণের আওতায় না থেকে স্বাধীন সত্ত্বায় শিক্ষা বিকাশের লক্ষ্যে নিজ উদ্যোগে শেরে বাংলা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন। বিদ্যালয়টিকে এক পর্যায়ে কলেজে রুপদানের পরিকল্পনা নেন। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হিসেবে বিদ্যালয়ের অবকাঠামোসহ প্রভূত উন্নয়ন সাধন করেন। 

রাজবাড়ির সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে বাচ্চু মাস্টার একসময়ের খু্বই সুপরিচিত নাম। তিনি উডহেড লাইব্রেরির গুরুদায়িত্ব পালন করেন। তিনি রাজবাড়ি শিল্পকলা একাডেমী প্রতিষ্ঠার অন্যতম উদ্যোগক্তা। বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠনের সভাপতি ও সদস্য সচিব ছিলেন। তিনি ছিলেন জাতীয় পর্যায়ের স্বীকৃত ফুটবল রেফারি। তাঁর স্ত্রী ফেরদৌস আরা ফারজানা (শেফালী) ছিলেন রাজবাড়ি পৌরসভার প্রথম মহিলা সদস্য। তার সন্তান কায়সুল মোমেন কাঁকন বর্তমানে চ্যানেল আই’র সিনিয়র মার্কেটিং ম্যানেজার। এই মহৎ ব্যক্তি ২০০৪ সালে ইন্তেকাল করেন। তাঁকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন করা হয়।

মোঃ ওমর আলী খান

পাংশা থানার মৃগী ইউনিয়নের খড়খরিয়া গ্রামের ওমর আলী খান একজন বিশিষ্ট সমাজসেবক ছিলেন। ৩০ বৎসর যাবত তিনি মৃগী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান থেকে এলাকার উন্নয়নসহ বিভিন্ন সেবামূলক কাজ করেছেন। মৃগী হাই স্কুলের প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই তিনি এ বিদ্যালয় পরিচালনায় দীর্ঘদিন সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। ওমর আলী খানের একপুত্র তোফাজ্জেল হোসেন অবসরপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ। আর এক পুত্র আব্দুল হাই বর্তমানে উচ্চ আদালতের বিচারপতি। তাঁর পুত্র ডা. আব্দুল লতিফ খান বিশিষ্ট চক্ষু চিকিৎসক, আব্দুল বারি একজন বিশিষ্ট প্রকৌশলী এবং মেয়ে নাজমুন নাহার বিশিষ্ট চিকিৎসক।

Additional information