লেখকের কথা - লেখকের কথা-২

পাংশা সমিতি ঢাকা কর্তৃক চন্দনা পত্রিকা প্রকাশের মাধ্যমে পাংশার অনেক ঐতিহ্য ধারন করা হয়েছে তা সত্ত্বেও তা ইতিহাস পুস্তক নয়। সাংবাদিক বাবু মল্লিক, সাংবাদিক জহুরুল হক, আবু মুছা বিশ্বাস, সংবাদ পত্রের মাধ্যমে রাজবাড়ি সম্বন্ধে অনেক তথ্য প্রকাশ করেছেন। এ সব ইতিহাস নয়, তবে ইতিহাস রচনার গুরুত্বপূর্ণ তথ্য। পাংশা কলেজের অধ্যাপক আবুল হোসেন মল্লিক রাজবাড়ি সম্বন্ধে অনেক তথ্য সংগ্রহ করেছেন কিন্তু প্রকাশ করতে পারেন নাই। জেলা প্রশাসন স্থানীয় বিশিষ্ট ব্যক্তিবৃন্দের সংশ্লিষ্টতায় রাজবাড়ি জেলার ইতিহাস রচনার উদ্যোগ গ্রহণ করেন। এ ব্যাপারে তৎকালীন জেলা প্রশাসক মমতাজ উদ্দিন এবং এ,এফ,এম মতিউর রহমানের উদ্যোগ পরবর্তীতে নানা কারনে ফলবতী হয় নাই।

বাল্যকাল থেকেই আমার নিভৃত পল্লীর পাশে বিরাট আয়তনের তেঢালা বিল দেখে মনে প্রশ্ন জাগত এ বিল কখন থেকে? লোক মুখে শুনতাম বহু পূর্বে এখান দিয়ে নদী প্রবাহিত হত। এর বেশী কেউ বলতে পারত না। গ্রামের পাশেই মধুপুর গ্রাম। সে গ্রামের পাশ দিয়ে যেতেই দেখা যেত ঝোপ ঝাড়ের মধ্যে পড়োবাড়ির ভিটা। লোকে বলত কুঠি, কিসের কুঠি বলতে পারতো না। এখন জানি এটা ছিল নীল কুঠি। রাজবাড়িতে ৪০ বৎসর বসবাস করছি। পাশেই পদ্মা নদী। জানতে ইচ্ছা করত, এ নদী কত দিন ধরে এ পথে প্রবাহিত হচ্ছে? লোকজনের কাছে জিজ্ঞাসা করলে বলত এ নদী তিনবার ভেঙ্গে গোদারবাজার পর্যন্ত এসেছে আবার দুরে সরে গিয়েছে। জানতে ইচ্ছে করত, রাজধারপুর এলাকার এতবড় কল্যাণদীঘি কে, কখন খনন করেছিলেন? লোকে শুধু অলৌকিক কাহিনীর কথা বলত। জেলার বরেণ্য সাধক সাহ পাহলোয়ানের আগমন কখন, কেন? লোকে বলে তার ইচ্ছায় কবর না দেওয়ায় সাধকের মৃত্যুর পর মাজারটি এক রাতে ঘুরে পূর্ব-পশ্চিম হয়ে গেছে। এর সত্যতা কোথায়? রাজবাড়ি রেল শহর অথচ কখন কবে রেল এসেছে তাও লোকে বলতে পারে না। এমনকি রাজবাড়ির নামটি কিভাবে এলো তারও স্পষ্ট প্রমাণসহ কেউ জানে না। লোকে বলে রাজা সূর্য্যকুমারের নামে। তাও প্রমাণসহ জানা দরকার। আমার সবচেয়ে ঔৎসুক্য জাগত রাজবাড়ির এত গ্রামের নামে পুর কেন? পুরের অর্থ কি? কেন এসব গ্রামের নাম পুর দিয়ে হল? রাজবাড়ির জঙ্গল ইউনিয়নের ৯৮% হিন্দু কেন? আবার মুসলমানদের বসবাস কখন, কিভাবে শুরু হলো? রাজবাড়ির এত আউলিয়া, দরবেশ কখন, কেন এসেছেন? এ সব কিছুর মূল জানার জন্যই এ ইতিহাস রচনায় আমি গভীর গবেষণায় মনোনিবেশ করি। বলা যায়, সেই বাল্যকাল থেকেই এবং গত ১০ বৎসর যাবত নিরলস পরিশ্রমের ফলেই আমার আজকের রাজবাড়ির ইতিহাস রচনার সামান্য প্রয়াস মাত্র। আমি প্রথমেই পুস্তকটির নামকরণ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। ‘রাজবাড়ি জেলার ইতিহাস ও ঐতিহ্য’ এ ইতিহাস গ্রন্থে আধুনিক বানান রীতি অনুসরণ করে ‘রাজবাড়ীকে’ ‘রাজবাড়ি’ লেখেছি। এ সম্বন্ধে বলতে হয় ইতিহাসের ঘটনার তেমন পরিবর্তন লক্ষ্য করা না গেলেও যে ভাষায় ইতিহাস রচিত হয় সে ভাষার পরিবর্তন লক্ষ্যনীয়। অনেক পূর্বেই পাখী, বাড়ী বানান রীতির পরিবর্তন হয়েছে।

Additional information