স্মরণীয় যাঁরা-২ - পৃষ্ঠা নং-৪

অস্কার বিজয়ী নাফিজ বিন জাফর

অস্কার বিজয়ী নাফিজ বিন জাফরমুভি জগতের ‘নোবেল’ বলে পরিচিত ‘অস্কার’ প্রাপ্ত নাফিজ বিন জাফর রাজবাড়ির সন্তান। হলিউড কর্তৃক প্রদত্ত বিশ্বের সেরা অভিনেতা, অভিনেত্রী, চলচ্চিত্রকার পরিচালক এবং চলচ্চিত্রের অন্যান্য শাখার কলাকুশলীগণ প্রতিবছর এ পুরস্কারে ভূষিত হন। কেবলমাত্র ২০০৮ এ মুভি জগতের প্রযুক্তি ব্যবহারে ভিন্ন ধারা ‍সৃষ্টির জন্য সায়েন্টফিক এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং এওয়ার্ড শাখায় ‘অস্কার’ লাভ করেন নাফিজ বিন জাফর। এই প্রথম বাংলাদেশের কোনো কৃতিসন্তান এই বিরল সম্মাননা লাভ করেন সমাজ ও সভ্যতার অগ্রায়নে চলচ্চিত্রের ভূমিকা যে কোনো মাধ্যমের তুলনায় অধিক গুরুত্ব বহন করে আসছে। অচল থেকে সচল; অবাক থেকে সবাক, সাদাকালো থেকে রঙিন চলচিত্র বিকাশের ধারায় নানা প্রযুক্তির সংযোজন ঘটেছে। অভিনয়, সংগীত, ছন্দ, দৃশ্যশৈলীতে দর্শক শ্রোতা মুগ্ধ হয়। কিন্তু এর নির্মাণশৈলী সৃষ্টি হয় নেপথ্য প্রযুক্তির কৌশলে। নাফিজ বিন জাফর যে প্রযুক্তির সংযোজন করেছেন তা অভিনব ও বিস্ময়কর। ঝড়, প্লাবন, জলোচ্ছাস, ভাঙ্গন এসব দৃশ্যাবলী আমরা চলচ্চিত্রে দেখে থাকি। এ সব দৃশ্যায়ন প্রযোজক, পরিচালককে যেমন দৃশ্য ধারণে মাস বা বছরের পর বছর অপেক্ষা করতে হয়, তেমনি তা কষ্টসাধ্য ও ব্যয়বহুল কিন্তু নাফিজ কম্পিউটার প্রযু্ক্তির সাহায্যে  যে প্রযুক্তিটি উদ্ভাবন করেছেন তা হচ্ছে এমন যে, ঢাকা শহর বন্যা বা জলোচ্ছ্বাসে তলিয়ে যাচ্ছে, সেটির উপর দিয়ে জাহাজ চলছে বা ভূ-কম্পনে শহর ভেঙ্গে চুরমার ধুলিসাৎ হয়ে গেল বা অগ্নিকাণ্ডে শহরটি পুড়ে ছাড়খাড় হল, প্রচণ্ড ঝড়ে সব কিছু তছনছ হল কিন্তু বাস্তবে কোনো পানি, ভূ-কম্পন, ঝড় বা আগুন নেই। কম্পিউটার সফটঅয়্যার প্রযুক্তির মাধ্যমে তিনি এ অভিনব কাজটি করেছেন। তার পুযুক্তি দ্বারা ব্যবহৃত ছবি ‘লর্ড দ্য কিং’ এরপর ‘ডে আফটার টুমরো’। আরো ফিল্ম হল---- ‘স্টিলথ ফ্লাগ অব আওয়ার’ ‘পাইরেসি অব দ্য ক্যারাবিয়ান’ ইত্যাদি। সভ্যতা বিকাশে উদ্ভাবনের সূত্র বিস্তারের মতই নাফিজের উদ্ভাবিত প্রযুক্তি ছড়িয়ে পড়ছে বিশ্বের এ প্রান্ত থেকে সে প্রান্তে। তার এ অবদানের জন্য বিশ্ব মুভ্যি জগতের সেরা পুরস্কার প্রদানকারী সংগঠন লস এঞ্জেলসভিত্তিক একাডেমী অব মোশন পিকচার্স আর্টস এন্ড সায়েন্সের ৭৯ বছরের ইতিহাসে এই প্রথম যুক্ত হল বাংলাদেশের নাম। ২৯ বছরের যুবক রাজবাড়ির নাফিজ বিন জাফর এর নায়ক। ৯ ফেব্রুয়ারি ২০০৮ হলিউডের বিভারলি উইলশায়ার মিলনায়তনে বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের খ্যাতনামা অভিনেত্রী জেসিকা এলবা এ এওয়ার্ড বিতরণ করেন। এওয়ার্ড নিয়ে পেডিয়াসে বক্তব্যের সময় তিনি বাংলাদেশের মানুষ, নিস্বর্গের কথা তুলে ধরেন। আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে দেশের ভাবমূর্তি উ্জ্জ্বল করেন।

রাজবাড়ি শহরের ঐতিহ্যবাহী কাজীকান্দার জাফর বিন বাশারের একমাত্র সন্তান নাফিজ বিন জাফর। মাতা নাফিসা জাফর। নাফিসের বয়স যখন দশ বছর তখন বাবা পরিবারসহ আমেরিকাবাসী হন। নাফিসের চাচা কাজী আব্দুল মাসুদ ও কাজী আব্দুল আলিম রাজবাড়ির কাজীকান্দায় বসবাস করেছেন। নাফিস বিন জাফরের মামা সৈয়দ ময়নুল হোসেন সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধের পরিকল্পনাকারী স্থপতি। নাফিস একজন কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ার। কাজ করেন লস এঞ্জেলস সিটির ভ্যানিসে অবস্থিত ‘ডিজিটাল ডোমেইন’ নামক ফার্মে। মূলত তিনি সফটঅয়্যার ইঞ্জিনিয়ার।

 মা-মাটি-মাতৃভূমি। মাতৃভূমির প্রতি মানুষের নাড়ির টান। সময় সুযোগ হলেই এ মাতৃভূমির টানে ছুটে আসেন স্বদেশে ভূমিতে। তার চেয়েও বড় কথা তিনি ছুটে আসেন পিতা মাতার বাস্তভিটা রাজবাড়ির কাজীকান্দায়। অস্কার প্রাপ্তির পরপরই গৃহের সন্তান কাজীকান্দায় আসেন। আনন্দের অভিব্যক্তিতে সিক্ত করেন নিজেকে। শহরের সকল স্তরের মানুষ তাকে ‘আমাদের সন্তান’ বলে সংবর্ধনা প্রদান করেন।

Additional information