লেখকের কথা - লেখকের কথা-৪

পুস্তকটি প্রকাশের পূর্বে তার সাথে আলাপ করলে তিনি বলেন, ‘করেন’ একটা কিছু হোক’। তার এমন উৎসাহ দেয়ার জন্য আমি কৃতজ্ঞ। আমার স্নেহের ছাত্র জেলার বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধা নাসিম আমাকে তার নিকট সংগৃহীত দুর্লভ পুস্তক তৎকালীন রেলওয়ে ম্যানেজার এল,এন, মিশ্রের ‘বঙ্গে রেল ভ্রমন’ পুস্তকটি দিয়েছিলেন। এল,এন মিশ্র তার পুস্তকটিতে বিভিন্ন ষ্টেশন এবং খ্যাতনামা স্থান সমূহের ঐতিহাসিক বণনা দিয়েছেন। পুস্তকটি আমার লেখার বিশেষ উপাদান হিসেবে কাজ করেছে। তা ছাড়া নাসিম অনেক তথ্য সংগ্রহ করে দিয়েছেন। আমি এই ছাত্রটির প্রতি চিরকৃতজ্ঞ। কমল বাবুর নিকট ছিল সেকালের আর,এস,কে ইনষ্টিটিউট এর প্রধান শিক্ষক ত্রৈলোক্যনাথ ভট্রাচার্য লিখিত ‘আমার জীবনী’ নামক গ্রন্থ। উক্ত গ্রন্থ থেকে আমি অনেক ইতিহাস সমৃদ্ধ তথ্য পেয়েছি (বইটির প্রকাশ ১৯২৪ কলিকাতা থেকে)। আ.ন.ম সোবহান রচিত ফরিদপুরের ইতিহাস পুস্তকটি থেকে সমৃদ্ধ তথ্য  পেয়েছি। ডঃ কে, এম মোহসিন সম্পাদিত ‘আমানত আলী মল্লিক স্মারক গ্রন্থ’ রাজবাড়ি জেলার ইতিহাস সমৃদ্ধ। প্রথিতযশা এ ঐতিহাসিকের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করছি। আব্দুস সাত্তার রচিত ‘ ফরিদপুরের ইসলাম’ তালেব আলী রচিত ‘ফরিদপুরের গুণীজন’ সমৃদ্ধ ইতিহাস পুস্তক। এ সব লেখদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই। রাজবাড়ি জেলার বিশিষ্ট সাহিত্যিক মীর মশাররফ হোসেন রচিত ‘আমার জীবনী’ ও ‘গৌরী সেতুতে’ এলাকার অনেক তথ্য রয়েছে। উনবিংশ শতাব্দীর মাঝামাঝি থেকে বিংশ শতাব্দীর প্রারম্ভ পর্যন্ত তার নিজের দেখা সকল অভিজ্ঞতার অনেক তথ্য সংগ্রহ করেছি। এমন সাহিত্য সাধকের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। জেমস টেলরের টপগ্রাফি অব ঢাকা একটা প্রামাণ্য পুস্তক। এ থেকে অত্র এলাকার অনেক ঐতিহাসিক তথ্য সংগ্রহ করেছি। আমি জেলার তথ্য সংগ্রহে কয়েক হাজার মানুষের সঙ্গে কথা বলেছি। যাদের নিকট ইতিহাসের তথ্য সংগ্রহে গিয়েছি তারা প্রায় সবাই ঘন্টার পর ঘন্টা আমার প্রশ্নের বাইরে নিজের এবং অপ্রাসঙ্গিক ইতিহাসের গল্প বলেছে। ধৈর্য ধরে শুনেছি এবং ভেবেছি মানুষ তার নিজের অজান্তে কত ইতিহাস প্রিয়। আমি প্রাচীন ইতিহাসের উপাদান সংগ্রহ করতে চেষ্টা করেছি ডঃ নীহার রঞ্জনের বাঙালীর ইতিহাস আদিপর্ব থেকে। পুস্তকটি ভাষায় উপাদানে অতি সমৃদ্ধ। তিনি বাংলার সকল এলাকাকেই স্পর্শ করেছেন। এমন ঐতিহাসিকের নাম চির অম্লান। মুক্তিযুদ্ধকালে আমি রাজবাড়ি কলেজের অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষক। মুক্তিযুদ্ধের সাথে সরাসরি সংশ্লিষ্ট না হলেও যুদ্ধের পূর্ব এবং যুদ্ধকালীন অনেক ঘটনাই আমার নিজের দেখা। মুক্তিযুদ্ধে রাজবাড়ি পর্বটি লেখায় আমার নিজের অভিজ্ঞতা উপাদান সমৃদ্ধ করেছে বলে মনে করি। ইদানিং রাজবাড়ি থেকে যে সমস্ত পত্রিকা বের হচ্ছে, কিন্তু তা সংরক্ষিত হচ্ছে না। আমি ঐ সমস্ত পত্রিকা থেকে তথ্য সংগ্রহ করেছি এবং বলা যায় সব বিচ্ছিন্ন তথ্যকে সংরক্ষণের উদ্দেশ্যে এ পুস্তক রচনায় আমার দ্বিতীয় প্রয়াস। রাজবাড়ির সকল গ্রাম সমষ্টিকে আমার ইতিহাসের পাতায় সংরক্ষণ করেছি। আমার এ কাজটি অতি জটিল বিষয় হলেও বেনবেইসের সাহায্য নিয়েছি। আমি জেলার কয়েকজন বিশিষ্ট ব্যক্তির সামাজিক কর্মকান্ডের পরিচয় দিয়েছি। তাদের তথ্যে ভুলত্রুটি থাকলে ক্ষমা প্রার্থনা করছি। এ ছাড়া আরো অনেকের সম্বন্ধে সময় ও তথ্যের অভাবে লেখা সম্ভব হলো না।

Additional information