স্মরণীয় যাঁরা-২ - পৃষ্ঠা নং-২

ভাষার প্রতি গভীর মমত্ববোধে মুন্সী তোফাজ্জেল হোসেন জীবন বাজি রেখেছেন, ভাষার দাবি আদায়ে অকুতোভয় সৈনিকের ভূমিকা পালন করেছেন। ২০০৬ সালে ২১ ফেব্রুয়ারি জেলা প্রশাসন কর্তৃক আয়োজিত বইমেলায় (রাজবাড়ি সরকারি উচ্চ বালক বিদ্যালয় মাঠে) তাঁকে ভাষাসৈনিক হিসেবে সংবর্ধনা দেওয়া হয়।

মোঃ হামিদুল হক (ভোলা মিয়া)

১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি ভাষা আন্দোলনে যাঁরা যোগদান করেন তাদের মধ্যে হামিদুল হক (ভোলা মিয়া) একজন। তিনি তখন ঢাকা কায়েদে আজম কলেজের ছাত্র। ছাত্রকালীন তিনি রাজনীতি সচেতন ছিলেন এবং ভাষার দাবিতে ছাত্রদের সংগঠিত করেন। ২১ ফেব্রুয়ারি তিনি ছাত্রদের নিয়ে মিছিলে যোগ দেন। পুলিশের ব্যারিকেড ও গুলির মুখে কায়েদে আজম কলেজে আত্মগোপন করেন। সেখান থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়। হামিদুল হক বড় আঙ্গারীয়া, শাহাজাদপুর পাবনায় জন্মগ্রহণ করেন। পিতা মহব্বতজান চৌধুরী ছিলেন তৎকালীন অনার্স গ্রাজুয়েট। ১৯৫৮ সালে রাজবাড়ির কাজীকান্দায় স্থায়ী বসতি স্থাপন করেন। হামিদুল হক মুজিবনগর সরকারের প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দিন আহমদের প্রেস সেক্রেটারী ছিলেন। বর্তমানে তিনি কাজীকান্দায় অবসর জীবনযাপন করেছেন। 

এবিএম সাত্তার

সুদীর্ঘকাল শিক্ষকতার পেশায় থেকে এবিএম সাত্তার শিক্ষার সঙ্কট নিরসনে সর্বক্ষেত্রে বলিষ্ঠ ভুমিকা রেখে চলেছেন। জাতীয় জীবনে শিক্ষার গুরুত্বের ভাবনা ছাত্রজীবন থেকেই তাকে পেয়ে বসে, ফলে এ মেধাবী ছাত্রটি পেশা হিসেবে বেছে নেন শিক্ষকতা। কৃতিত্বের সাথে তিনি শিক্ষকতা করেছেন কুষ্টিয়া সরকারি কলেজ, সরকারি রাজেন্দ্র কলেজ, সরকারি সারদা সুন্দরী মহিলা কলেজ, সরকারি নাজিমউদ্দিন কলেজ উলিপুর সরকারি ডিগ্রি কলেজ, ইয়াছিন কলেজ এবং ঝিনাইদহ সরকারি কেসি কলেজ। উপাধ্যক্ষ ও অধ্যক্ষ হিসেবে নিয়োজিত ছিলেন কেসি কলেজে। বর্তমান শিক্ষার সঙ্কট তাকে ভাবিয়ে তোলে, তিনি রচনা করেন জ্ঞানগর্ভ গবেষণামূলক প্রবন্ধ ‘কতিপয় শিক্ষা ভাবনা ---- এখনই সময়’ যা শিক্ষার সঙ্কট নিরসনে ও শিক্ষা বিস্তারের ক্ষেত্রে মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত। যশোর বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক ও চেয়ারম্যান হিসেবে শিক্ষার মান উন্নয়নসহ পরীক্ষায় দুর্নীতি দমনে বলিষ্ঠ ভূমিকা ও প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন। শিক্ষার ক্ষেত্রে অবদান রাখায় ১৯৯৭ সালে শিক্ষা সপ্তাহে তিনি জাতীয় পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ কলেজ শিক্ষক নির্বাচিত হন এবং প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক স্বর্ণপদকে ভূষিত হন। তিনি একজন প্রবন্ধকার, সাহিত্যবেবী। তার লেখা ধর্ম, দর্শন, সাহিত্য, ইতিহাস এবং শিক্ষাবিষয়ক প্রবন্ধ পত্র-পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। মুক্তিযুদ্ধ তার স্মৃতিতে নাড়া দেয়। তিনি রচনা করেছেন ‘ব্যালাড অফ এ ফ্রিডম ফাইটার্স’ তিনি ফরিদপুর সাহিত্য পরিষদ ও নজরুল পরিষদের সভাপতি। ফরিদপুর জেলা শিল্পকলা একাডেমী, বায়তুল মোকাদ্দেম ট্রাস্ট এর প্রাক্তন সম্পাদক ছিলেন। স্থানীয়ভাবে হাসপাতাল, বিদ্যালয়, এতিমখানা এবং সাহিত্য সংস্কৃতি ও জনকল্যাণমুখী অরাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান নির্মাণ ও বিকাশে অবদান রেখে চলেছেন। এবিএম সাত্তার গোয়ালন্দ উপজেলার বরাট গ্রামে ১ আগস্ট জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা মোঃ মোকসেদ আলী মিয়া এবং মাতা বেগম সোনাভান খানম।

Additional information