লেখকের কথা - লেককের কথা-৩

তা সত্বেও রাজবাড়ী একটি স্থানের নাম সেই হিসাবে রাজবাড়ী লেখা যেত। কিন্তু ইদানিং কালে রাজবাড়ীকে রাজবাড়ি লেখার প্রচলন সর্বত্র শুরু হয়েছে আর এর ব্যাপক প্রচলন লক্ষ্য করা যাচ্ছে গণমাধ্যম গুলিতে। বিশেষ করে রাজবাড়ির বহুল প্রচলিত দুটি পত্রিকা সহজ কথা ও অনুসন্ধান এ ব্যাপারে অগ্রাণী ভুমিকা পালন করছে। ইতিহাস ত্রিকালস্পর্শী। ইতিহাস অতীত আর বর্তমানের উপাদানে ভবিষ্যতের ইঙ্গিতবহ নির্মাণ। তাই নির্মাণ কৌশলের দ্বারা ভবিষ্যৎকে অর্থবহ করা ঐতিহাসিকের দায়িত্ব। অতীতের আলোতে বর্তমানে লেখা এবং ভবিষ্যৎ নির্মিতব্য ভেবে আমি রাজবাড়ীকে রাজবাড়ি লিখলাম। রাজবাড়ি না লিখেও রাজবাড়ী লেখা যেত কিন্তু তাতে কিছুটা দায়বদ্ধতা থেকে যেত দিন বদলানো প্রজন্মের কাছে। পরিবর্তনকে মেনে নিতে হয় আর পরিবর্তন স্থায়িত্ব পায় তার শক্ত শেকড়কে আশ্রয় করে। ‘রাজবাড়ীকে’ ‘রাজবাড়ি’ লেখাতে কারও ক্ষতি হবার সম্ভাবনা নেই। কিন্তু সকল স্তরে আমাদের মানসিকতার পরিচয় দেবার সুযোগ থাকে।

১৯৮৪ সালে ১৯টি বড় জেলাকে ভেঙ্গে তৎকালীন মহকুমা গুলি জেলায় রুপান্তর হলেও হালে বর্তমান জেলা গুলিকে পূর্বের জেলার নামে পরিচয় দেবার প্রবনতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। যে কারনে রাজবাড়ি, মাদারীপুর, শরিয়তপুর, গোপালগঞ্জ, ফরিদপুরকে নিয়ে বৃহত্তর ফরিদপুর বোঝানোর চেষ্টা করা হয়। এই প্রবনতা ঠিক নয়। ফতেহবাদ অঞ্চল ভেঙ্গে ফরিদপুর হলেও তা ফতেহবাদ নয় তা ফরিদপুর নামে পরিচিত। আবার ঢাকা জালালপুর ভেঙ্গে ফরিদপুর হলেও তা জালালপুর নয় ফরিদপুর। তাই ফরিদপুর ভেঙ্গে যখন রাজবাড়ি জেলা হলো তখন তাকে বৃহত্তর ফরিদপুর বলার প্রয়োজন আছে কি? রাজবাড়ি, মাদারীপুর, শরিয়তপুর, গোপালগঞ্জের পরিচয় দিতে বৃহত্তর ফরিদপুর বলার প্রয়োজন নেই। রাজবাড়ি অনেক ঐতিহ্যে দিপ্যমান। যদি কোন ভাবেই রাজবাড়িকে অন্য কোথায়ও পরিচয় দেয়া না যায় তাহলে তাকে পদ্মা, গোয়ালন্দের নামে পরিচয় দেওয়া যায়। এদ্বাঞ্চলে উন্নয়নের কোন পরিকল্পনায় রাজবাড়িকে বৃহত্তর ফরিদপুর বলে চিহ্নিত করারও প্রয়োজন নেই। কারণ স্থানীয় ভিত্তিতে (MICRO) উন্নয়নের আলোকে জাতীয় (MICRO) উন্নয়ন সংগঠিত হয়। সেক্ষেত্রে বৃহত্তর ফরিদপুর না বলে রাজবাড়ি, মাদারীপুর, শরিয়তপুর, ফরিদপুর জেলার পরিচয়ে উন্নয়ন পরিকল্পনা করার ক্ষতি নেই, বরং অর্থনীতির সামষ্টিক ভিত্তিকে শক্ত করবে।

আমার এই ইতিহাস রচনার ক্ষেত্রে যার নাম সর্বাগ্রে কৃতজ্ঞতার সাথে স্মরণ করতে হয়, তিনি আমার শ্রদ্ধেয় শিক্ষক রাজবাড়ি সরকারি কলেজের প্রাক্তন অধ্যক্ষ প্রফেসর ডঃ ফকীর আব্দুর রশীদ। তিনি এবং বোয়ালমারি সরকারি কলেজের প্রাক্তন অধ্যক্ষ প্রফেসর শংকর চন্দ্র সিনহা আমাকে জেলার ইতিহাস রচনায় উদ্বুদ্ধ করেন। যার সাথে আমি আমার লেখালেখি ও ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে প্রায়শ আলোচনা করি এবং ভ্রাতিৃসুলভ আচরণে যিনি সমস্যা সমাধানে আমাকে উপদেশ দেন তিনি পাংশা কলেজের অধ্যাক্ষ বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধা এ,টি,এম রফিক উদ্দিন।

Additional information