স্মরণীয় যাঁরা-২ - পৃষ্ঠা নং-৭

তিনি ১৯৮৯ সালে বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসে যোগদান করেন। বর্তমানে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হিসেবে শরীয়তপুর সদর উপজেলায় কর্মরত আছেন। একজন বিশিষ্ট শিশু সংগঠক। এক সময়ে তিনি রেডিও কাব তথা ‘শাপলা শালুকের আসর’ এর জাতীয় পর্যায়ে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। চাকরি জীবনে তিনি দেশের অভ্যন্তরে বিভিন্ন প্রশিক্ষণ ছাড়াও ডেনমার্ক, জার্মান, সুইডেন প্রভৃতি দেশে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছেন

কাজী সিরাজুল ইসলাম খাজা

মানুষের কল্যাণ কামনায় নানাবিধ কর্মসংযোজনে নিয়োজিত একজন মানুষের নাম সিরাজুল ইসলাম। রাজবাড়ির মানুষের কাছে তিনি স্নেহ ও স্মৃতির পরশে ‘খাজা’ নামে পরিচিত। সংগ্রাম, স্থিতি ও বিকাশ এবং নিবেদন এই তিন কর্মের মধ্যে মানুষের সঠিক পরিচয়। যে মানুষ এ তিনটি কর্মের সমন্বয় ঘটাতে সক্ষম তিনিই সমাজ সংসারে প্রিয়তর মানুষ বলে পরিচিতি লাভ করেন। সিরাজুল ইসলামের মধ্যে এই তিন কর্মের  অপূর্ব সমন্বয় রয়েছে। পরিস্থিতির সম্মুখীন সংগ্রাম, দৃঢ় প্রত্যয় আর কর্তব্য কর্মের একনিষ্ঠতায় আপন ভুবন সৃষ্টিতে সচেষ্ট হন। তার জীবনের পথই তার পথের গন্তব্যস্থানে পৌঁছে দেয়। বর্তমানে তিনি বাংলাদেশের একজন বিশিষ্ট শিল্পপতি। শিল্পপতির চেয়েও তাঁর বড় পরিচয় তিনি সমাজসেবক। রাজবাড়িতে ইতিমধ্যে শাপলা কিন্ডার গার্টেন স্কুল প্রতিষ্ঠা করেছেন যার ব্যয়ভার তিনি নিজে বহন করেন। রাজবাড়িতে তার উদ্যোগে গড়ে উঠেছে চিকিৎসার নিমিত্তে ‘হার্ট ফাউন্ডেশান’। বেড়াডাঙ্গা এক নং সড়কে হাসপাতাল নির্মাণের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছেন। বিভিন্ন ক্লাব, সংগঠন, দুস্থদের অকাতরে অনুদান ও দান খয়রাত করেন। খাজার নিকট থেকে কেউ খালি হাতে ফেরে না এ বিষয়টি প্রবাদের মতো লোখমুখে শোনা যায়। সমাজসেবায় সিরাজুল ইসলাম দীর্ঘজীবী হন-এ কামনা সকলের।

 মানবকল্যাণে নিবেদিত এক নাম আলহাজ্ব শাহাবুদ্দিন আহমদ

‘ধনে ধান্যে পুস্পে ভরা’ এ বাক্যের পূর্বাংশ রাজবাড়ির জন্য যথার্থ না হলেও পর অংশ সঠিক ও সত্য। মানবকল্যাণে অধিক সংখ্যক পুস্পের প্রষ্ফুটন ঘটেছে রাজবাড়ির মাটিতে। নানা পুস্পের ভিড়ে একটি পুস্পের নাম আলহাজ্ব শাহাবুদ্দিন আহমদ। ফুল পাপড়ি মেলে, গন্ধ বিলায়। বিবর্ণ পাপড়ি, গন্ধ মিশে যায় মাটিতে, বাতাসে। কেবল মানবকল্যাণে ফোটা ফুল রেখে যায় স্মৃতি। মনের ক্যানভাসে ভেসে ওঠে তাঁদের ছবি। এমনি স্মৃতির আখর তিনি রেখে চলেছেন তাঁর কর্মের মধ্যে। মানবকল্যাণে তাঁর কর্মপরিধি কেবল বিস্তৃতই নয়, নির্মোহ এবং বহুমাত্রিক। শাহাবুদ্দিন আহমদ ১৯৪৫ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর পাংশা উপজেলার জয়কৃষ্ণপুর গ্রামে জন্মগ্রহন করেন। পিতা মুনসী দিয়ানত আলী। মাতা মোসাম্মাৎ মজিরন নেছা। ১৯৬২ সালে তিনি পাংশা হাবাসপুর কাসিম বাজার রাজ উচ্চ বিদ্যালয় থেকে প্রথম বিভাগে ম্যাটিকুলেশন পাস করেন। ১৯৬৪ সালে সরকারি রাজেন্দ্র কলেজ থেকে আইএসসি এবং ১৯৬৬ সালে বিএসসি পাস করে ১৯৬৮ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এলএলবি ডিগ্রি অর্জন করেন। প্রথমে তিনি বাংলাবাজার গভর্নমেন্ট গার্লস হাই স্কুলে শিক্ষকতা পেশায় নিয়োজিত হন। এলএলবি সনদ লাভের পর ১৯৬৯ সালে সাময়িক আইন পেশায় যোগ দেন। নানা চড়াই উৎড়াইয়ের মধ্যে বেড়ে ওঠা এ মানুষটি ১৯৭০ সালে পাক সায়েন্টিফিক এন্ড কেমিক্যাল মার্ট প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বিজ্ঞান পাঠক্রমের যন্ত্রপাতি ব্যবসায় মনোনিবেশ করেন। যা স্বাধীনতা উত্তরকালে ‘সায়েন্টিফিক এন্ড কেমিক্যাল মার্ট’ নামে পরিচিত। বর্তমানে তিনি শাহাবুদ্দিন আহমদ এন্ড কোং মাল্টিটেক কম্পিউটারস এবং সায়েন্টিফিক সলিউশান প্রাঃ লিঃ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সফল ব্যবসায়ী হিসেবে সুনাম অর্জন করেছেন। তিনি বাংলাদেশ বৈজ্ঞানিক যন্ত্রপাতি বণিক সমিতির সহ-সভাপতি ছিলেন। ‘হায়রে পাতকি অর্থ তুই যত অনর্থের মূল’-গাজী মিয়ার বস্তানী গ্রন্থে মীর মশাররফ হোসেন এমন বাক্য ব্যবহার করেছেন প্রহসন অর্থে। আসলে অর্থ অনর্থের মূল নয়, যদি তা ব্যবহার হয় মানবকল্যাণে। এ দৃষ্টান্ত প্রতিষ্ঠা করেছেন শাহাবুদ্দিন আহমদ।

Additional information