স্মরণীয় যাঁরা-২ - পৃষ্ঠা নং-১১

জাতীয় চেতনার স্মৃতি ধারণে ‘শহীদ মিনার’ নির্মাণ শুরু করেন। ভবদিয়া উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সামনে নির্মাণ করেন আধুনিক স্থাপত্যশৈলীতে শহীদ মিনার। প্রশস্ত এ শহীদ মিনারটি উন্নত উজ্জ্বল টালি দিয়ে মোড়ানো। প্রচলিত নকশার কাজ অপূর্ব। আমাদের মতো অনুন্নত দেশে পাড়াগাঁয়ে জাদুঘর নির্মাণ যেন কল্পনারও অতীত তিনি কোটি টাকারও বেশি অর্থ দিয়ে নির্মাণ করেছেন দোতলা দুটি দালানে এম, এ করিম জাদুঘর। জাদুঘরের সংগ্রহের পরিমাণ হাজারের উপর। আমাদের গ্রামীণ জীবনের ঐতিহ্যসহ নানা বিরল সংগ্রহ রয়েছে। পৃথিবীর প্রায় সকল দেশের কোনো না কোনো সংগ্রহ এখানে স্থান করে নিয়েছে।

শিক্ষাই জাতিতে উন্নয়নের পথ প্রথস্ত করে। শিক্ষা বিস্তারের প্রতি অনুরক্ত ডা. আবুল হোসেনের কয়েক কোটি টাকায় শহরের প্রাণকেন্দ্রে সজ্জনকান্দায় গড়ে উঠেছে ‘ডা. আবুল হোসেন ডিগ্রি কলেজ’। কলেজের হোস্টেলটি শহরের মধ্যে দর্শনীয় অট্রালিকা। নিজ অথ দ্বারা কিনে দিয়েছেন ছাত্রদের জন্য বাস। অধ্যক্ষের শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কক্ষ লাইব্রেরি, খেলার মাঠ। কলেজের অধ্যক্ষ মঞ্জুরুল আলম দুলালের দক্ষ পরিচালনায় জেলার অন্যতম কলেজ হিসেবে প্রতিষ্ঠা লাভ করেছে। শিক্ষা বিস্তারের ক্ষেত্রে ভবদিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের বিল্ডিংসহ নানা স্থাপনা গড়ে তুলেছেন। সজ্জনকান্দায় মিসেস নূরজাহান প্রাথমিক বিদ্যালয়, ভবদিয়া এতিমখানা, এমএ করিম ফোরকানিয়া হাফেজিয়া মাদ্রাসা, এবতেদিয়া মাদ্রাসা, এমএ করিম খেলার মাঠ, গোরস্থান তাঁর অর্থ ব্যায়ে নির্মিত হয়েছে।

ডা. আবুল হোসেনের এক অভূতপূর্ব কর্ম ‘আবুল হোসেন কুইজ প্রতিযোগিতা।’ এর শুরুটা কাহিনীকেও হার মানায়। ২০০২ সাল। বিজন কান্তি সরকার জেলা প্রশাসক। এই মহৎ মানুষটির ভাবনা রাজবাড়ির ছাত্রদের মধ্যে কীভাবে মেধা উন্নয়নের চর্চা করা যায়? একদিন জেলা প্রশাসকের সম্মোলনকক্ষে সভা ডাকলেন। শহরের গন্যমান্য ব্যক্তি, শিক্ষক, সুধিজন সভায় উপস্থিত। জেলাভিত্তিক কুইজ প্রতিযোগিতা কীভাবে সফল করা যায়? জেলা প্রশাসকের এ প্রস্তাবনা উত্তম। তবে কিভাবে সফল করা যাবে? টাকার প্রয়োজন পঞ্চাশ হাজার। উপস্থিত সকলের সহযোগিতায় জেলা প্রশাসক কাজের ভার নিলেন। প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে ২১ ফেব্রুয়ারি শহীদ দিবসে। সে এক অভাবনীয় দৃশ্য। জেলা স্কুল মাঠে সহস্রাধিক ছাত্র, শিক্ষক, অফিসার, দর্শকের সমাবেশ। প্রতিযোগিতায় প্রথম পুরস্কার দশ হাজার টাকা, দ্বিতীয় পুরস্কার সাত ও তৃতীয় পুরস্কার পাঁচ হাজার টাকা। প্রতিযোগিতা চলছে। এরই মধ্যে জেলা প্রশাসক ভাবেন কী করে এ প্রতিযোগিতার অন্তত স্থিতি দেওয়া যায়। ডা. আবুল হোসেন তখন লন্ডনে। তাঁর ভগ্নীপতি ভবদিয়া স্কুলের প্রধান শিক্ষক আবু ইউসুপ আওয়াজ দেওয়ান, আবুল হোসেন কলেজের অধ্যক্ষ মঞ্জুরুল আলম দুলালের মাধ্যমে যোগাযোগ করেন। লন্ডনে বসে আবুল হোসেন কুইজের সফলতা জেনে টেলিফোনে পাঁচ লক্ষ টাকা দেওয়ার কথা জানান। সঙ্গে সঙ্গে মাইকে সে কথা জানিয়ে দেওয়া হল। সে এক অনন্য শিহরণ। হাজার মানুষের উচ্চ করতালির শব্দে চারিদিক আমোদিত হল। সপ্তাহ খানেকের মধ্যে জ্ঞানচর্চা কেন্দ্রের (জেলা প্রশাসকের আওতায়) মাধ্যমে একটি গঠনতন্ত্রের মাধ্যমে ‘আবুল হোসেন কুইজ’ অনন্ত স্থিতি লাভ করল। (লেখক আবুল হোসেন কুইজের জেলা প্রশাসন কর্তৃক মনোনীত একজন সদস্য)। সেই থেকে প্রতিবছর একুশ ফেব্রুয়ারি আবুল হোসেন কুইজ অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। রাজবাড়ির শিক্ষা সংস্কৃতির ধারা যতদিন বহমান থাকবে আবুল হোসেন কুইজ অনুষ্ঠিত হবে ততদিন বছরে একবার। উল্লেখ্য, এ অনুষ্ঠানটি জেলা প্রশাসকের তত্ত্বাবধানে প্রথমে উপজেলা এবং চূড়ান্ত পর্ব জেলায় শহীদ দিবসে অনুষ্ঠিত হয়। দেশ ও জাতির স্থায়ীত্বের সরলরেখায় বহমান থাকবে শহীদ দিবস, সে সাথে থাকবে আবুল হোসেন কুইজ। উচ্চারিত হবে আবুল হোসেনের নাম। কিন্তু বিজন কান্তি সরকার? মহান এ উদ্যোগক্তার নাম থাকল এই ইতিহাসের পাতায়।রাজবাড়ির মানুষের সাংগঠনিক চেতনায় তাঁর অর্থে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে ‘ডোনেশান টু রাজবাড়ি ওয়েলফেয়ার এ্যাসোসিয়েশন’ ‘ সেডো অর্গানাইজেন, ‘আসিয়া করিম ক্লাব ও পাবলিক লাইব্রেরি’ ‘হেলপ ফর দি ভেরিয়াস মাস্ক ফর পুয়োর পেমেন্ট’, ‘হেলফ ফর দি ম্যারেজ গালর্স’ ‘জাহাঙ্গীর নগর ইউনিয়ভারসিটি ফর স্কলারশীপ’, ‘প্রবীন হিতৈষী সংঘ’।

Additional information