স্মরণীয় যাঁরা-২ - পৃষ্ঠা নং-৫

প্রফেসর অধ্যক্ষ মোহাম্মদ আলী খান

অত্যন্ত মেধাবী, শিক্ষাবিদ, সুবক্তা, সমাজসেবক, ধার্মিক প্রফেসর মোহাম্মদ আলী খান। তিনি রাজেন্দ্র কলেজ থেকে স্নাতক শ্রেণিতে ডিসটিংশনসহ প্রথম বিভাগে স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন। প্রফেসর মোহাম্মদ আলী খান ১৯৪০ সালে পাংশা উপজেলার চৌবাড়িয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৫৭ সালে গণিতে লেটারসহ ম্যাট্রিক পাস করে রাজেন্দ্র কলেজ থেকে আইএসসি ও স্নাতক এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পদার্থবিদ্যায় কৃতিত্বের সাথে এমএসসি পাস করেন। তিনি ১৯৬৪ সালে রাজবাড়ি কলেজে প্রভাষক পদে যোগদান করেন। পরবর্তীতে প্রফেসর পদে উন্নীত হন এবং ১৯৯৫ সালে রাজবাড়ি সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ পদে নিয়োজিত হন। ১৯৯৭ সালে অবসর গ্রহণ করেন।

পদার্থ বিজ্ঞনের সফল শিক্ষক হিসেবে তাঁর ব্যাপক খ্যাতি রয়েছে। কেবল বিজ্ঞান বিষয়েই নয়, রাজনীতি, রাষ্ট্র বিজ্ঞান, ইতিহাস, সাহিত্য, দর্শন ও ধর্ম বিষয়ে তিনি গভীর জ্ঞানের অধিকারী। দীর্ঘসময় রাজবাড়ি কলেজের পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের প্রধানের দায়িত্বে থেকে তিনি উক্ত বিভাগে প্রভূত উন্নতি সাধন করেন। অধ্যক্ষ থাকাকালীন লাইব্রেরি উন্নয়ন, খেলার মাঠ উন্নয়ন, মসজিদ উন্নয়ন, পুকুর ঘাট বাঁধানো, বৃক্ষ রোপন, কলেজে ভূতপূর্ব অধ্যক্ষের ছবি সংগ্রহ করে অধ্যক্ষের কক্ষ সজ্জিতকরণসহ অনার্স মাস্টার্স শ্রেণির উন্নতি সাধন করেন। তিনি অত্র অঞ্চলের হাজার হাজার ছাত্র-ছাত্রীর শিক্ষাগুরু। শিক্ষার প্রদীপ হাতে এ ব্রতচারী শিক্ষাবিদ ‍উচ্চ শিক্ষার আলোকে আলোকিত করেছেন। সমাজসেবায় রয়েছে তাঁর অনন্য অবদান। তিনি আরএসকে ইনস্টিটিউশন, অঙ্কুর স্কুল এন্ড কলেজ, শেরে বাংলা বিদ্যালয়, আবুল হোসেন কলেজ, শিশুকল্যাণ প্রাথমিক বিদ্যালয়, রাজবাড়ি ল’ কলেজ, রাজবাড়ি হোমিওপ্যাথিক কলেজসহ প্রবীন হিতৈষী সংঘ, আঞ্জুমানে মফিদুল ইসলাম, বিশ্ব মানবধিকার ব্যুরো, রাজবাড়ি সরকারি কলেজ উন্নয়ন সংস্থা, হাফেজিয়া কওমী মাদ্রাসা, তাবলীগ জামাত, আয়না সমাজকল্যাণ সংস্থা, রাজবাড়ি কলেজপাড়া শান্তি কমিটি, কমিউনিটি পুলিশ কমিটি এরুপ সমাজকল্যাণমূলক অসংখ্য সংস্থার সহ সভাপতি, প্রধান উপদেষ্টা, জীবন সদস্য, আহবায়ক, দাতা সদস্য, প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি। তিনি বাংলাদেশ সরকারি কর্মচারী কল্যাণ সমিতির রাজবাড়ি শাখার সভাপতি। সমাজকল্যাণে নিবেদিত প্রাণ প্রফেসর মোহাম্মদ আলী খান রাজবাড়ির মানুষের নিকট শ্রদ্ধেয় নাম।

ডা. গোলাম মোস্তফা

রাজবাড়ি শহরে অতিপরিচিত এবং বিশিষ্ট চিকিৎসক ডা. গোলাম মোস্তফা। মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি চিকিৎসক হিসেবে আহত মুক্তিযোদ্ধাদের চিকিৎসা করতেন। এভাবেই তিনি দেশ সেবায় আত্মনিয়োগ করেন। ডা. গোলাম মোস্তফা রাজবাড়িতে বঙ্গবন্ধু পরিষদের সভাপতি। তিনি বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকান্ডের সাথে জড়িত। স্মৃতিচারণে লেখক তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করছে। বাসায় শখের বসে একটি দেশী কুকুর পুষেছিলাম। নানাভাবে প্রশিক্ষণে কুকুরটি খুবই প্রভুভক্ত হয়। কুকুরটি রাবিস আক্রান্ত হয়ে ক্ষিপ্ত হয় এবং আমার উরুতে কামড় দিয়ে রক্তাক্ত করে। ডা. গোলাম মোস্তফা অতিযত্নের সাথে ১৪টি ইনজেকশন নিজ হাতে নাভিতে পুশ করেন এবং নানা পরামর্শ দেন। এর জন্য তিনি কোনো ফি গ্রহণ করেননি। রাবিস আক্রান্ত কুকুরের কামড়ে মৃত্যু অবধারিত। ইনজেকশন নেওয়ার পরও অনেক রোগী মারা যায়। হয়ত তাঁর দক্ষ হাতের ইনজেকশন পুশ এবং পরামর্শ আমাকে সে যাত্রা রক্ষা করেছে।

Additional information