স্মরণীয় যাঁরা-২ - পৃষ্ঠা নং-১২

রাজবাড়ির খেলাধুলার জগত ও বিনোদনের জন্য প্রতিষ্ঠা করেছেন ‘এম এ করিম গোল্ডকাপ  টুনামেন্ট’, ‘শিশু ফুটবল’ ‘সাইকেল খেলা’ ‘ম্যারাথন রেস’ ‘কেরাম ক্লাব’ ‘পোস্ট অফিস, ‘সাঁতার প্রতিযোগিতা’ ইত্যাদি। সমাজসেবায় তাঁর এ সকল কাজ চলমান আছে এবং ভবিষ্যতে আরো অনেক উন্নয়নমূলক কাজ তিনি করবেন এ কথা তাঁর নিকট থেকে জানা যায়। লেখক রাজবাড়ি সাহিত্য ও সংস্কুতি সংসদের সভাপতি। এই সংসদের মাধ্যমে ২০০৯ এ আবুল আহসান চৌধুরীকে  ‘মীর মশাররফ হোসেন সাহিত্য পুরস্কার’ এ পুরস্কারের জন্য ডা. আবুল হোসেন সাত হাজার টাকা প্রদান করেন। সদালাপী, সহজ সরল মনের মানুষ ডা. আবুল হোসেনের গল্প আরো দীর্ঘ হবে। ভবদিয়ায় তাঁর কর্ম সংরক্ষণ করা জরুরি হবে। ঐতিহ্যের নিদর্শন হিসেবে গড়ে উঠবে পর্যটন কেন্দ্র। আবুল হোসেন একদিন তাঁর কর্ম থেকে সরে দাঁড়াবেন তারপর বিদায় নিবেন পৃথিবী থেকে। তাঁর নশ্বর দেহ স্মৃতি হয়ে থাকবে রাজবাড়ির মানুষের মনে এ দাবি রাজবাড়ির মানুষ করতেই পারে। এখন তিনি মাঝেমধ্যে লন্ডন থেকে এসে আমাদের সাথে মিশে থাকেন। তখন মিশে থাকবেন পিতৃভূমির মাটি, হাওয়া আর ফসলের সাথে। কোনো পথিক স্মৃতির গায়ে লেখা তাঁর নাম বা রকম কোনো কবিতার ছন্দ পড়ে শিহরিত হবেন-------

গরিব গোরে দীপ জ্বেলো না

ফুল দিও না কেউ ভুলে

শ্যামা পোকার না পুড়ে পাক

দাগা না পায় বুলবুল

কে নেবে ডা. আবুল হোসেনকে নিয়ে আরো গল্প ও ছন্দ লেখার ভার? বহুল প্রচলিত ছন্দটি এখানে ইঙ্গিতবহ।

একেএম রফিক উদ্দিন

একেএম রফিক উদ্দিন এর পরিচয় জানা থাকলেও এ মহৎপ্রাণ মানুষটির সাথে আমার প্রথম সাক্ষাৎ ঘটে ২০০৫ সালে রাজবাড়ি শহরে অবস্থিত ক্যামব্রিজ মাল্টিমিয়ার দোতলায়। পরিণত বয়সের সৌমকান্তি চেহারা, কথায় সুমিষ্টতা, সংযত বাক্য ব্যবহারে অসাধারণ ব্যক্তিত্বসস্পন্ন মানুষটিকে দেখে, আনন্দ অনুভব করলাম। চেষ্টা করছিলাম তাঁর মহানুভবতার প্রসারতা। ছোট্র অথচ আধুনিক জ্ঞান প্রসারে প্রত্যয়ী এ প্রতিষ্ঠানে তিনি এসেছেন আগামী প্রজন্মকে জ্ঞানালোকে সম্পৃক্ত করার লক্ষ্যে, ৪টি কম্পিটার ১টি এসি-সহ একটি কম্পিউটার ল্যাব গড়ে দিতে। ঐদিনই বিকেলে তাঁকে রাজবাড়ি পাললিক লাইব্রেরি হলে এক নাগরিক সম্বর্ধনা লাইব্রেরিকে তিন তলা করাসহ ১৯টি বই ভর্তি আলমারী অনুদানের প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন। জ্ঞানচর্চা আমার নেশা। আমি জানি এ নেশায় যদি কেউ মত্ত হন তার নিকট পার্থিব এ জীবনের অর্থকড়ি সম্পদ তুচ্ছজ্ঞান মনে হয়। মানবসেবা, কল্যাণ, প্রেম মুখ্য হয়ে ওঠে। তাঁর সঙ্গী অতিথির নিকট থেকে রফিক উদ্দিনের জ্ঞানর্চার বিষয়ে যতটুকু জানতে পারলাম তা হল তাঁর অতি নিকটের মানুষ তাকে সম্বোধন করেন ‘জ্ঞানকুম্ভ’ বলে। তাঁর জ্ঞানের গভীরতা অনুভব করলাম যখন তিনি বর্তমান বিশ্বের আইনস্টাইন বলে পরিচিত স্টিফেন হকিং এর জটিল তত্ত্ব নিয়ে আমার সাথে আলাপচারিতা শুরু করলেন। নদীর স্রোতের প্রবাহমানতার মতো জ্ঞানের স্রোতের প্রবাহমানতাও বিভিন্নমুখী। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই জ্ঞানের প্রয়োগ ব্যক্তিস্বার্থ এবং ব্যক্তিকেন্দ্রিক। তবে জ্ঞানের প্রয়োগ যখন বিজ্ঞান এবং সমাজ স্বার্থের দিকে প্রবাহমান হয়, ব্যক্তি তখন হয়ে ওঠেন আলফ্রেড নোবেল’, ‘হাতেমতায়ী’ বা হাজী মুহম্মদ মোহসীনের মত।

Additional information