স্মরণীয় যাঁরা-২ - পৃষ্ঠা নং-৯

ততই পশ্চাতে সরে যায় আকাশ

আমি তো দুর আকাশকেই ছুঁতে চাই

আকাশ বলে, এই দ্যখো ----আমি আছি তোমারই কাছে।

আলহাজ্ব শাহাবুদ্দিন আহমদ এই কাছের আকাশকে চিনেছেন। এ আকাশ তার নিত্যসঙ্গী।

ডা. আবুল হোসেন

ডা. আবুল হোসেন আহমদ আলী খান পল্লীবাসী, কম শিক্ষিত। শামসুর রহমান, নির্মলেন্দু গুণ, বিষ্ণু দে, সমুদ্র গুপ্তের কবিতার সাথে ওর পরিচয় নেই। যা দেখে তাই নিয়ে কবিতা লেখে। নদী, বিল, শাপলা থেকে শুরু করে গাছ, মাছ, মাছরাঙা, শালিক এমন কি পিঁপড়ার ঢিবি, উইয়ের ঢিবি কিছুই বাদ যায় না। একদিন ৪/৬ সাইজের ৪ পাতার একটি কবিতা আমার হাতে দিয়ে বলর----স্যার বাসায় নিয়ে পড়বেন। গবেষকের নিকট কোনো কিছুই তাচ্ছিল্যের নয়। যত্ন করে আমার সংগ্রহের বান্ডিলে জমা রাখলাম। রাজবাড়ি জেলার ইতিহাসে ডা. আবুল হোসেনকে নিয়ে লিখতেই হবে এটা স্মরণে আছে। লেখার উপাদান খুঁজছিলাম। চোখে পড়ল আহম্মদ আলীর লেখাটি চোখ বুলাতেই মনে হল আহমদ অতি যত্নে কবিরতায় ডা. আবুল হোসেনের গল্প লিখেছে। আবুল হোসেন মানবসেবার দরদী নায়ক, আহমদ আলীর কবিতার নায়ক শত সহস্র ছাত্র-ছাত্রী আদর্শের নায়ক, রাজবাড়ির সাধারণ মানুষের অবসরের আড্ডায় দান দয়ার গল্পের নায়ক, চেতনাশীল মানুষের সমাজসেবায় উদ্ধুদ্ধকরণের নায়ক। আহমদ আলীর কথায়--------

ডা. আবুল হোসেনের কথা কী বলিব ভাই

তাঁহার মতো দানশীল ব্যক্তি আমরা দেখি নাই

কত প্রতিষ্ঠান তিনি মানুষের কল্যাণে

করেছেন প্রতিষ্ঠা ভাই সর্বলোকে জানে

সর্বত্যাগী, সর্বগুণী সর্ব গরিয়ান

সর্বপরি সর্বশ্রেষ্ঠ সর্ব মহিয়ান।

১৯৬৬ সালে আমি স্নাতক শ্রেণির ছাত্র। রোগে আক্রান্ত হয়ে তাঁর চেম্বারে যাই। সবেমাত্র তিনি এবিবিএস পাস করে এসেছেন। তখনকার দিনে এমবিবিএস পাস করা ডাক্তার সারা ফরিদপুর জেলায় ২/৪ জনের বেশি ছিল না। রাজবাড়িতে সময় তিনিই একমাত্র উচ্চতর ডিগ্রিপ্রাপ্ত ডাক্তার। তিনি কেবল ব্যবস্থাপত্রই দিলেন না, আমাকে কাছে টেনে পুত্রবৎ আদর করলেন। পড়ালেখাসহ স্বাস্থ্যবিধি বিষয়ে নানা উপদেশ দিলেন। তখন রাজবাড়িতে পরবাসী হিসেবে আমার মনে হয়েছিল তিনি আমার আস্থা, আপনজন। এরপর রাজবাড়ি ছেড়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হই। ১৯৭০ সালে জানুয়ারি মাসে রাজবাড়ি কলেজে শিক্ষক হয়ে ফিরে আসি। ডা. হোসেনকে খোঁজ করি। জানতে পারি তিনি সপরিবারে ইংল্যান্ডে চলে গেছেন। তখন ভেবেছিলাম ধনিক জোতদারের একমাত্র ছেলে, যিনি সোনার চামচ মুখে দিয়ে জন্মেছেন, এত বড় ডাক্তার তাঁর কি এমন টাকার অভাব হল যে, টাকার জন্য গরীব শহর ছেড়ে টাকার শহরে চলে গেলেন। আবুল হোসেন মানবসেবার ব্রতচারী হয়ে জন্মেছেন। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যাতায়াত, সৌন্দর্য বঞ্জিত রাজবাড়ির মানুষের জন্য কিছু করতে হবে।

Additional information